বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড রোডপাড়াস্থ সাংবাদিক কাইছার হামিদ এর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। আরকান সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমান ডাকাতি করা আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্যরা এই ঘটনা ঘটায়। আজ শনিবার রাতের ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ডাকাতির ঘটনা সংঘটিত হয়।
সাংবাদিক কাইছার হামিদ লোহাগাড়া উপজেলার দৈনিক সমকাল পত্রিকার প্রতিনিধি ও লোহাগাড়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক। তিনি জানান, বাড়িতে তার বৃদ্ধ বাবা-মা ছিল৷ ডাকাতরা নগদ ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা, দেড় ভরি স্বর্ণালংকার ও ১টি স্মার্ট ফোন নিয়ে যায়।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, রাত সাড়ে ৩টা থেকে ৪টা ১৩ মিনিট পর্যন্ত আমি আজিজনগর পুলিশ ক্যাম্পের আইসিকে ১৫ বার কল দিয়েছি। তিনি কল রিসিভ করেননি। পরে রাত ৪টা ১৫ মিনিটে জাতীয় সেবা সংস্থা ৯৯৯ কল দিলে তারা লামা থানার মাধ্যমে আজিজনগর আইসি'র সাথে কথা বলিয়ে দেয়। আজিজনগর পুলিশ সকাল সাড়ে ৭টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। আজিজনগর ক্যাম্প থেকে আমার বাড়ি ১ কিলোমিটার দূরত্বও হবেনা। এমন পুলিশি সেবায় আমরা হতবাক ! ঘটনার পর আজিজনগর পুলিশ ফাঁড়ির বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “ডাকাতির সময় আজিজনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আমিনুর রহিমকে ১০ থেকে ১৫ বার ফোন করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে ৯৯৯-এ কল দেওয়ার ১৫-২০ মিনিট পর তিনি কলব্যাক করেন। তখনও দ্রুত ঘটনাস্থলে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু পুলিশ আসে সকাল ৭টার দিকে। কার্যত তাদের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পাইনি।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কসংলগ্ন লামার আজিজনগর ইউনিয়নের রোডপাড়া এবং পার্শ্ববর্তী চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় গত ১০ দিনে অন্তত পাঁচটি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব ঘটনায় লামা কিংবা চকরিয়া থানা পুলিশের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ তাদের।
এ বিষয়ে লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল বলেন, “ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ফাঁড়ি পুলিশের অসহযোগিতার অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ফাঁড়ির ইনচার্জকে এ নিয়ে ইতোমধ্যে বকাঝকা করা হয়েছে।”
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর