জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে আবারও ভাঙনের আভাস দেখা দিয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পর এবার বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনও জোট ত্যাগের কথা জানিয়েছে। দলটির নেতারা বলছেন, রাজনৈতিক আদর্শগত মতপার্থক্য, আসন সমঝোতায় ব্যর্থতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে অবমূল্যায়নের কারণে তারা জোট থেকে সরে এসেছে।
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী বলেন, এটি মূলত একটি নির্বাচনি সমঝোতা ছিল। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সমঝোতা না হওয়ায় তারা আলাদাভাবে নির্বাচন করে এবং তখন থেকেই কার্যত জোটের বাইরে রয়েছে। নির্বাচনের পর থেকে দলটি ১১ দলের কোনো বৈঠক বা কর্মসূচিতেও অংশ নেয়নি বলে তিনি জানান।
দলটির অভিযোগ, জোট গঠনের পর থেকেই জামায়াতে ইসলামী একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে। বিভিন্ন কর্মসূচি ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে শরিকদের মতামতকে গুরুত্ব না দিয়ে জামায়াত নিজেদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছে।
খেলাফত আন্দোলনের নেতারা আরও অভিযোগ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তারা প্রায় ১০টি আসনে ছাড় চাইলেও জামায়াত একটি আসনেও সমর্থন দেয়নি। এতে দুই দলের মধ্যে দূরত্ব আরও বেড়ে যায়।
দলের মহাসচিব ইউসুফ সাদিক হক্কানী বলেন, নির্বাচনি সমঝোতা বাস্তবায়ন না হওয়ায় জোটের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। আগামী ১০ তারিখে মজলিসে আমেলার বৈঠকে জোটে থাকা না থাকার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ইসলামপন্থী দলগুলোর মধ্যে বৃহত্তর ঐক্যের উদ্যোগ শুরু হয়। সেই প্রেক্ষাপটে কয়েকটি দলকে নিয়ে ‘আন্দোলনরত আট দল’ নামে যাত্রা শুরু হলেও পরে আসন সমঝোতা ও রাজনৈতিক সমীকরণের ভিত্তিতে এটি ১১ দলীয় জোটে রূপ নেয়।
‘ওয়ান বক্স পলিসি’ বা একক প্রার্থী দেওয়ার কৌশলকে সামনে রেখে গঠিত এই জোটের লক্ষ্য ছিল নির্বাচনে শক্ত অবস্থান তৈরি করা। তবে শুরু থেকেই আসন বণ্টন নিয়ে শরিকদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। বিশেষ করে জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে আসন ভাগাভাগি নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে জোটের অভ্যন্তরীণ সংকটকে আরও প্রকট করে তোলে।
এই আসন সমঝোতা নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক এবং দর-কষাকষি চূড়ান্ত রূপ না পাওয়ায় শেষ মুহূর্তে চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেয়। একই সময়ে এতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশ লেবার পার্টিসহ অন্যান্য দল যুক্ত হয়।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর