চাকরির পেছনে ছুটে মূল্যবান সময় নষ্ট না করে তরুণ-তরুণীদের আত্মকর্মী ও উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ঝিনাইদহের সফল নারী উদ্যোক্তা মারিয়া তাবাসসুম তুলি। বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের সংকটকালীন সময়ে শুরু করা তাঁর অনলাইন কেক ব্যবসা 'TastyPastry' (টেস্টি পেস্ট্রি) এখন পুরো ঝিনাইদহ জেলায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ঘরোয়া পরিবেশের খাঁটি ও সুস্বাদু কেক তৈরি করে তিনি এখন জেলার একজন অন্যতম সফল হোম-মেড কেক প্রস্তুতকারক। মারিয়া তাবাসসুম তুলি পেশায় ঝিনাইদহের একটি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা এবং দুই সন্তানের জননী। তাঁর বাবার বাড়ি ঝিনাইদহ শহরের আরাপপুরে এবং শ্বশুরবাড়ি শহরের ব্যাপারীপাড়াতে। সংসার ও শিক্ষকতা পেশা সামলে তিনি সফলভাবে পরিচালনা করছেন তাঁর এই অনলাইন ব্যবসা।
প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে করোনা মহামারির সময়ে যখন দেশজুড়ে লকডাউন ও স্থবিরতা নেমে আসে, বহু মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েন, ঠিক তখন ঘরে বসে না থেকে ভিন্ন কিছু করার পরিকল্পনা করেন তুলি। পড়াশোনা ও বিবাহিত সংসার জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও তিনি অনলাইনের বিভিন্ন উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্মে নিজের তৈরি কেক প্রদর্শন শুরু করেন। প্রথম দিকে একজন নারী হিসেবে কেক বানিয়ে অনলাইনের মাধ্যমে অর্ডার নেওয়া এবং তা বিভিন্ন স্থানে ডেলিভারি দেওয়া তাঁর জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। তবে স্বামী মোঃ মনিরুজ্জামান মাসুমের অকুণ্ঠ অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতায় সেই কঠিন পথ পাড়ি দেওয়া সহজ হয়। পরবর্তীতে তাঁর বাবা, মা এবং ভাইও এগিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।
নিজের ফেসবুক পেজ 'TastyPastry'-এর মাধ্যমে ক্রেতাদের কাছে শতভাগ মানসম্মত ও আকর্ষণীয় কেক পৌঁছে দিয়ে অল্প সময়েই বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করেন তুলি। তাঁর তৈরি কেকের তালিকায় রয়েছে— হোম-মেড স্পেশাল কেক, পেস্ট্রি কেক, জার কেক, ভ্যানিলা, চকলেট, হোয়াইট ফরেস্ট, ব্ল্যাক ফরেস্ট, লেমন, অরেঞ্জ, ম্যাঙ্গো, রেড ভেলভেট, স্ট্রবেরি, কাপ কেক এবং ক্রেতাদের পছন্দ অনুযায়ী কাস্টমাইজড কেক। সঠিক সময়ে ও রুচিশীল উপায়ে পণ্য ডেলিভারি দেওয়ার কারণে ঝিনাইদহ জেলাজুড়ে তাঁর কেকের চাহিদা এখন তুঙ্গে।
মারিয়া তাবাসসুম তুলি বলেন: "আমি চাই যে সকল তরুণ-তরুণী বা শিক্ষিত বেকাররা শুধু চাকরির পেছনে ছুটে সময় নষ্ট করছেন, তাঁরা তা না করে ছোট পরিসরে হলেও উদ্যোক্তা হোক। অল্প কিছু আইটেম নিয়ে ব্যবসা শুরু করলেও দ্রুত স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব।"
তুলি শুধু নিজেই স্বাবলম্বী হননি, বরং সমাজের বেকারত্ব দূরীকরণেও অবদান রাখছেন। তিনি ইতিমধ্যে ঝিনাইদহ জেলার ১৫ জন নারীকে সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে হোম-মেড কেক তৈরির ওপর প্রফেশনাল প্রশিক্ষণ দিয়েছেন, যাতে তাঁরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন এবং পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে সহযোগিতা করতে পারেন।
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে যদি সরকারি কোনো পৃষ্ঠপোষকতা বা সাহায্য-সহযোগিতা পাওয়া যায়, তবে আরও বড় পরিসরে ঝিনাইদহের বেকার যুবসমাজ ও নারীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবেন, যা জেলার অর্থনৈতিক চিত্র বদলে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ঝিনাইদহের এই লড়াকু ও সফল নারী শিক্ষিকার উদ্যোগ এখন স্থানীয় অনেক নারীর জন্যই অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর