বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার একটি বিকল্প জাতীয় বাজেট বা ছায়া বাজেট প্রস্তাব করেছে। প্রস্তাবিত বাজেটে জনপ্রশাসন, ঋণের সুদ পরিশোধ এবং শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই বাজেট প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম খান মিলন।
প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, জনপ্রশাসন খাতে সর্বোচ্চ ২ লাখ ২ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মোট বাজেটের ২৪ দশমিক ০৯ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে। এ খাতে প্রস্তাবিত বরাদ্দ ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৭৫ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ১৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ।
বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মোট বাজেটের ১৫ দশমিক ১৯ শতাংশ।
এছাড়া পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে ৬৫ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা (৭.৭৮ শতাংশ), কৃষি খাতে ৫১ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা (৬.১৫ শতাংশ) এবং সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ খাতে ৪৮ হাজার ১৫০ কোটি টাকা (৫.৭৪ শতাংশ) বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে স্বাস্থ্য খাতে ৪৫ হাজার ২৪০ কোটি টাকা এবং স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে ৪৫ হাজার ২২০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে। উভয় খাতেই মোট বাজেটের ৫ দশমিক ৩৯ শতাংশ করে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিরক্ষা খাতে ৪৩ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা (৫.১৮ শতাংশ), আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা খাতে ৩৪ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা (৪.১০ শতাংশ) এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ২৪ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা (২.৯৭ শতাংশ) বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
জামায়াতের দাবি, এই বাজেট দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর