সাবেক সংসদ সদস্য ও জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমকে জুলাই আন্দোলন ঘিরে দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর মিরপুর এলাকায় মোক্তার হোসেনকে গুলিবিদ্ধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মমতাজকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজিজুল হক।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করে, সাবেক এই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং আন্দোলন চলাকালে তিনি তৎকালীন সরকারের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। তদন্তে তার সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে বলেও আদালতকে জানানো হয়।
অন্যদিকে, মমতাজের আইনজীবীরা গ্রেপ্তার দেখানোর বিরোধিতা করে বলেন, মামলার ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই। তারা দাবি করেন, একই দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এছাড়া তিনি ইতোমধ্যে বিভিন্ন মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিনও পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন আইনজীবীরা।
উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত মমতাজকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন এবং তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে আদালত থেকে বের করে নেওয়ার সময় এক ব্যতিক্রমী ঘটনার জন্ম দেন মমতাজ। হাতকড়া, হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিহিত অবস্থায় তাকে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে নামানোর সময় উপস্থিত কয়েকজন কৌতূহলী ব্যক্তি জানতে চান, ‘কে উনি?’ জবাবে মমতাজ নিজেই তার জনপ্রিয় গান ‘বুকটা ফাইট্টা যায়’ গেয়ে ওঠেন। পরে উপস্থিত আরও কয়েকজনকে গানটির অংশ গাইতে দেখা যায়। ঘটনাটি মুহূর্তেই আদালত প্রাঙ্গণে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মিরপুরের সুইমিংপুল ও ফায়ার সার্ভিস সড়ক এলাকায় সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হন মোক্তার হোসেন। চিকিৎসা শেষে তিনি হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
উল্লেখ্য, মমতাজ বেগম ২০০৮ সালে সংরক্ষিত নারী আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-২ আসন থেকে জয়ী হন তিনি। তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে পরাজিত হওয়ার পর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাকে কম দেখা যায়। গত বছরের ১২ মে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই রয়েছেন।
রোহান/সা.এ.
সর্বশেষ খবর