দেশে বিভিন্ন স্থানে একের পর এক ভিভোর স্মার্টফোন বিস্ফোরণের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। চলতি জুন মাসে গাজীপুর-সাভার-কুষ্টিয়ায় ভিভোসহ ৩টি স্মার্টফোন বিস্ফোরণের ঘটনা সামনে এসেছে। এ ঘটনায় একজন মারা গেছেন। এবং কয়েকজন আহত হয়েছে।
ধারাবাহিক এই ভিভো মোবাইল বিস্ফোরণের ঘটনায় স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
কুষ্টিয়া: গত ২৪ জুন কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আমিরুল ইসলামের পকেটে থাকা VIVO Y12 মডেলের মোবাইল ফোন বিস্ফোরিত হয়।
আমিরুল জানান, সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার সময় হঠাৎ পকেটে থাকা ফোনটি বিস্ফোরিত হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
গাজীপুর: গত ২১ জুন গাজীপুরের টঙ্গীর একটি আবাসিক এলাকায় VIVO Y20 মডেলের একটি স্মার্টফোন বিস্ফোরিত হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের এক সদস্য জানান, অসুস্থ অবস্থায় ঘরের মেঝেতে শুয়ে ছিলেন আমার শাশুড়ি। হঠাৎ অনুভব করেন তার ব্যবহৃত ফোনটি অস্বাভাবিক গরম হয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি পরিবারের অন্য সদস্যদের জানালে তারা ফোনটি হাতে নেন।
তিনি আরও জানান, VIVO Y20 ফোনটি হাতে নেয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটি থেকে অনেক ধোঁয়া বের হতে শুরু করে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে দ্রুত ফোনটি বারান্দায় ফেলে দেয়া হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই ফোনটি বিস্ফোরিত হয়।
পরিবারের দাবি, ফোনটি যদি ঘরের ভেতরে বা বিছানায় থাকত, তাহলে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কা ছিল।
সাভার: গত ১৪ জুন সাভারের আশুলিয়ায় মোবাইল ফোন বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মিজানুর রহমান (৪৪)। তিনি ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার লাঙলমোড়া গ্রামের বাসিন্দা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার রাতে বিকট শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে যান। তখন ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে রুমের তালা ভেঙে তাকে উদ্ধার করা হয়। মোবাইল বিস্ফোরণের ফলে তার শরীরে আগুন ধরে যায় এবং ঘরের কিছু আসবাবপত্রও পুড়ে যায়।
এক প্রতিবেশী জানান, স্মার্টফোন ব্যান্ড ভিভোর (VIVO) সাব-ব্র্যান্ড আইকিউ (iQOO) মডেলের একটি স্মার্টফোন ব্যবহার করতেন মিজানুর রহমান। ভয়াবহ এই ঘটনার পর তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং চার্জারটি সম্পূর্ণ পোড়া অবস্থায় পাওয়া যায়।
ভিভো মোবাইল বিস্ফোরণের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কোন ব্যাখ্যা প্রদান করেনি।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর সর্বশেষ খবর