টানা ভারী বর্ষণে খাগড়াছড়ি জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। গত রবিবার থেকে জেলাজুড়ে থেমে থেমে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যার তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে এবং দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করে আহ্বান জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, জেলা সদরের গঞ্জপাড়া ও মুসলিম পাড়াসহ বেশ কয়েকটি এলাকার নিম্নাঞ্চল ইতিমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ও কবাখালী ইউনিয়নের কয়েকটি নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি বাড়ায় খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা-লংগদু সড়কের মেরুং হেডকোয়ার্টার এলাকায় সড়কের একটি অংশ প্লাবিত হয়েছে।
স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, রাতে বৃষ্টিপাত এভাবে অব্যাহত থাকলে জেলা সদরের অন্তত ১০টি গ্রাম নতুন করে প্লাবিত হতে পারে। সেই সঙ্গে দীঘিনালার ১৫টি, পানছড়ির ৭টি এবং মানিকছড়ির কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হলে রাঙামাটির লংগদু উপজেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ যেকোনো সময় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে।
অব্যাহত বর্ষণের কারণে জেলার প্রধান দুই নদী চেংগী ও মাইনিসহ বিভিন্ন ছড়া ও খালের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছ। খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা-লংগদু সড়ক প্লাবিত হওয়ায় যান চলাচল ঝুঁকির মুখে রয়েছে। বৃষ্টির কারণে পাহাড়ঘেঁষা বসতিগুলোতে পাহাড়ধসের আশঙ্কা চরম আকার ধারণ করেছে।
দুর্যোগপূর্ণ এই পরিস্থিতি নিয়ে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, 'বন্যা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলোতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে। সবাইকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।'
দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী ও প্রশাসনকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর