ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার অচিন্তপুর ইউনিয়নে সুরিয়া নদীর ওপর নির্মাণাধীন একটি গার্ডার সেতুর সংযোগ সড়কে মাটির পরিবর্তে বালু ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার কয়েক দিনের মধ্যেই সেই আশঙ্কাই সত্যি হয়েছে। টানা বর্ষণে বালু দিয়ে ভরাট করা সংযোগ সড়কের একাংশ ধসে পড়ায় সেতুটি বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
স্থানীয়রা জানান, নির্মাণকাজ চলাকালে সংযোগ সড়কে মাটির পরিবর্তে পাশের আবাদি জমি থেকে উত্তোলন করা বালু দিয়ে ভরাট করা হয়েছিল। তখনই তারা বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। কিন্তু অভিযোগের পরও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে কয়েক দিনের টানা বর্ষণে সড়কের বালু ধুয়ে গিয়ে বড় অংশে ভাঙন দেখা দেয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কের উল্লেখযোগ্য অংশ ধসে গিয়ে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে সেতু ব্যবহার করে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। স্থানীয়রা শুধু হেঁটে চলাচল করছেন।
স্থানীয় কৃষক রিপন মিয়া বলেন, "আমরা ৪ বছর যাবৎ এই সেতুর লাইগা দুর্ভোগ পোহাইতাছি। ঠিকাদার ৩ বছর ঘুরাইয়া ঘুরাইয়া অর্ধেক কাজ কইরা রাইখা দিছিল। এলাকার কৃষকেরা ফসল নিয়া বাজারে যাইতে পারতাছে না, রিকশা-ভ্যান কিচ্ছু চড়ে না এই রাস্তায়। এলাকায় মহিলা মাদ্রাসা ও হাইস্কুলের পোলাপানের যাতায়াতও বন্ধ হয়া গেছে।"
শাহগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থী মিন্নাতুল হাসান আরিফ বলেন, "নতুন ব্রিজ হইছে এক মাসও হয় নাই, এর মধ্যেই ভাইঙ্গা গেছে। আমরা সাইকেল বা অটো নিয়ে যেতে পারি না। অটো অন্য দিক দিয়ে ঘুরে যায়। আমাদের অনেক দূর হেঁটে গিয়ে গাড়ি ধরতে হয়, যার কারণে আমরা সময়মতো স্কুলে পৌঁছাতে পারি না।"
স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা মিরাজ খাঁ বলেন, "ঠিকাদার নিজের ইচ্ছামতো বালুমাটি দিয়া ভরাট করছে। আমরা বলছিলাম মাটি দিয়া বাইন্ধা পাইলা সাইড দিতে, কিন্তু উনি আমাদের কথা শুনে নাই। সরকারের দেওয়া জনগণের ট্যাক্সের টাকার এমন অপচয় আমরা মানতে পারছি না। আমরা চাই প্রশাসন এই বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিক।"
এছাড়াও স্থানীয় বাসিন্দা আসাদ্দুজ্জামানসহ অন্যান্যরা ঠিকাদারের এমন কাজের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত স্থায়ী সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। ভুক্তভোগী এলাকাবাসী বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
এর আগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সাইফুল ইসলাম দাবি করেছিলেন, স্থানীয়ভাবে যে মাটি পাওয়া যাচ্ছে সেটিই ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান জানিয়েছিলেন, সংযোগ সড়কে বালু ভরাট করার কোনো সুযোগ নেই। নিয়ম অনুযায়ী মাটি দিয়ে ভরাট করতে হবে এবং দুই পাশে গাইড ওয়াল নির্মাণ করতে হবে।
এ বিষয়ে বর্তমান পরিস্থিতি জানতে চাইলে ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, "সেতুটি তো ভাঙেনি, শুধু সংযোগ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্ষা শেষ হলে এটি মেরামত করে দেওয়া হবে। এখন বর্ষার মধ্যে কাজ করা সম্ভব নয়।"
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ আলাল উদ্দীনের কাছে এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "এ বিষয়ে এখন বক্তব্য দিতে পারবো না। প্রকৌশলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ওয়ার্ক অর্ডার (Work Order) বাতিল করার জন্য আমি চিঠি দিয়ে দিবো।"
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফিয়া আমীন পাপ্পা বলেন, "সরেজমিনে পরিদর্শনের জন্য পিআইও সাহেবকে পাঠানো হবে। পরিদর্শন প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
উল্লেখ্য, প্রায় ৯৭ লাখ ৩৮ হাজার ৫৩০ টাকা ব্যয়ে ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের গার্ডার সেতুটি নির্মাণের কাজ বাস্তবায়ন করছে মেসার্স বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ।
রোহান/সা.এ.
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর