যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তার দাবি, তেহরান এখনো কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নয়।
শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে আলোচনা চলছে। আগের তুলনায় ইরান আলোচনা নিয়ে বেশি আন্তরিকতা দেখাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে শিগগিরই কোনো সমঝোতা হবে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলছি। তারা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করছে। কিন্তু আমার মনে হয় না, তারা এখনো চুক্তির জন্য প্রস্তুত। দেখা যাক কী ঘটে।”
এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেন, যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তির জন্য ইরান প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। তবে তেহরান এখনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব মেনে নেওয়া কিংবা কোনো চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত নয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। অন্যদিকে ইরানি কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের এসব বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, ওয়াশিংটনের অযৌক্তিক ও নিয়ন্ত্রণমূলক শর্তের কারণেই সমঝোতা সম্ভব হচ্ছে না।
চলতি মাসের শুরুতেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রাখার বিষয়ে কথা হয়েছিল। গত ১০ জুলাই ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরানের অনুরোধে নতুন করে আলোচনায় সম্মত হয়েছে ওয়াশিংটন। তবে একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন, এর আগে হওয়া অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়ে গেছে।
কূটনৈতিক যোগাযোগ চললেও দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা কমেনি। ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা, ড্রোন সংরক্ষণাগার, নৌ সক্ষমতা ও কমান্ড সেন্টার লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ধারাবাহিক বিমান হামলা চালাচ্ছে। এর পাল্টা জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করেছে।
সম্প্রতি ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আরও বড় ধরনের সামরিক হামলার হুমকিও দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তেহরান সমঝোতায় না এলে যুক্তরাষ্ট্র এমন হামলা চালাতে পারে, যা আগের সব অভিযানের তুলনায় বড় হবে। এর আগে তিনি ইরানের সামনে দুটি পথ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছিলেন—চুক্তিতে পৌঁছানো অথবা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান মোকাবিলা করা।
দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের প্রধান বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা, মধ্যপ্রাচ্যের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি তেহরানের সমর্থন এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম ও আঞ্চলিক সামরিক তৎপরতার ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ চায়। অন্যদিকে ইরান মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা বন্ধ, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে।
চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ, তেলের দাম এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপরও এর প্রভাব পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনা যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা তৈরি করলেও দুই পক্ষের বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে দ্রুত কোনো চুক্তি হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর