রাজধানীর কাফরুলে যুবদলকর্মী মো. ইউসুফকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় চারজন শুটারসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের মিরপুর বিভাগ ও কাফরুল থানা পুলিশ। তদন্তে ডিবির দাবি, কাফরুল থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে ‘সিএনজি হাফিজ’-এর পরিকল্পনায় এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। তার প্রতিপক্ষ কাফরুল থানা যুবদলের সদস্য সচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে ২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে পেশাদার শুটার ভাড়া করা হয়েছিল। তবে লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিতে নিহত হন যুবদলকর্মী ইউসুফ।
সোমবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবি প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—নাহিদ হাসান, শাফিন আহমেদ, জিয়ারুল মোল্লা, আলী হোসেন, জিহাদ মোল্লা, মাসুম বিল্লাহ, আবির হাওলাদার এবং চঞ্চল (ঘটনার দিন অস্ত্রসহ আটক)।
ডিবি প্রধান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ময়লার টেন্ডার, ফুটপাত নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরে হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার পরিকল্পনা করেন সিএনজি হাফিজ। এ জন্য ২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে শুটার ভাড়া করা হয় এবং অগ্রিম ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়।
তিনি জানান, হত্যার মিশনে মোট ১১ জন অংশ নেয়। তাদের মধ্যে চারজন ছিলেন সরাসরি শুটার। ঘটনার পর মূল পরিকল্পনাকারী সিএনজি হাফিজ পলাতক রয়েছেন।
ডিবির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে কাফরুলের ওপেক্স গার্মেন্টসের দক্ষিণ পাশের লিংক রোড এলাকায় অস্ত্রধারীদের গুলিতে যুবদলকর্মী মো. ইউসুফ, সবজি বিক্রেতা নালাম সরদার ও মনির হোসেন গুলিবিদ্ধ হন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক ইউসুফকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার সময় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় জনতা অস্ত্রসহ চঞ্চল নামে এক শুটারকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
ডিবি জানায়, ঘটনার পর নিহত ইউসুফের বড় ভাই কাফরুল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর যৌথ অভিযানে মিরপুর, মাগুরা, শরীয়তপুর ও যশোরের বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানিয়েছেন, গত ২৯ জুন ঢাকায় এসে তারা সিএনজি হাফিজের সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রথম দফায় অস্ত্রে গুলি ভরার সময় একটি পিস্তল থেকে আকস্মিক গুলি বের হয়ে যাওয়ায় (মিসফায়ার) হত্যার পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়। পরে ২২ জুলাই তারা আবার ঢাকায় এসে নতুন করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নেয়।
তদন্তে আরও জানা গেছে, ঘটনার দিন রাত ১১টার দিকে হাফিজুল ইসলাম বাবু তার কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে অবস্থান করছিলেন। এ সময় সন্দেহজনক কয়েকজনের পরিচয় জানতে চাইলে এবং তাদের তল্লাশির চেষ্টা করলে অভিযুক্তদের একজন পিস্তল বের করে গুলি চালায়। এতে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে যুবদলকর্মী মো. ইউসুফ বুকে গুলিবিদ্ধ হন এবং ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
ডিবি জানিয়েছে, পলাতক মূল পরিকল্পনাকারী সিএনজি হাফিজকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর