বর্ষা এলেই প্রাণ ফিরে পায় দেশের অন্যতম বৃহৎ জলাভূমি চলনবিল। বিস্তীর্ণ জলরাশি আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিনই পর্যটকেরা ছুটে আসেন নাটোরের সিংড়া পয়েন্টে। তবে ভ্রমণের আনন্দ অনেকের কাছেই ম্লান হয়ে যাচ্ছে নৌকা ভাড়াকে কেন্দ্র করে।
পর্যটকদের অভিযোগ, কিছু নৌকা মালিক সিন্ডিকেট করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন। নির্ধারিত ভাড়া তালিকা না থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই পর্যটকদের জিম্মি করে দ্বিগুণ পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়রা বলছেন, সপ্তাহের অন্যান্য দিন পর্যটকের সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকলেও শুক্রবার ও শনিবার ছুটির দিনে সিংড়া পয়েন্টে ভিড় বেড়ে যায়। তখনই কিছু অসাধু নৌকা মালিক সুযোগ নিয়ে পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করেন। দরদামে আপত্তি জানালে অনেককে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।
বগুড়া থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক জিল্লুর রহমান বলেন, চলনবিলে নৌকা ভ্রমণের কোনো নির্ধারিত ভাড়া তালিকা নেই। এ সুযোগে কিছু নৌকা মালিক ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করছেন। এতে আমাদের মতো পর্যটকেরা প্রতারিত হচ্ছেন। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে চলনবিলের পর্যটন খাতের সুনাম ক্ষুণ্ন হবে।
জয়পুরহাট থেকে আসা পর্যটক রাহুল রায় বলেন, সিংড়া পয়েন্ট ঘাট থেকে বিভিন্ন গন্তব্যের দূরত্ব অনুযায়ী প্রশাসনের নির্ধারিত ভাড়া তালিকা প্রকাশ করে ঘাটে টাঙিয়ে দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো প্রয়োজন।
স্থানীয় যুবক সাকিব বলেন, অন্যদিন যে ভাড়া পয়েন্ট ঘাট থেকে গুরুদাসপুরের গুন্দোইর, বিলসা গ্যাস সিলিন্ডার, চেয়ার, সাউন্ড সিস্টেম সহকারে ৬ হাজার থেকে সর্বচ্চ সাড়ে ৬ হাজার টাকা শুক্রবার ও শনিবার এলেই বেড়ে যায় দ্বিগুণ প্রায় ১০ হাজার থেকে লোক বুঝে ১৩ হাজার টাকা পর্যন্ত নেয়। স্বচ্ছ ভাড়া ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে পর্যটকদের আস্থা বাড়বে। এতে চলনবিলে পর্যটনের সম্ভাবনাও আরও বিকশিত হবে।
এবিষয়ে সিংড়া পয়েন্ট ঘাটের নৌকা মালিকদের বক্তব্য নিতে চাইলে তারা বক্তব্য দিতে রাজি না হয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন, নৌকা ভাড়া নিয়ে অভিযোগের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। খুব শিগগিরই সরেজমিনে পরিদর্শন করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, চলনবিলের সিংড়া পয়েন্ট ঘাটে দূরত্বভিত্তিক সরকারি ভাড়া তালিকা দৃশ্যমানভাবে টাঙিয়ে দেওয়া, নিয়মিত প্রশাসনিক তদারকি এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া গেলে পর্যটক হয়রানি কমবে। এতে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় এই জলাভূমিতে পর্যটকদের আগ্রহও আরও বাড়বে।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর