প্রবাসীর বউ টাকা-পয়সা ও গহনা হাতিয়ে নিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর উল্টো হয়রানি ও হুমকির মুখে পড়েছে প্রবাসীর নিঃসহায় পরিবার। প্রতারণা, অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার আত্মসাৎ এবং অবর্ণনীয় মানসিকভাবে হেনস্থার বিচার পেতে অবশেষে প্রশাসনের দরজায় কড়া নেড়েছেন প্রবাসীর অশ্রুসজল মা মোছাঃ সাহিদা বিবি।
পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে নিজের সুখ-আহ্লাদ বিসর্জন দিয়ে সাড়ে তিন বছর আগে প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন বগুড়ার কাহালু উপজেলার শান্তা গ্রামের তরুণ রজ্জু মিয়া। মালয়েশিয়ার দূর পরবাসে ঘাম ঝরানো উপার্জনের প্রতিটি টাকা তিনি পরম বিশ্বাসে তুলে দিয়েছিলেন মুঠোফোনে বিয়ে করা স্ত্রী খাদিজা আক্তারের হাতে। কিন্তু প্রবাসীর সেই বিশ্বাস ও স্বপ্ন আজ এক ঘোর প্রতারণায় রূপ নিয়েছে।
সোমবার (৩ আগষ্ট) সকালে শেরপুর থানায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে প্রবাসীর মা সাহিদা বিবি। লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে মুঠোফোনের মাধ্যমে শেরপুর উপজেলার কুসুম্বি ইউনিয়নের বাগড়া হঠাৎপাড়া গ্রামের খাদিজা আক্তারের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন রজ্জু। বিয়ের পর খাদিজা আক্তার মাঝে-মধ্যে স্বামীর বাড়িতে যাতায়াত করলেও অভিযুক্ত অন্য ব্যক্তিদের চক্রান্ত বদলে যেতে থাকেন। তিনি বিভিন্ন অজুহাতে প্রবাসে থাকা স্বামী রজ্জুর কাছ থেকে দফায় দফায় প্রায় ১০ লাখ টাকা, মূল্যবান স্বর্ণালঙ্কার ও একটি দামি মোবাইল ফোন গ্রহণ করেন। কিন্তু স্বার্থ হাসিল হতেই বদলে যায় দৃশ্যপট।
গত প্রায় এক বছর ধরে খাদিজা আক্তার শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ একপ্রকার বন্ধ করে দেয়।পরবর্তীকালে প্রবাসীর পরিবার খাদিজার কাছে রক্ষিত টাকা ও মালামাল ফেরত চাইলে অভিযুক্ত চক্রটি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং বিভিন্ন সময় ভুক্তভোগী পরিবারকে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করতে থাকে। দুর্ভোগের এখানেই শেষ নয়; গত ২৮ জুলাই অভিযুক্তদের কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে সাথে নিয়ে প্রবাসীর বাড়িতে উপস্থিত হয়। তারা খাদিজা আক্তারকে সেখানে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। এমন অভিযোগ তুলে বৃদ্ধা শাশুড়িসহ পুরো পরিবারকে নানাভাবে হয়রানি করে। ঘাম ঝরানো কষ্টার্জিত সম্বল হারিয়ে একদিকে নিঃস্ব হওয়ার যন্ত্রণা, অন্যদিকে প্রতিপক্ষের ক্রমাগত হুমকি ও মিথ্যা মামলার ভয়ে এখন চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন প্রবাসীর মা। আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে পরামর্শ করে ন্যায়বিচারের আশায় আইনের আশ্রয় নিয়েছেন তিনি।
ঘটনাটি সরেজমিনে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানা কর্তৃপক্ষের প্রতি বিনীত আবেদন জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী এ বিষয় শেরপুর থানা অফিসার ইনচার্জ এসএম মঈনুদ্দীন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর