• ঢাকা
  • ঢাকা, বুধবার, ০৫ আগস্ট, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ২৮ সেকেন্ড পূর্বে
নিউজ ডেস্ক
বিডি২৪লাইভ, ঢাকা
প্রকাশিত : ০৫ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৪ দুপুর

দুই বছর পর ইসরায়েলি হামলার ধ্বংসস্তূপ থেকে মিলল ৪০ শিশুসহ ১১২ মরদেহ

ছবি: সংগৃহীত

গাজা সিটিতে ২০২৩ সালের শেষ দিকে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত ১১২ ফিলিস্তিনির গণজানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। দীর্ঘ প্রায় দুই সপ্তাহের উদ্ধার অভিযানের পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো একই বর্ধিত পরিবারের সদস্যদের। তারা আবু শারিয়া ও হাসাইনা পরিবারের অন্তর্ভুক্ত, যাদের স্থানীয়ভাবে একটি বড় গোত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নিহতদের মধ্যে ৪৪ জন শিশু, ৩৮ জন নারী এবং সাতজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ছিলেন।

গণজানাজার আগে মরদেহগুলো সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়। প্রতিটি মরদেহ ফিলিস্তিনি পতাকায় আচ্ছাদিত ছিল এবং কয়েকটির ওপর নিহতদের ছবি রাখা হয়েছিল। পরে স্বজনরা কান্নাজড়িত পরিবেশে মরদেহ কাঁধে তুলে নিয়ে দাফনের জন্য নিয়ে যান। স্থানীয়দের দাবি, এটি গাজা যুদ্ধ শুরুর পর সবচেয়ে বড় গণজানাজাগুলোর একটি।

শোকাহত আলী আবু শারিয়া বলেন, "এটি এমন এক অনুভূতি, যা আমাদের অনেক আগেই পাওয়ার কথা ছিল—বেদনা, শোক আর হারানোর অনুভূতি। অন্তত এখন আমরা তাদের মরদেহ উদ্ধার করে দাফন করতে পেরেছি। এতে কিছুটা হলেও স্বস্তি মিলেছে, যদিও এই শোক কখনো কাটবে না।"

নিহতরা ২০২৩ সালের ২২ নভেম্বর গাজা সিটির সাবরা (Sabra) এলাকার একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারান। হামলার দিনটিতে পুরো এলাকায় ব্যাপক বোমাবর্ষণ চলছিল। ওই সময় হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলার প্রায় ছয় সপ্তাহ পার হয়েছিল। হামাসের ওই হামলায় ইসরায়েলে প্রায় ১,২০০ জন নিহত এবং ২৫১ জন জিম্মি হন।

ঘটনাস্থলে ঠিক কী লক্ষ্যবস্তু ছিল, সে বিষয়ে জানতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)-এর কাছে জানতে চাইলেও প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

গাজায় মরদেহ উদ্ধারের কাজ পরিচালনা করেছে হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সিভিল ডিফেন্স। তাদের এ কাজে সহায়তা করেছে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি)।

আইসিআরসির মুখপাত্র প্যাট্রিক গ্রিফিথস বলেন, "আমরা উদ্ধারকর্মীদের গ্লাভস, কোদাল, সুরক্ষা সরঞ্জাম ও মরদেহ বহনের ব্যাগসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করেছি। এছাড়া নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে মরদেহ উদ্ধারের প্রশিক্ষণ এবং শত শত ঘণ্টার জন্য গাজার অল্প কয়েকটি কার্যকর খননযন্ত্রের দুটি ভাড়ার ব্যবস্থাও করেছি।"

তিনি আরও বলেন, "কোনো পরিবারই তাদের প্রিয়জনের মৃত্যুর খবর শুনতে চায় না। কিন্তু সত্যটি জানা এবং মরদেহ দাফন করতে পারা তাদের শোক প্রকাশ ও মানসিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"

গত মাসে বিবিসি উদ্ধার অভিযানের শুরুর দৃশ্য ধারণ করে। প্রথমে একটি বুলডোজার দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরানো হয়, এরপর হাতে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে উদ্ধারকাজ চালানো হয়।

সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানান, "বহুতল এই ভবনটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। ভবনের ভেতরে ১৮০ জনেরও বেশি বেসামরিক মানুষ ছিলেন বলে ধারণা করা হয়, যাদের প্রায় ৯০ শতাংশই নিহত হন। হামলার দিন নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে এবং সমন্বয়ের অভাবে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি।"

উদ্ধার অভিযানে নিহতদের স্বজনরাও অংশ নেন এবং সম্ভাব্য অবস্থান দেখিয়ে উদ্ধারকর্মীদের সহায়তা করেন।

নিহতদের একজন স্বজন নাহেদ আল-হাসাইনা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে পরিবারের বসার ঘরের স্থান দেখিয়ে বলেন, "এটি এমন এক বেদনার অনুভূতি, যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। এই শিশুদের অপরাধ কী ছিল?" তিনি নিহত দুই শিশুর একটি স্কুলব্যাগ ও একটি জুতা দেখিয়ে প্রশ্ন করেন, "ওমরের এই স্কুলব্যাগ আর ইব্রাহিমের এই জুতার কী দোষ ছিল? কেন তাদের হত্যা করা হলো?"

আরেক স্বজন ইউসুফ আবু শারিয়া বলেন, "আমি আমার পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য। আমি আমার মা, বাবা, চাচা, চাচাতো ভাইবোন সবাইকে এই ধ্বংসস্তূপের নিচে হারিয়েছি।"

ধারণা করা হচ্ছে, একই স্থানে এখনও আরও কয়েক ডজন মরদেহ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে রয়েছে। পুরো গাজা উপত্যকাজুড়ে হাজার হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ। ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচেই তাদের অনেকের মরদেহ চাপা পড়ে আছে।

হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় অন্তত ৭৩ হাজার ৩৭৭ জন নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘও জানিয়েছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হতাহতের পরিসংখ্যানকে তারা সাধারণভাবে নির্ভরযোগ্য বলে মনে করে।

রোহান/সা.এ.

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:


BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]