রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার মৌরাট ইউনিয়নের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের সদস্য সচিব মো: সাদ্দাম লস্কর কে নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে,স্থানীয়রা তার বিষয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছে। সাদ্দাম লস্কর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
জানাগেছে মৌরাট ইউনিয়নের মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া কাজিয়াল গাঙে কয়েকটি খন্ডে বিভক্ত হয়ে মাছ চাষ করে আসছে বেশ কয়েকজন লিজ নিয়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ প্রথম কোঠাটি মৌরাট ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব সাদ্দাম লস্কর চাষ করেন, প্রথম কোঠার মাথায় একটি সুইচগেট রয়েছে সুইচ গেট দিয়ে পর্যাপ্ত পানি বের না হওয়ায় স্থানীয়রা ধান চাষের লক্ষ্যে সুইচগেটের একটি কপাট খুলে দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের উপর অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ ৫ লক্ষ টাকা চাঁদাদাবি সহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
পাংশা উপজেলা তরুন দলের সভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রয়েল আহমেদ সবুজ অভিযোগ করে বলেন সাদ্দাম লস্কর দলের নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদাবাজি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মাদক কারবার সহ বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে যে কারণে জাতীয়তাবাদী আদর্শের সুনাম নষ্ট হচ্ছে, আমরা যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ কে অনুরোধ করবো অবিলম্বে সাদ্দাম লস্করকে দল থেকে বহিষ্কার করা হোক।
মৌরাট ইউনিয়নের টেলিগাতি গ্রামের সবুর হোসেন বলেন- আমরা ধান চাষ করার লক্ষ্যে মাঠের পানি বের করার জন্য এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সুইচগেটে গিয়ে পানি বের করার জন্য একটি কপাট খুলে দিই এ কারণে তাৎক্ষণিক সাদ্দাম লস্কর চার-পাঁচজনকে সাথে নিয়ে এসে আমার বাড়িতে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে অবৈধ অস্ত্র প্রর্দশন করে
সন্ধ্যার মধ্যে পাঁচ লক্ষ টাকা চাঁদা তাকে দিয়ে আসতে হবে বলে হুমকি দেয় এ ঘটনার পর থেকে আমিও আমার পরিবার শঙ্কিত।
তেলিগাতি গ্রামের মোঃ খায়রুল ইসলাম বলেন আমাদের এলাকার ৪ টা মৌজার মাঠের পানি আটকে থাকায় আমিও গিয়েছিলাম স্লুইচ গেটের কপাট খুলতে পরবর্তীতে স্বৈরাচারের মতো আচরণ করা হয় আমাদের সাথে, অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের হুমকি দেয়া হয়েছে, সাদ্দাম লস্কর নিজে একজন মাদক সেবী আমার মতে তার মত লোক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এর আদর্শের দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বিএনপির অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের পদে থাকলে দলের বদনাম ছাড়া ভালো হবে না, অবিলম্বে সাদ্দাম লস্কর কে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানাচ্ছি।
মালঞ্চ গ্রামের ভ্যান চালক ইউনুস হোসপন বলেন কয়েক দিন আগে সন্ধ্যায় মালঞ্চ ব্রিজের উপর থেকে আমাকে ধরে নিয়ে ব্যাপক ভাবে মারধর করে সাদ্দাম ও তারসহযোগীরা, আমার সাথে থাকা একটি মোবাইল ফোন ও ভ্যান চালানো সারাদিনের অর্জিত তিনশ টাকা তারা কেড়ে নেয় আমার থেকে। পরবর্তীতে আমি আমার মা কে নিয়ে সাদ্দাম লস্করের কাছে গেলে মোবাইল ফেরত পেতে ছয় হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়, আমরা তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আজও আমি আমার মোবাইল ফোনটি ফেরত পাইনি।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন সরকারি জমি দখল করে তা বিক্রি করে দিয়েছে মৌরাট ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব সাদ্দাম লস্কর।
তারা জানান পার্শ্ববর্তী টুটুল কুন্ডুর নিকট থেকে ১৪ শতাংশ জমি বাইনা সূত্রে ক্রয় করে পাশে থাকা ১৬ শতাংশ সরকারি ভিপি জমি দখল করে প্রথমে মাটি বিক্রি করে পরে পুরো জমির মাটি বিক্রি শেষে পুরো জমি পুকুর বানিয়ে বেনু মাধব নামে এক ব্যক্তির কাছে তা বিক্রি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ব্যাপারে টুটুল কুমার কুন্ডু বলেন আমি আমার কাগজে থাকা ১৪ শতাংশ জমি সাদ্দাম লস্করের কাছে বিক্রি করেছি বাকি ১৬ শতাংশ ভিপি জমি কি হয়েছে তা আমার জানা নাই, তবে শুনেছি পরবর্তীতে ওই জমি বিক্রি করে দিয়েছে।
এ ছাড়াও সাদ্দাম লস্করের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করেছেন তারই দলের বিভিন্ন পর্যায়ের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপি নেতা বলেন সাদ্দাম লস্করের কর্মকান্ডে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে, তিনি সিনিয়রদের সাথে অসাধ আচরন দলীয় কর্মীদের নানাভাবে হয়রানি এবং নিরীহ মানুষদের বিভিন্ন ভাবে অত্যাচারের সাথে জড়িত। আমরা দলীয় ফোরামে বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার আলোচনা করেছি আমরা এ বিষয়ে দলের হাইকমান্ডকে লিখিতভাবে জানাবো।
এ ব্যাপারে মৌরাট ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মো: সাদ্দাম লস্কর বলেন আমার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন আমি মাছ চাষ করি, সেখানে কয়েকজন ব্যক্তি আমাকে না জানিয়ে সুইচগেটের কপাট খুলে আমার মাছ বের করে দিয়েছিল আমি তাদের গিয়ে বলেছি কপাট লাগিয়ে দিতে তারা তা লাগিয়ে দিয়েছে, ক্ষতিপূরণের কথা বলেছি চাঁদা চাইনি, তিনি বলেন এখন যারা আমার বিরুদ্ধে কথা বলছে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনে তাদের কি ভূমিকা ছিল বিষয়টা সকলেই জানেন।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর