নেত্রকোনা সদর উপজেলার মৌগাতি ইউনিয়নের নগুয়া গ্রামে নিখোঁজের সাত দিন পর নাজু আক্তার (৩৪) নামে এক নারীর মাটিচাপা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের সাবেক স্বামী নুরুল আমীনকে (৪০) আটক করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে নুরুল আমীন নাজু আক্তারকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার ঢুকিয়ালী নদের পাড়ে বাড়ির পাশের মাঠে মাটির নিচে পুঁতে রাখা অবস্থায় নাজু আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে নেত্রকোনা মডেল থানা পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর নাজু আক্তার নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় তার ভাই শুভ ২২ সেপ্টেম্বর নেত্রকোনা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে নিখোঁজের বিষয়টি তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ নাজু আক্তারের সাবেক স্বামী নুরুল আমীনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মরদেহটি পুঁতে রাখার স্থান শনাক্ত করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে নুরুল আমীন জানান, নাজু আক্তারকে ভরণপোষণের ৬ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলে ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে নেত্রকোনা শহরের তেরিবাজার মোড় থেকে রিকশায় রাজুরবাজার এলাকায় নিয়ে যান তিনি। পরে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলে করে মৌগাতী ইউনিয়নের খাটপোড়া ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় যান তারা।
পুলিশ জানায়, রাত সাড়ে ১০টার দিকে টাকা দেওয়া নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে নুরুল আমীন নাজু আক্তারের বুকে আঘাত করলে তিনি মাটিতে পড়ে যান বলে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দাবি করেছেন। পরে পাশের একটি শ্মশানঘাটে নিয়ে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়।
পুলিশের দাবি, নাজু আক্তারের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর নুরুল আমীন মরদেহ কাঁধে করে বাড়ির পাশের ঢুকিয়ালী নদের পাড়ে নিয়ে যান। পরে কোদাল দিয়ে গর্ত করে সেখানে মরদেহ পুঁতে রাখেন। নিহত নাজু আক্তার সদর উপজেলার কাটলী এলাকার মো. ইসলাম উদ্দিনের মেয়ে। আটক নুরুল আমীনের বাড়ি একই উপজেলার নগুয়া কুশলগাঁও এলাকায়। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৪ বছর আগে তাদের বিয়ে হয় এবং তাদের দুই সন্তান রয়েছে। পারিবারিক বিরোধের জেরে একাধিকবার তাদের বিচ্ছেদ হলেও পরে আবার তারা একসঙ্গে বসবাস করতেন। হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন আগে তাদের পুনরায় বিবাহবিচ্ছেদ হয়।
নাজু আক্তারের করা ভরণপোষণ ও ধর্ষণের একটি মামলা তদন্তাধীন ছিল। ওই ঘটনার ক্ষোভ থেকেই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে নুরুল আমীন পুলিশকে জানিয়েছেন। নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নুরুল আমীন হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
ওসি আরও জানান, নুরুল আমীন বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। উদ্ধার করা মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
রোহান/সা.এ.
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর