সোনালী আঁশখ্যাত পাটের বাজারে সুদিন ফিরেছে। নড়াইল জেলার তিন উপজেলার বিভিন্ন বাজারগুলোতে এখন জমজমাট পাট কেনাবেচা। মৌসুমের শুরুতে তুলনামূলক কম দাম থাকলেও বর্তমানে ভালো মানের পাট প্রতি মণ ৪ হাজার ৩০০ থেকে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ তুলে লাভের মুখ দেখার আশায় কৃষকদের মুখে ফুটেছে হাসি।
নড়াইলের সর্ববৃহৎ পাটের পাইকারি মোকামগুলোর একটি লোহাগড়া উপজেলার নলদী ইউনিয়নের মিঠাপুর হাট। সপ্তাহে দুই দিন বরিবার ও বুধবার এ মিঠাপুরের হাট বসে। বুধবার মিঠাপুর হাটে মানভেদে প্রতি মণ পাট ৪ হাজার ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সামনে দাম আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাটের বাড়তি দাম পেরে তাদের মুখে হাসি ফুটেছে।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কিছু দিন আগেও মিঠাপুর হাটে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৪০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অল্প সময়ের ব্যবধানে দাম বেড়ে যাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে চাষিদের মধ্যে।
জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর নড়াইলে মোট ২৩ হাজার ৫১৭ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। বিপরীতে ৫৮ হাজার ১৯৮ টন পাট উৎপাদানের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নড়াইল জেলার বড় পাটের মোকামগুলোর মধ্যে সদর উপজেলার তুলারামপুর, মাইজপাড়া ও রূপগঞ্জ বাজার, লোহাগড়া উপজেলার লাহুড়িয়া বাজার, লোহাগড়া বাজার, মিঠাপুর বাজার ও দিঘলিয়া বাজার, কালিয়া উপজেলার কালিয়া, বড়দিয়া ও নড়াগাতি বাজার উল্লেখযোগ্য।
সরেজমিন আজ বুধবার নড়াইলের মিঠাপুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, নতুন পাটে সয়লাব মিঠাপুর পাইকারি পাটের হাট। দায়দেনাসহ জরুরি নানা প্রয়োজনে চাষিরা তাদের উৎপাদিত পাট বেচতে হাটে নিয়ে আসেন। ভোর থেকেই ক্রেতা বিক্রেতার ব্যাপক সমাগমে হাট কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিভিন্ন বাহনে চাষিদের পাট হাটে উঠতে না উঠতেই ফঁড়িয়া ব্যাপারীরা ঘিরে ধরেন বিক্রেতাদের, পাটের মান পরখ করে দাম হাঁকছেন, দরদামে পটলেই দেখতে দেখতে মণকে মণ পাট হাত বদল হয়ে যাচ্ছে ব্যবসায়ীর গুদামে। মান ভেদে প্রতি মণ ৪ হাজার ৩০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হয়। হাটে পাট বেচাকেনা শুধু মিঠাপুর হাটে নয়, জেলার মাইজপাড়া তুলারামপুরসহ অন্যান্য পাইকারি মোকামেও বর্তমানে পাটের বেচাকেনা জমে উঠেছে।
পাটচাষিরা জানান, ‘বাজারে ভালো মানের পাটের বরাবরই চাহিদা থাকে। অন্যান্য বছর অনাবৃষ্টির কারণে পানি শূন্য থাকে খাল বিল ডোবা। পাট পঁচানো নিয়ে চরম বিপাকে পড়তে হয়। পানির সংকটে বাধ্য হয়ে নোংরা পানিতে পাট পঁচাতে হয়। এতে পাটের আঁশ কালো হয়ে মান হারায়। পক্ষান্তরে এবার ব্যাপক বৃষ্টিপাতের ফলে নদী-নালা, খাল-বিলে স্বচ্ছ পানি ছিল। পাট পঁচাতে অসুবিধা হয়নি। পাটের রঙও ভালো। মান ভালো হওয়ায় ব্যাপক চাহিদার পাশাপাশি বেড়েছে দামও। তবে অতিবৃষ্টির কারণে কোথাও কোথাও পাটের ফলন ব্যাহত হয়েছে। তবে পাটের দাম বাজারে বেশি হওয়ায় সে ক্ষতি পুষিয়ে যাচ্ছে তাদের।’
এদিকে পাটের ওজন নিয়েও অভিযোগ তুলেছেন কৃষকেরা। তাদের দাবি, প্রচলিত হিসাবে এক মণ ৪০ কেজি হলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৪২ কেজিতে এক মণ পাট হিসাব করা হচ্ছে। এতে প্রতি মণে কৃষককে অতিরিক্ত প্রায় দুই কেজি পাট দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। কৃষকদের ভাষ্য, বাজারদর ভালো থাকলেও ওজনে বাড়তি পাট দিতে হলে প্রকৃত বিক্রয়মূল্য কমে যায়। এতে পাটের ভালো দাম পাওয়ার পরও প্রত্যাশিত লাভ থেকে কিছুটা বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।#
রোহান/সা.এ.
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর