গাজীপুর মহানগরের মাস্টারবাড়ি থেকে রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান এলাকার মহাসড়কের দুই পাশে ঝোপঝাড় ও আগাছা পরিষ্কার করা হয়েছে। সড়কে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ প্রতিরোধ এবং যানবাহন চলাচলকারীদের নিরাপত্তা বাড়ানোর লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে কাউলতিয়া ফাঁড়ি পুলিশের উদ্যোগে এবং বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে দিনব্যাপী এ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
মাস্টারবাড়ি থেকে রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত মহাসড়কের দুই পাশে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে বেড়ে ওঠা ঝোপঝাড়, আগাছা ও বিভিন্ন ধরনের গাছপালার কারণে সড়কের অনেক অংশ আড়াল হয়ে ছিল।
এতে রাতে চলাচলকারী যানবাহন ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের দুই পাশে ঘন ঝোপঝাড় থাকায় কিছু কিছু স্থানে অন্ধকার ও আড়াল তৈরি হয়। ফলে অপরাধীরা সুযোগ নিতে পারে—এমন আশঙ্কা ছিল এলাকাবাসীর মধ্যে।
বিশেষ করে রাতের বেলা দূরপাল্লার যানবাহন, পণ্যবাহী গাড়ি ও মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দেয়।
এ পরিস্থিতিতে মহাসড়কের পাশে থাকা ঝোপঝাড় ও আগাছা কেটে সড়কের আশপাশের দৃশ্যমানতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
কাউলতিয়া ফাঁড়ির ইনচার্জ সুমন খান জানান: ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান একটি গুরুত্বপূর্ণ এরিয়া দৈনিক লক্ষাদিক যানবাহন চলাচল করে, মহাসড়কে দুই পাশে ঝোপ ঝড়ের কারণে দুষ্কৃতিকারীর লুকিয়ে থেকে এ পথে চলাচলকারী যানবাহনের উপর, রড,দা,চাকা,বিভিন্ন কিছু ফেলে সর্বস্ব লুটে নেয়।
তিনি আরো জানান, শীতকালে ডাকাতের প্রবণতা বেড়ে যায়, তাই সিনিয়র অফিসারদের পরামর্শে স্থানীয় লোকদের স্বেচ্ছাশ্রমে এ পরিষ্কার কার্যক্রম চলছে। মহাসড়কে দুই পাশে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকলে কোন প্রকার দুষ্কৃতিকারী অবস্থান নিতে পারবে না ফলে ধীরে ধীরে ডাকাতি রোধ করা সম্ভব হবে।
দিনব্যাপী এ কার্যক্রমে কাউলতিয়া ফাঁড়ি পুলিশের সদস্যদের পাশাপাশি বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। তারা মহাসড়কের দুই পাশে থাকা ঝোপঝাড় ও আগাছা পরিষ্কার করেন এবং সড়কের আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন করার কাজ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুধু ঝোপঝাড় পরিষ্কার করলেই অপরাধ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি মহাসড়কে নিয়মিত পুলিশি টহল, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ করে রাতের সময় গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে পুলিশের টহল জোরদার করা হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ আরও বাড়বে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সড়কের দুই পাশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি নিয়মিত পরিচর্যা করা জরুরি। একবার পরিষ্কার করার পর আবার যাতে ঘন ঝোপঝাড় তৈরি না হয়, সেদিকেও নজর দিতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা ও সড়কে চলাচলকারী সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। মাস্টারবাড়ি থেকে রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত ব্যস্ত এই মহাসড়কটি গাজীপুরের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথগুলোর একটি।
প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ও যানবাহন এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে। তাই সড়কটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আজকের এই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের মাধ্যমে সড়কের দৃশ্যমানতা বাড়ার পাশাপাশি মহাসড়কে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এবং রাতে চলাচলকারী সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর