যুক্তরাজ্যভিত্তিক উচ্চশিক্ষাবিষয়ক সাময়িকী টাইমস হায়ার এডুকেশন (টিএইচই)-এর বৈশ্বিক বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিংয়ে আগের বছরের তুলনায় পিছিয়েছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি)। নতুন প্রকাশিত র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির বৈশ্বিক অবস্থান ১৪০১–১৬০০ ব্যান্ডে রয়েছে। এর আগে নোবিপ্রবি ১২০১–১৫০০ ব্যান্ডে ছিল।
নতুন র্যাঙ্কিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয় তালিকায় স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে সামগ্রিক অবস্থানে নোবিপ্রবি যৌথভাবে ১৭তম–২১তম অবস্থানে রয়েছে। আগের তালিকায় বাংলাদেশের ২৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে নোবিপ্রবির অবস্থান ছিল ১২তম। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে নোবিপ্রবি যৌথভাবে ত্রয়োদশ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) টিএইচই-এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকা থেকে এ তথ্য জানা গেছে। শিক্ষার মান, শিক্ষার্থী-শিক্ষকের অনুপাত, গবেষণার মান, সাইটেশন ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীসহ কয়েকটি সূচকের ওপর ভিত্তি করে বিশ্বের ১১৮টি দেশের ২ হাজার ২৯৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এই মূল্যায়ন করা হয়েছে।
র্যাঙ্কিং অনুযায়ী, ৮০১ থেকে ১০০০ অবস্থানে আছে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি। ১০০১ থেকে ১২০০ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
এছাড়া ১২০১ থেকে ১৪০০ অবস্থানে রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। ১৪০১ থেকে ১৬০০ অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। ১৮০১ থেকে ২০০০ অবস্থানে রয়েছে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি এবং মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি। এছাড়া ১০টি বিশ্ববিদ্যালয় ‘রিপোর্টার’ হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে।
র্যাঙ্কিংয়ে পেছানোর কারণ সম্পর্কে নোবিপ্রবি উপ-উপাচার্য ড. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘২০২৪ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত সময়ের তথ্যের ভিত্তিতে এই র্যাঙ্কিং প্রকাশ করা হয়েছে। সে সময়ে দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না থাকায় গবেষণা কার্যক্রম কিছুটা স্থবির ছিল। বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে সবকিছু স্বাভাবিক করতে কিছুটা সময় লেগেছে। আশা করি, পরবর্তী ধাপে নোবিপ্রবি ভালো করবে।’
উল্লেখ্য, শিক্ষার মান, গবেষণা পরিবেশ, গবেষণা শ্রেষ্ঠত্ব, ইন্ডাস্ট্রি সংযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক সম্ভাবনা—এই পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সূচকের ওপর ভিত্তি করে টাইমস হায়ার এডুকেশন বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র্যাঙ্কিং প্রকাশ করে থাকে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
ক্যাম্পাস এর সর্বশেষ খবর