নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসটিই) বিভাগের গ্র্যাজুয়েটরা সরকারি চাকরিতে আবেদনের ক্ষেত্রে বিষয় কোড নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতায় পড়ছেন।
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) বিভিন্ন নিয়োগে সিএসটিই ডিগ্রির সমমান ও বিষয় কোড নিয়ে অস্পষ্টতার কারণে কম্পিউটার সায়েন্স-সংশ্লিষ্ট পদের জন্য আবেদন করতে গিয়ে তাঁদের আইসিটি বিষয়ের কোড ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী গ্র্যাজুয়েটরা।
সিএসটিই বিভাগের গ্র্যাজুয়েটদের তথ্যমতে, বিপিএসসি থেকে এ বিভাগের জন্য নির্ধারিত বিষয় কোড ৩৬৩। তবে সরকারি বিভিন্ন পদের অনলাইন আবেদনে বিষয় নির্বাচনের তালিকায় এই কোডটি পাওয়া যায় না। ফলে প্রার্থীদের অন্য বিষয় নির্বাচন করে কোডটি আলাদাভাবে উল্লেখ করতে হয়। এতে কোড-সংশ্লিষ্ট কিছু পদে আবেদনের সুযোগ থেকে তাঁরা বঞ্চিত হচ্ছেন। এছাড়া নিয়োগের বিভিন্ন ধাপ পেরিয়েও বিষয়ভিত্তিক পদে প্রার্থিতা নিয়ে জটিলতায় পড়তে হচ্ছে তাঁদের।
ভুক্তভোগী কয়েকজন গ্র্যাজুয়েট জানান, কম্পিউটার সায়েন্স-সংশ্লিষ্ট পদের জন্য আবেদন করতে গেলে তাঁদের সিএসটিই ডিগ্রির সমমানের বিষয়টি আলাদাভাবে প্রমাণ করতে হয়। এ জন্য বিভিন্ন কাগজপত্র ও সনদ নিয়ে বিপিএসসিতে যোগাযোগ করতে হয়, যা তাঁদের জন্য বাড়তি ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একজন ভুক্তভোগী বলেন, বিসিএসের প্রফেশনাল ও টেকনিক্যাল লিখিত পরীক্ষাতেও বিষয় কোড নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ৩৬৩ কোডের সঙ্গে সিএসইয়ের সমমানের ডিগ্রি হিসেবে কম্পিউটার সায়েন্সের ৯৭১ কোড নির্ধারণ হওয়া উচিত, কিন্তু তাঁদের আইসিটির ২৮১ কোড দেওয়া হচ্ছে।
সিএসটিই বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানান, চার বছর মেয়াদি বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামে তাঁদের ১৬৬ ক্রেডিট সম্পন্ন করতে হয়। এই কারিকুলামে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মূল কোর্সগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল ও রিজেন্ট বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিভাগটিকে সিএসইয়ের সমমান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এই জটিলতা নিরসনে চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি নোবিপ্রবির রেজিস্ট্রার বরাবর চিঠি দেয় সিএসটিই অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি সমাধানের অনুরোধ জানানো হয়। এ বিষয়ে সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করছেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এ. আর. এম. মাহমুদুল হাসান রানা। তিনি জানান, প্রশাসনের বিভিন্ন পরিবর্তনের কারণে প্রক্রিয়াটি বিলম্বিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থে অ্যালামনাই ও প্রতিনিধিরা ব্যক্তিগতভাবেও সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিভাগ থেকেও পৃথকভাবে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিএসটিই বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নাহিদ আক্তার। তিনি বলেন, বিভাগের কারিকুলাম ও পাঠ্য বিষয়গুলোর বিস্তারিত তুলে ধরে বিপিএসসিকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছিল, তবে এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি জানা নেই।
গত ২৪ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিপিএসসিকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়। এ বিষয়ে নোবিপ্রবির রেজিস্ট্রার তামজিদ হোসাইন চৌধুরী বলেন, আবেদন পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রাব্বানী জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন। সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে তিনি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
বিপিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (নন-ক্যাডার) মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে কমিশন কাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সঙ্গে যাচাই-বাছাই করে গ্র্যাজুয়েটদের পাঠ্যক্রম অনুযায়ী উপযুক্ত সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া বিপিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) মাসুমা আফরীন জানান, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাপ্ত কাগজপত্র বিশ্লেষণ করে কমিশন পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
ক্যাম্পাস এর সর্বশেষ খবর