কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে নৃত্যানুষ্ঠানে ভাড়া করে এনে এক তরুণীকে পাঁচ দিন আটকে রেখে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় পাঁচ ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার রাতে সদর ইউনিয়নের নলেয়া গ্রামের রশিদ মোড় থেকে ভুক্তভোগী ওই তরুণীকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মোখলেছুর রহমান মিঠু নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, উপজেলার চর ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের সামাদের ঘাটে কাশফুলের বাগানে নাচ-গানের আসর বসেছিল। দুর্গম চরাঞ্চল হওয়ায় পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে সেখানে মাদক, জুয়া ও অশ্লীল নাচের আয়োজন করা হতো। গত ২৫ সেপ্টেম্বর সেখানে তিন তরুণীকে ভাড়ায় আনা হয়। খবর পেয়ে গত ২৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে সেই আস্তানা গুঁড়িয়ে দেয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ভাড়ায় আনা তিন তরুণীর মধ্যে দুজন চলে গেলেও ভুক্তভোগী এক তরুণীকে (২৬) পাঁচ দিন আটকে রেখে মোখলেছুর রহমান মিঠু, নাইনুল ইসলাম, লিটন মিয়া, আল আমিন ও ফুল মিয়া ওরফে ফুলবর পালাক্রমে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেন। এ সময় তার কাছে থাকা পাঁচ হাজার ৬০০ টাকা ও একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, বাড়ি ফেরার মতো টাকা না থাকায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অভিযুক্তদের কাছে টাকা চাইতে নলেয়া রশিদ মোড়ে যান ভুক্তভোগী তরুণী। টাকা না দেওয়ায় বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ তরুণীকে উদ্ধার করে। তরুণীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোখলেছুর রহমান মিঠুকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ভুক্তভোগী তরুণী ঘটনার সঙ্গে জড়িত পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন—ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের নলেয়া গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে মোখলেছুর রহমান মিঠু ও লিটন মিয়া, মৃত নুর জামাল কসাইয়ের ছেলে নাইনুল ইসলাম, মৃত ইউনুস আলীর ছেলে আল আমিন এবং দক্ষিণ তিলাই খোঁচাবাড়ি গ্রামের আজাহার আলীর ছেলে ফুল মিয়া ওরফে ফুলবর।
ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন ও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর