ফুলবাড়িয়ায় ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার নামে এক বিধবা মহিলার টিপসহি নিয়ে এফিডেভিট ও ভুয়া কাবিননামা তৈরি অভিযোগে দুই জনের বিরুদ্ধে ফুলবাড়িয়া থানায় আভিযোগ করেছেন ভোক্তভোগী নারী।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাতে আছিয়া বেগম বাদী হয়ে স্থানীয় আ. ছাত্তার ও আ. কদ্দুছকে আসামী করে অভিযোগটি দায়ের করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর তোলপাড় সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এরপর থেকে অভিযোক্ত আ. ছাত্তার ও কদ্দুছ গ্রাম ছেড়ে আত্মগোপনে চলেযায়। উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের পাটুলী গ্রামের মোছাম্মৎ আছিয়া বেগম (৪৫)। গত এক যুগ আগে তার স্বামীর মৃত্যু হয়। ঘরে পাঁচ সন্তান রয়েছে। তিন ছেলেকে বিয়ে করিছেন। নাতি রয়েছে। ছোট ছেলের বয়স ১৩ বছর। বিভিন্ন সময় বিয়ের প্রস্তাব আসলেও বিয়ে করেনি। দ্বিতীয় ছেলে আসাদুলকে প্রায় ৪ বছর আগে বিয়ে করানোর সময় প্রতিবেশি আব্দুল কদ্দুছ (৬২) কে উকিল দেওয়া হয়। আত্মীয়র সুবাধে সে প্রায়ই বাড়িতে যাওয়া আসা করতেন। আব্দুল কদ্দুছ মাঝে মধ্যে স্থানীয় জামায়াত নেতা আব্দুছ ছাত্তারের মাধ্যমে বিধবা আছিয়া বেগমকে বিয়ের প্রস্তাব দিতেন। সে প্রতিবারই বিয়ের প্রস্তাব নাকচ করে দিতেন। গত প্রায় দেড় মাস আগে আব্দুস ছাত্তার বর্তমান সরকারে ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার নামে কৌশলে তার দোকানে নিয়ে নিরক্ষর আছিয়া বেগমের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, পাসপোর্ট ছবি নেয়। কয়দিন পর তার দোকানে ডেকে নিয়ে সাদা কাগজে দুটি টিপসহি নিয়েছিল। সম্প্রতি বিধবা আছিয়া ও আবদুল কদ্দুছ দুজনে বিয়ে করেছেন একটি এফিডেভিট ও কাবিননামার কাগজ দিখিয়ে গ্রামে মানুষের মাঝে প্রচার দেয়। বিষয়টি শুনার পর আছিয়া খাতুন সমাজের মসজিদে বিচার দেয়। গত সোমবার সন্ধ্যায় পাটুলী গ্রামের ঐ নারীর বাড়িতে শালিস হয়। শালিসে নারীর মুখ থেকে বিস্তারিত শুনেন উপস্থিত লোকজন। অভিযোক্ত ছাত্তার উপস্থিত না থাকায় পরবর্তীতে আবারও বুধবার শালীসের তারিখ দেওয়া হয়। বুধবারও সে উপস্থি হয়নি।
শালিসে উপস্থিত লোকজনদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, হতদরিদ্র আছিয়া বেগমকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে ব্যর্থ হয়ে আব্দুল কদ্দুছ স্থানীয় জামায়াত নেতা ছাত্তারের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কৌশলে জাতয়ি পরিচয় পত্রের ফটোকপি টিপসই নিয়ে এফিডেভিট ও ভুয়া কাবিননামা করেছেন। পৌরসভার ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে কাজী অফিসের সীল যুক্ত একটি কাবিননামা ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেনমোহর ধার্য ও নগদ ৫০ হাজার টাকা আদায় দেখানো হয়েছে। কাবীন নামায় আব্দুল মান্নান ও সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষী হিসেবে দেওয়া হয়েছে। অথচ তারা কেউ এ বিষয়টি জানেনা। জামায়াত নেতা আব্দুছ ছাত্তার টাকার বিনিময়ে এ কাজটি করেছেন। তার সাথে আরেক জামায়াত নেতা আব্দুল হেকিম মাস্টারও জড়িত রয়েছে। আব্দুস ছাত্তার আত্মগোপনে থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক ভিডিওতে সে দাবী করেছেন, ফ্যামিলি কার্ডের নামে বিধাব মহিলার কাবিননামা করার সাথে সে জড়িত না, তাকে ফাসানো হয়েছে। অভিযুক্ত কদ্দুসও আত্মগোপনে রয়েছে। তার মুঠোফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। মোছাম্মৎ আছিয়া বেগম বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে একদিন জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি ও ছবি নিয়েছেন ছাত্তার। আরেক দিন ফোন দিয়ে ছাত্তারের দোকানে নিয়ে কাগজে দুটি টিপসহি নিয়েছেন।
গ্রামে ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে আমাকে কদ্দুছ বিয়ে করেছেন। আমার পাঁচ সন্তান ও নাতনী রয়েছে, গ্রামে মানুষের মাঝে মুখ দেখাতে পারছিনা। দু’জন আসামী করে থানায় অভিযোগ দিয়েছি। তাদরে দৃষ্টন্তমূলক শাস্তি দাবী করছি। পৌরসভার ১,২ ও ৩ ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্ট্রার মো. গোলাম মোস্তফা দাবী করেছেন,তার নম্বর সীল ও স্বাক্ষর জাল করে হয়তোবা কেউ এই জালিয়াতি করেছেন। তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেনা।
উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাও. ফজলুল হক শামীম বলেছেন, অভিযোক্ত ছাত্তারের সাথে জামায়াতে ইসলামীর কোন সম্পর্ক নেই। নির্বাচনের সময়ে অনেকে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে কাজ করেছেন, সেও হয়তো করতে পারেন।
ফুলবাড়িয়া থানার ওসি রাশেদুল হাসান বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ডের নামে বিধবার টিপসই নিয়ে কাবিননামা করার ঘটনায় দুইজনের নামে লিখিত অভিযোগ করেছেন আছিয়া বেগম। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর