দেশের অগ্রগতি ও উন্নয়নের প্রধান অন্তরায় দুর্নীতি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মো. মনজুরুল ইসলাম ভূঁইয়া। তিনি বলেছেন, চাঁদাবাজি, লুটপাট, টেন্ডারবাজি এবং গণমাধ্যমকে কুক্ষিগত করার অপচেষ্টা দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে। সাংবাদিক হত্যা, গুম, খুন ও নির্যাতনের ঘটনা দেখে মনে হচ্ছে, দেশে ফ্যাসিবাদের নতুন প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) নেত্রকোণায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রুকন সম্মেলন ও জেলা আমির নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নেত্রকোনা পাবলিক হল ও জেলা প্রেসক্লাবের সম্মেলন কক্ষে পৃথকভাবে পুরুষ ও মহিলা রুকনদের প্রত্যক্ষ ভোটে এ নির্বাচনী কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ছাদেক আহমাদ হারিছের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি মো. বদরুল আমিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালন করেন মনজুরুল ইসলাম ভূঁইয়া।
বক্তব্যে তিনি নেত্রকোনার সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান জামান ফকির হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। তিনি বলেন, আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কোনো অপশক্তি নির্বাচন বানচাল, কারচুপি কিংবা কেন্দ্র দখলের অপচেষ্টা চালালে নেত্রকোনার সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে তা শক্ত হাতে প্রতিহত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইলের প্রতিটি কর্মী এবং এ দেশের ১৮ কোটি মানুষ জামায়াতে ইসলামীর কাছে আমানত। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে সরকার ব্যর্থ হলে দেশে আবারও জুলাই বিপ্লবের মতো গণ-আন্দোলন সংঘটিত হতে পারে। জুলাইয়ের চেতনাকে মানুষের হৃদয় থেকে মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র চলছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গঠিত এ সরকারকে সেই আন্দোলনের চেতনাবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সম্মেলনে ভোট গ্রহণের আগে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টিভঙ্গি ও নির্দেশনা-সংবলিত একটি চিঠি পাঠ করে শোনান জেলা জামায়াতের সাবেক আমির ও ময়মনসিংহ অঞ্চল টিমের সদস্য অধ্যাপক মাওলানা এনামুল হক।
অনুষ্ঠানের শুরুতে দারসুল কোরআন পেশ করেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও নেত্রকোনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাছুম মোস্তফা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মো. জহিরুল ইসলাম, জেলা শ্রমিক বিভাগের সভাপতি মাওলানা কামাল উদ্দিন, জেলা ওলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা নুরুল্লাহ ভূঁইয়া, জেলা শুরা ও কর্মপরিষদের সদস্যবৃন্দ, জেলা মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি শায়েরা খাতুন মুক্তা এবং জেলার ১০টি উপজেলার আমির ও সেক্রেটারিরা। সম্মেলনে প্রায় ৮০০ রুকন অংশগ্রহণ করেন।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
রাজনীতি এর সর্বশেষ খবর