রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) গবেষণা মাঠে (সাবেক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার মাঠ) সচিবালয় স্থানান্তরের উদ্যোগের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার। পরিবেশগত ভারসাম্য, জাতীয় সংসদ ভবনের স্থপতি লুই কানের মূল নকশার মর্যাদা, জিয়া উদ্যানের ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং দেশের কৃষি গবেষণার স্বার্থ রক্ষায় প্রস্তাবিত এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বৃহস্পতিবার ১৫ই অক্টোবর ২০২৬ইং সকাল সাড়ে ১১টায় শেকৃবি পরিবারের উদ্যোগে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে 'গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধার স্টিয়ারিং কমিটি'। সংবাদ সম্মেলন শেষে দুপুরে শেকৃবি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি পেশ করে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে বলা হয়, রাষ্ট্র পরিচালনায় নতুন সচিবালয়ের প্রয়োজনীয়তা তারা অস্বীকার করেন না, তবে ঢাকার ফুসফুস খ্যাত শেরেবাংলা নগরের উন্মুক্ত সবুজ প্রাঙ্গণ ও গবেষণার জমি নষ্ট করে এই ধরনের মেগা অবকাঠামো নির্মাণ কোনোভাবেই পরিবেশবান্ধব ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত হতে পারে না।
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ১৯২০ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার কৃষি শিক্ষার প্রচার ও গবেষণার জন্য শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (তৎকালীন বেঙ্গল অ্যাগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউট) নামে ২৯৮.৪৮২ একর জমি অধিগ্রহণ করেছিল। কিন্তু আশির দশকে সাবেক এরশাদ সরকারের আমলে কর্তৃপক্ষের অমতে ২৮.১৩ একর ভূমি অস্থায়ীভাবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার জন্য নিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিধি মাত্র ৮৭ একরে এসে ঠেকেছে। দীর্ঘ দিন পর নিজ অধিগ্রহণকৃত ভূমিতে শিক্ষা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার সুযোগ আসার পরপরই সেখানে সচিবালয় স্থানান্তরের খবরে প্রায় ৫০ হাজার প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং গবেষকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ স্মরণ করিয়ে দেন, এটি কেবল ভূমির মালিকানার প্রশ্ন নয়, বরং পরিবেশ সুরক্ষা ও আইনি বাধ্যবাধকতার বিষয়। প্রত্নসম্পদ আইন (১৯৬৮), বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি ২০২০)-এর অনুচ্ছেদ ১.১৮ এবং বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ ২০২২-২০৩৫) অনুযায়ী জাতীয় সংসদ ভবন ও পার্শ্ববর্তী ঐতিহ্যবাহী এলাকার চারপাশে নতুন অবকাঠামো নির্মাণ, ভবনের উচ্চতা ও দৃশ্যগত প্রভাব সম্পর্কিত কঠোর সংরক্ষণ বলয় রয়েছে। ইট-পাথরের বিশালাকার সচিবালয় নির্মিত হলে পরিবেশগত এই আইনি সুরক্ষার স্পষ্ট লঙ্ঘন ঘটবে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
ক্যাম্পাস এর সর্বশেষ খবর