ঝিনাইদহে বিসিআইসি সারের ডিলার নিয়োগে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের অভিযোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঝিনাইদহ জেলা শাখা। রোববার সকালে শহরের পায়রা চত্বরে পূর্বঘোষিত আলটিমেটাম অনুযায়ী এ কর্মসূচি পালন করা হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও সমাবেশে জেলার ছয়টি উপজেলা থেকে আসা শত শত নারী-পুরুষ অংশ নেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির আলী আজম মো. আবু বকর বলেন, কৃত্রিম সারসংকট তৈরি করে সাধারণ কৃষকদের জিম্মি করার উদ্দেশ্যে ঝিনাইদহে সারের ডিলার নিয়োগে নজিরবিহীন দুর্নীতি ও ব্যাপক দলীয়করণ করা হয়েছে। ফ্যাসিবাদী আমলের ডিলারদের কারণে কৃষকেরা এমনিতেই দিশেহারা। দেশ ও জনগণের এই সংকটে জামায়াতে ইসলামী সব ধরনের অন্যায়-অপরাধের বিরুদ্ধে আপসহীন প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি অবিলম্বে বিতর্কিত সার-বীজ মনিটরিং কমিটি পুনর্গঠন এবং দলীয় বিবেচনায় দেওয়া সব ডিলারশিপ বাতিল করে স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নতুন করে ডিলার নিয়োগের দাবি জানান।
সমাবেশে জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন প্রিন্সের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল হাই জেলা প্রশাসককে উদ্দেশ করে তিনি বলেন,ঝিনাইদহের ডিসি সাহেব, আপনি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়কে দুর্নীতির খুঁটি বানিয়ে বসে আছেন! যদি সঠিকভাবে নিজের অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে না পারেন, তবে স্পষ্ট করে বলুন—আপনি পুরুষ নন, আপনি মহিলা! আর তা-ও যদি না হন, তবে আপনি হিজড়া! আমরা আপনার জন্য দুই জোড়া চুড়ি কিনে পাঠিয়ে দিচ্ছি!
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও জেলা পরিষদকে ঘিরে কথিত অভ্যন্তরীণ সিন্ডিকেটের অভিযোগ তুলে আব্দুল হাই আরও বলেন,ঝিনাইদহ জেলা পরিষদ আর জেলা প্রশাসকের দপ্তর এখন আপন খালাতো-মামাতো ভাই মিলে চালাচ্ছেন! তিনি অভিযোগগুলোর বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংশ্লিষ্টরা নিজেদের সংশোধন না করলে এবং অনিয়ম বন্ধ না হলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সমাবেশে জেলা পরিষদের নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বক্তারা। তাঁদের অভিযোগ, জেলা পরিষদের নতুন সার্ভেয়ার হানিফসহ মোট সাতজনের নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে। হানিফের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন তাঁকে দিয়ে লিখিয়ে পরদিন তা জমা নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা। এ ছাড়া নিয়োগের বিনিময়ে ২০ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগও উত্থাপন করা হয়। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান বক্তারা। একই সঙ্গে হানিফসহ সাতজনের নিয়োগ বাতিল করে স্বচ্ছতা, যোগ্যতা ও যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে নতুন করে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আহ্বান জানান তাঁরা।
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের জেলা নায়েবে আমির ও ঝিনাইদহ পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী আব্দুল আলিম, ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মতিয়ার রহমান, ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু তালেব, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল আউয়াল এবং সদর উপজেলা জামায়াতের আমির ড. হাবিবুর রহমানসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা।সমাবেশ থেকে আগামী ৩১ মার্চের লংমার্চ কর্মসূচি সফল করতে সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান নেতারা।
স্বাধীন/সা.এ.
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর