মুক্তিযুদ্ধের অকৃত্রিম বন্ধু, ইতালীয় ধর্মযাজক ও বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতির অনুরাগী ফাদার মারিনো রিগনের নবম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাগেরহাটের মোংলায় র্যালি, স্মরণসভা ও সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে মোংলার শেলাবুনিয়ায় ফাদার রিগন মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপন কমিটির উদ্যোগে এসব কর্মসূচি পালিত হয়। সমাধিচত্বরে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন ফাদার রিগন শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস। প্রধান অতিথি ছিলেন সেন্ট পলস ধর্মপল্লির পালক পুরোহিত ফাদার ফিলিপ মণ্ডল। সভায় অন্যান্যদের বক্তৃতা করেন সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোংলা নাগরিক সমাজের সভাপতি মোঃ নূর আলম শেখ, সেন্ট পল্স উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক ফ্রান্সিস সুদান হালদার, মনীন্দ্রনাথ হালদার, সেন্ট পল্স উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক চিরঞ্জিত সরকার, সেবা সংস্থার নির্বাহি পরিচালক মিনা হালদার, উদয়ন সমাজ সংঘ’র জানে আলম বাবু, উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক মোল্লা আল মামুন, সঞ্জয় সরদার, হিউবার্ট সরদার, পলাশ হালদার প্রমূখ।
বক্তারা বলেন, ইতালিতে জন্মগ্রহণ করলেও ফাদার রিগন বাংলাদেশের মানুষ, ভাষা ও সংস্কৃতিকে গভীরভাবে ভালোবেসেছিলেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় আহত মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় ও চিকিৎসাসেবায় সহযোগিতা করেন তিনি। শিক্ষা বিস্তার, মানবসেবা এবং বাংলা সাহিত্যকে আন্তর্জাতিক পরিসরে পরিচিত করতেও তাঁর অবদান স্মরণীয়।
উল্লেখ্য, ১৯২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ইতালিতে জন্ম নেওয়া ফাদার রিগন ১৯৫৩ সালে ধর্মীয় মিশনের কাজে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে আসেন। পরে মোংলার শেলাবুনিয়াকে নিজের কর্মস্থল ও আবাস হিসেবে বেছে নেন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যকর্ম এবং লালন সাঁইয়ের প্রায় ৩৫০টি গান ইতালীয় ভাষায় অনুবাদের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য ও সংগীতকে ইউরোপের পাঠক-শ্রোতাদের কাছে তুলে ধরেন। তাঁর উদ্যোগ ও সহযোগিতায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র গড়ে ওঠে।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১২ সালে তিনি ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’ পান। ২০০৯ সালে তাঁকে সম্মানসূচক বাংলাদেশি নাগরিকত্ব দেওয়া হয়। ২০১৭ সালের ২০ অক্টোবর ইতালিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী ২০১৮ সালের অক্টোবরে মোংলার শেলাবুনিয়ায় তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।
স্মরণসভা শেষে বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাঁর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এ ছাড়া সেন্ট পলস উচ্চবিদ্যালয়ের উদ্যোগে র্যালি বের করা হয়।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর