ইমরুল নুর

বিনোদন প্রতিবেদক

‘ভালোবাসাটা এফডিসি চত্বর পর্যন্তই, বাইরে এলে কেউ চিনে না’

   
প্রকাশিত: ৪:৪০ অপরাহ্ণ, ১৩ জুলাই ২০১৯

বাংলা সিনেমায় মায়ের চরিত্র এলে প্রথমে যার নামটি আসে তিনি হচ্ছেন অভিনেত্রী রেহানা জলি। নায়ক কিংবা নায়িকার মা মানেই রেহানা জলি। মায়ের চরিত্রে তিনি অপরিহার্য মুখ। পর্দায় অসংখ্য নায়ক ও নায়িকার মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। মাঝে দীর্ঘদিন ফুসফুসের ক্যান্সারের আক্রান্ত হয়ে বিছানায় পড়ে ছিলেন। চিকিৎসা নিয়ে এখন সুস্থ আছেন বলে জানা যায়।

তার বর্তমান অবস্থা জানতে বিডি২৪লাইভ থেকে তার সাথে যোগাযোগ করলে নিজের মধ্যে চাপা দুঃখের কথা জানান সিনেপর্দায় ‘মমতাময়ী মা’র চরিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পাওয়া রেহানা জলি।

তিনি বলেন, ‘এখন মোটামুটি আগের থেকে ভালো আছি। তবে পিঠের মেরুদন্ডের সাত নাম্বার হাড়টা ভেঙ্গে গুড়ো হয়ে গিয়েছে যেটা নিয়ে একটু চলতে কষ্ট হচ্ছে। তবে সবকিছু মিলিয়ে ভালো আছি। টুকটাক কাজ করছি এবং সামনে আরও কাজ করে যেতে চাই। সেটা নাটক, সিনেমা কিংবা যেটাই হোক। কাজ তো করে যেতে হবে।’

অশ্রুসিক্ত কন্ঠে তিনি বলেন, আমি এতদিন অসুস্থ ছিলাম কেউ আমার খোঁজ নেয়নি। পরিচালক সমিতি কিংবা শিল্পী সমিতি থেকে কেউ একটা ফোন দিয়েও আমার খোঁজ নেয় নি, এখনও নেয় না। আসলে এটা এমন একটা জগত যেখানে সবাই স্বার্থপর। সময় যখন ভালো যায়, যখন বেশি বেশি কাজ করে তখন সবাই খোঁজ নেয় এরপর কেউ আর নেয় না। ভালোবাসাটা এফডিসি চত্বর পর্যন্তই থাকে, এর বাইরে এলেই আর কেউ কাউকে চিনে না বা খোঁজ খবর নেওয়ার প্রয়োজন করে না।

তিনি আরও বলেন, এফডিসির সবাই জানে আমি কতটা ব্যস্ত শিল্পী। এমনও সময় গিয়েছে যখন আমি একসাথে ৫/৬ টা ছবির কাজ একসাথে করেছি। একটা সেটে কাজ করলে অন্য সেটের সবাই ক্যামেরা ওপেন করে দাঁড়িয়ে থাকতো। কিন্তু এখন কজন খোঁজ নেই! কেউ না। আমি তো মরার পথেই চলে গিয়েছিলাম, আল্লাহর রহমতে বেঁচে ফিরেছি। তখনও আমাকে কেউ দেখতে আসে নি। আর আমি আশাও করি না। জায়গাটাই যে এমন। আমাদের আশেপাশে এরকম অনেকেই তো অসুস্থ হয়ে পরে আছে তাদেরই বা কে খবর নিচ্ছে! সবাই যখন পোলাও কোরমা খায় তখন তার পাশের মানুষটা যে না খেয়ে আছে সেই খোঁজ তো কেউ নেয় না। সবাই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। সবাইকে তো দুনিয়া ছেড়ে চলে যেতে হবে এত কিছু ভেবে কি হবে! সাংবাদিকরা সব সময়ই আমার পাশে ছিল, খোঁজ খবর নিয়েছে। তাদের প্রতি অনেক ভালোবাসা। পরিচালক জিএম সৈকত, শাহনূর সবসময় আমার খোঁজ নিয়েছে, আমার পাশে ছিল। আর কাউকে পাই নি পাশে। প্রধানমন্ত্রীর সহায়তায় চিকিৎসা করেছি, ভালো আছি।

আসলে অনেকটা সময় তো পেরিয়ে গেলো। যে কদিনই বাঁচবো, কাজ করে যেতে চাই। আমার আশেপাশে যখন দেখি কেউ অসুস্থ হয়ে পড়ে আছে আমার খুব কষ্ট লাগে। অভিনেতা আব্দুল আজিজ ভাই খুবই অসুস্থ, পুরো শরীরে পানি চলে এসেছে, কিছুই করতে পারছে না, তার খোঁজ কজনে রেখেছে? তারপর একের পর একজন চলে যাচ্ছে দুনিয়া ছেড়ে। পরিচালক হাসিবুল ইসলাম মিজান ভাই আমাকে অনেক আদর করতেন। শুরু থেকে সব সময় আমার খোঁজ নিয়েছেন। উনিও চলে গেলেন। উনার একটা ছবিতে কাজ করার কথা ছিল আমার। উনি চলে যাওয়ার কিছুদিন আগে আমাকে বলেছিলেন, আমার ছবিতে তোমাকে নিতে চাই, ৭/৮ দিন শিডিউল দিলেই হবে। তোমার কোন কষ্ট করতে হবে না, তোমাকে প্লেনে করে নিয়ে যাব। তখন আমি বলেছিলাম আমার কোন সমস্যা হবে না, আমি কাজ করব। কিন্তু উনিও চলে গেলেন।

আমি এখন যতটা ভাল আছি এটা নিয়ে আমি কাজ করে যেতে পারব। কাজ করতে সমস্যা হবে না। কাজ করতে করতেই ঠিক হয়ে যাবে। সারাদিন বাসায় বসে থেকেও ভাল লাগে না। সারাদিন মনটা পড়ে থাকে এফডিসির দিকে। আমি কাজ করতে চাই।

প্রসঙ্গত, ১৯৮৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় চারশো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন রেহানা জলি। কামাল আহমেদ পরিচালিত ‘মা ও ছেলে’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্যদিয়ে চলচ্চিত্রে নায়িকা হিসেবে তার যাত্রা শুরু হয়। প্রথম চলচ্চিত্র অভিনয় করেই ১৯৮৫ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। ‘মা ও ছেলে’র পর ‘নিষ্পাপ’, ‘বিরাজ বৌ’, ‘প্রেম প্রতিজ্ঞা’, ‘প্রায়শ্চিত্ত’সহ আরো বেশ কিছু চলচ্চিত্রে নায়িকা হিসেবে অভিনয় করেন তিনি। এজে মিন্টু পরিচালিত ‘প্রথম প্রেম’ চলচ্চিত্রে তিনি প্রথম নায়কের মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করেন।

সেই থেকে আজ পর্যন্ত চারশো’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে চলচ্চিত্রের একজন অবধারিত মা চরিত্রে পরিণত হয়েছেন। একজন মমতাময়ী মা হিসেবে চলচ্চিত্রাঙ্গনে রয়েছে তার বেশ সুনাম। যে কেউ চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে গেলে শুরুতেই রেহানা জলির কথা ভেবে রাখেন। কারণ মা’র চরিত্রে অভিনয় করতে করতে তিনি নিজেকে দক্ষ করে তুলেছেন।

এএস/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: