প্রচ্ছদ / ক্যাম্পাস / বিস্তারিত

অমিতই সবার আগে আবরারের খোঁজ করেছিলেন

   
প্রকাশিত: ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ, ১০ অক্টোবর ২০১৯

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকান্ডে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের উপ-আপ্যায়ন সম্পাদক অমিত সাহার জড়িত থাকার কথা শুনা গেলেও তাকে গ্রেফতার করা হয়নি। জানা যায়, অমিত সাহা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। তাই তাকে সমর্থন দিয়েছিল তার বন্ধু মহলও। অমিত সাহার পক্ষে তারা ফেসবুক গ্রুপে কিছু স্টেটমেন্টও দেয়। যা পুলিশের প্রাথমিক তদন্তেও সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে (সে ঘটনাস্থলে অনুপস্থিত ছিল)।’ কিন্তু এখন জানা গেছে অমিত সাহাই প্রথমে আবরারের খোঁজ করেছিল। এর ১ ঘণ্টা পরেই হত্যাকারীরা এসে আবরারকে ডেকে নিয়ে যায়। জানা যায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় অমিত সাহা আবরার ফাহাদ হলে আছে কিনা এটা জানতে আবরারের এক বন্ধুকে ইংরেজি অক্ষরে ‘আবরার ফাহাদ হলে আছে কিনা’ মেসেজ দেন। মেসেজের এক ঘণ্টার মধ্যেই শেরে বাংলা হলের তথাকথিত সিনিয়র ভাইয়েরা অর্থাৎ ছাত্রলীগ নেতারা তাদের সহপাঠীদেরকে আবরারকে ডেকে নিয়ে আসার নির্দেশ দেন। আবরারের বন্ধুকে দেয়া অমিত সাহার সেই মেসেজের স্ক্রিনশটটি সম্মুখে চলে আসলে অমিতের বন্ধুমহল যারা তার পক্ষ নিয়েছিল তারা এখন তা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তারা বলেন, অমিত সাহা প্রসঙ্গে… আমি সুপান্থ জয়, নাশিদ সিফাত, মুবতাসিম ফুয়াদ বেগ ফাহিম, আবির সাহা, তৃপ্ত ভট্টাচার্য, অনিন্দ্য আকাশ শুভ্র, ইমতিয়াজ সৈকত, সামিউল জাওয়াদ রবি- আমরা অমিত সাহার ডিপার্টমেন্ট/সেকশনমেট। একই সঙ্গে ক্লাস করে এসেছি। আমরা কেউ তার হলেরও না। ক্লাসের অন্য ১০টা মানুষের মতো তার সঙ্গেও আমাদের বন্ধুত্ব ছিল।

‘আবরারের হত্যাকাণ্ডের পর অমিত ঘটনার সময় নিজের অনুপস্থিতি ও ঘটনায় ফেঁসে যাওয়ার কথা আমাদের জানায়। তখন সে আবির সাহার বাসায় ছিল, এটা নিশ্চিত হওয়ার পর আমরা অমিতের পক্ষে গ্রুপে কিছু স্টেটমেন্ট দেই, যা পুলিশের প্রাথমিক তদন্তেও সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে (সে ঘটনাস্থলে অনুপস্থিত ছিল)।’ তারা বলেন, ঘটনার সঙ্গে তার প্রত্যক্ষ/পরোক্ষ সম্পৃক্ততা আমাদের পক্ষে বের করা সম্ভব ছিল না। কিন্তু কিছুক্ষণ আগে বের হয়ে আসা তথ্যে (স্ক্রিনশট) আর সবার মতো আমরাও তার সম্পৃক্ততা নিয়ে আর সন্দিহান নই। যার প্রেক্ষিতে এই কেসে তার পক্ষে আমাদের সমর্থন প্রত্যাহার করছি। ‘আমরা জানি, এ রকম ঘটনায় একদম ধোয়া তুলসিপাতা কেউ হঠাৎ করে জড়ানো সম্ভব না। অবশ্যই তার একাধিক ক্রিমিনাল রেকর্ড আছে, যা আমরা গুরুত্ব সহকারে কখনো নেইনি বা দেখেও ওভারলুক করেছি। আমাদের এই অসচেতনতার জন্যই আজ এদের মতো অপরাধীর জন্ম।’ এছাড়া সাধারণ শিক্ষার্থীদের ধারণা অমিত সাহা ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকলেও তিনি আবরারের অবস্থান জেনে হত্যাকারীদের জানিয়েছে। কারণ অমিত গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিল সে হলে এসেছে কিনা তা তো হত্যাকারীদের জানার কথা নয়। এর আগেও হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে অমিত সাহা অনেক শিক্ষার্থীকে নির্যাতন করেছিলেন। এমন ঘটনা শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও জানিয়েছেন।

এসএআর/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: