হারিয়ে যাচ্ছে ভোঁদর

প্রকাশিত: ০৫:১৪ অপরাহ্ণ, ৪ ডিসেম্বর ২০১৪

নাহিদুর রহমান হিমেল, জাবি প্রতিনিধি:

বর্তমানে বিলুপ্ত প্রায় বণ্যপ্রাণীর মধ্যে ভোঁদর অন্যতম। স্থান ভেদে এটি আবার উঁদ বা উঁদ বিড়াল নামেও পরিচিত। আমাদের দেশে মোট ৩ প্রজাতির ভোঁদর রয়েছে। মুলত নড়াইল, খুলনা, সিলেট এবং পাবর্ত্য অঞ্চলে ভোঁদর লক্ষ করা যায়। এই উভচর প্রাণীটির প্রিয় খাবার মাছ। তাই এরা পুকুর বা বিলে মাছ শিকার করে। এদিকে পুকুরের সব মাছ খেয়ে ফেলে এমন ভ্রান্ত ধারনা আর তৈলাক্ত চামড়ার লোভে এক শ্রেণীর মানুষ এদের নির্বিচারে হত্যা করছে। ফলে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে জীব-জগতের অন্যতম এ প্রাণীটি।

বিলুপ্ত প্রায় এই প্রাণীটি রক্ষায় এবং সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্য বিভাগের বন্যপ্রাণী শাখা। ১৯৮৮ সাল থেকে ভোঁদর নিয়ে গবেষণা করছেন এ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোস্তফা ফিরোজ। মোস্তফা ফিরোজ বিডি ২৪ লাইভকে বলেন, ভোঁদর জীব-জগতের অপরিহার্য অংশ। ভোঁদরের আয়ুষ্কাল ২০ বছর। এরা বছরে একবার তিন থেকে চারটি বাচ্চা প্রসব করে। তিনি আরো বলেন, উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা হলে ভোঁদর দেশের যে কোনো স্থানে প্রজনন ঘটাতে পারে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের বণ্যপ্রাণী শাখার ব্যবস্থাপনায় ২০০৪, ২০০৫ ও ২০০৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ভোঁদরের প্রজনন পরীক্ষা চালানো হলে তা সফল হয়। তিনি বলেন, ভোঁদর মাছ খায় বলে অনেকে এ প্রাণিটিকে হত্যা করে। জীব-জগতে সকলেরই বাচার অধিকার রয়েছে। এ অধিকারের প্রশ্ন থেকেই এ প্রাণীটির প্রতি সদয় হতে হবে। ভোঁদর আকারে ১৬ থেকে ১৮ সেন্টিমিটার আর ওজন ৩ থেকে ৪ কেজি। গায়ের রং হাল্কা বাদামি। বুক ও গলা সাদাটে। লোমগুলো ঘন ও তেলতেলে এবং জলরোধক। মাছ শিকারে এরা খুবই দক্ষ হওয়ায় মৎস্য শিকারিরা এদের ধরে প্রশিক্ষণ দিয়ে রশি বেঁধে নামিয়ে দেয় জলাশয়ে। এরা মাছ তাড়িয়ে নির্দিষ্ট স্থানে পাতানো জ্বালে পাঠাতে সাহায্য করে। বিনিময়ে এদের খেতে দেয়া হয় ছোট ছোট মাছ। বাংলাদেশে নড়াইলে চিত্রা নদীর পাড়ের জেলে সম্প্রদায় বিগত তিন শত বছর ধরে ভোঁদরের সাহায্যে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করছে। এছাড়াও সুন্দরবন এলাকায় মাছ শিকারের জন্য এটি ব্যবহার করা হয়।

এদিকে এ বিলুপ্তপ্রায় প্রানীটি রক্ষায় এবং সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাহাঙ্গীরগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আগামী ৭ ডিসেম্বর ‘ঈধঢ়ধপরঃু ইঁরষফরহম ঃড় ঈড়হংবৎাব ঃযব ঙঃঃবৎং ড়ভ ইধহমষধফবংয’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ কর্মশালায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অষ্ট্রেলিয়া, ইন্ডিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও বাংলাদেশের প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করবেন। সকাল দশটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম এ কর্মশালার উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রো-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন, যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক ভোঁদর সংরক্ষণ ফান্ডের প্রধান ড. পল ইয়ক্সন, আইইউসিএন, বাংলাদেশস্থ প্রতিনিধি ইশতিয়াক উদ্দিন আহমদ। কর্মশালার পর ০৮ ডিসেম্বর নড়াইলে এবং ৯-১২ ডিসেম্বর সুন্দরবনে ফিল্ড ভিজিট প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে।

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: