প্রচ্ছদ / জাতীয় / বিস্তারিত

মোঃ সাইফুল ইসলাম

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

বীরশ্রেষ্ঠ মতিউরের স্ত্রী জানেনই না প্লট বরাদ্দের কথা!

২৮ মার্চ, ২০১৮ ১৮:২৮:০০

ছবিঃ প্রতিকী।

দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হলো ‘মুক্তিযুদ্ধ’। ত্যাগ, বীরত্ব আর অমানুষিক কষ্টের কাহিনী নিয়ে রচিত হয়েছে এ অধ্যায়। তবে সবকিছু ছাপিয়ে স্বাধীনতাকামী মানুষের বিজয় অর্জনের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে এর মাহাত্ম্য। মুক্তিযুদ্ধের সময় জীবনের মায়া ত্যাগ করে লড়াই করেছেন অসংখ্য মানুষ। তবে বাংলাদেশের পক্ষে তাদের সবাইকে আনুষ্ঠানিক সম্মাননা দেয়া সম্ভব হয়নি। যারা সম্মাননা পেয়েছেন, তাদের মধ্যে সবার উপরে রয়েছেন সাত বীরশ্রেষ্ঠ।

সরকার এই সাত বীরশ্রেষ্ঠের পরিবারের সদস্যদের জন্য নানান সুযোগ-সুবিধা দিয়ে আসছে। তাদের কল্যাণে স্বাধীনতার পরপরই গঠন করা হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট। তাদের জন্য পূর্বাঞ্চলে সাতটি প্লটও দিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। কিন্তু এই প্লট বরাদ্দ সম্পর্কেই জানেন না বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের স্ত্রী।

রাজউকের এই প্লট পেয়ে কতটা খুশি জানতে চাওয়া হলে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের স্ত্রী বলেন, প্লট আমি পাইনি। আমি জানিও না কিছু। আমার জানার আগেই এটা দেয়া হয়েছিল হয়তো।

কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, বীরশ্রেষ্ঠদের পরিবারের উত্তরাধিকার ২০ জন আছেন আমাদের তালিকায়। তাদেরকে ৩৫ হাজার টাকা বন্টন করে দেয়া হয়েছে। তারা রেশনও পান। কর-সংক্রান্ত ছাড়াও বিভিন্ন বিষয়েও বীরশ্রেষ্ঠদের পরিবারগুলো সুবিধা পেয়ে থাকেন।

যমুনা টিভির ৩৬০ ডিগ্রির অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের নামের প্লট মো. আতাউর রহমানের নামে বরাদ্ধ করা হয়েছে। তবে আতাউর রহমান যে মতিউর রহমানের কোনো ভাবে উত্তরাধিকারী নন এটা জানিয়ে দিলেন কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি বলেন, সন্তান থাকলে এটা সন্তানের উপর ন্যস্ত হবে।

সেই আতাউর রহমানকে খোঁজে অনুসন্ধান টিম। পুরান ঢাকার আগা সাদেক রোড, তাদের পুরাতন বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল রিয়েল ইষ্ট কোম্পানির বিশাল সাইনবোর্ড। সেখানে দেখা যায়, মতিউর টাওয়ার নামে তৈরি হচ্ছে একটি আবাসিক ভবন। আতাউর রহমানের সাথে কথা বলতে গেলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে জানান। পরে যোগাযোগ করা হলে তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে রাজউক থেকে পাওয়া প্লট বিক্রি করে দিয়েছেন ইফতেখার আহমেদ জিমি নামে এক কানাডার প্রবাসীর কাছে। এ তথ্য জানান বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের ভাই বজলুর রহমান। শুধু মতিউর নামের নয়, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নামে পাওয়া প্লটও বিক্রি করে দিয়েছেন তার ছোট ভাই শুক্কুর আলী।

এই সব অনিয়ম নিয়ে কথা বলতে রাজউকের চেয়ারম্যানের সাথে দফায় দফায় যোগাযোগ করা হলেও তিনি কথা বলতে রাজি হননি।

বিডি২৪লাইভ/ওয়াইএ

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: