প্রচ্ছদ / জাতীয় / বিস্তারিত

সম্পাদনা: আরাফাত হোসেন রবিন

ডেস্ক এডিটর

সৌদি থেকে ফিরে নারী শ্রমিক

‘আটকে রেখে যৌন নির্যাতন ও ইলেকট্রিক শক দেওয়া হয়’

২০ মে, ২০১৮ ১১:৫০:০০

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয়ে গত দুই দিনে দেশে ফিরেছেন ৭১ জন নারী শ্রমিক। এছাড়া শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে কেবল সৌদি আরব থেকেই গত ৩ বছরে চার হাজারের বেশি নারী শ্রমিক দেশে ফিরেছেন বলেও জানা যায়।

১৯ মে রাতে দেশে ফিরে আসা এক নারী শ্রমিক জানান, আমি একবছর ধরে কাজ করেছি। কিন্তু বেতন দিয়েছে তিন মাসের। আমাকে অনেক গালাগালি করতো। খেতে দিতো না ঠিক মতো। পরে আমি সেখান থেকে পালিয়ে বাংলাদেশের দূতাবাসে আসি। দূতাবাস থেকে আমাকে আউট পাস দিয়ে দেশে পাঠিয়ে দিয়েছে।

এছাড়া ১৮ মে দেশে ফিরেন শিউলি আক্তার পিংকি। সৌদি আরবের দাম্মাম শহরের যে বাসায় তিনি কাজ করতেন সেখানকার বর্ণনা দিতে গিয়ে পিংকি বলেন, সকালে উঠে থালা-বাসন পরিষ্কার করতাম। এরপর সারাদিন পানি দিয়ে ঘর-বাড়ি পরিষ্কার করতে করতে পুরো শরীর ভিজে যেতো। শুকনা কাপড় পরারও সময় পেতাম না। রাতে ভেজা কাপড়েই ঘুমিয়ে পড়তাম। এত কাজের বিনিময়ে সকালে একটা আর রাতে একটা রুটি খেতে দিতো। হাতে-পায়ে ধরে ভাত চাইলেও দিত না।

চোখের পানি মুছতে মুছতে পিংকি আরও বলেন, প্রথম রোজার দিন (বৃহস্পতিবার) রাতে একটা রুটি দিয়েছিল খেতে। আমরা ৯ জন মেয়ে মিলে তাদের ভাত দেওয়ার অনুরোধ করার পর সেহরিতে ভাত দেয়। আলু আর পেঁয়াজের পাতার ভাজি দিয়ে ভাত খেয়েছি। ইফতার করেছি এক গ্লাস পানি দিয়ে।

তারা বলছেন, সম্মানজনক কাজ দেওয়ার কথা বলে দেশটিতে নিয়ে গেলেও যাওয়ার পর থেকে তাদের আটকে রেখে মারধর ও যৌন নির্যাতন করা হয়। সেখানে তাদের আটকে রেখে ইলেকট্রিক শক দেওয়ার পাশাপাশি রড গরম করে ছেকা পর্যন্ত দেওয়া হয়।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা থাকা এক কর্মী জানান, তারা দেশে ফিরে এসেই কান্নাকাটি করেন। কেউ কেউ নিজ উদ্যোগে খাবার কিংবা আর্থিক সহায়তা দিয়ে তাদের বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা করেন। অনেকের শরীরে জখমের চিহ্নও দেখেছেন তারা।

উল্লেখ্য, গত ১৮ মে ৫ এবং ১৯ মে ৬৬ জন নারী শ্রমিক সৌদি আরবে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয়ে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দেশে ফিরেন।

ফিরে আসা পাঁচ নারী শ্রমিক হলেন- মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীর পিংকি, ঢাকার লালবাগের সুমাইয়া কাজল, নওগাঁর সুখী, ময়মনসিংহের ফুলপুরের মাজেদা ও ভোলার রিনা।

দরিদ্র বিমোচন এবং কর্মক্ষেত্রের স্বল্পতার কারণে নারীরা বেছে নেন অভিবাসন ব্যবস্থা। নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করতে দেশ ছেড়ে পাড়ি জমান সুদূর সৌদি আরব, আরব-আমিরাত, কুয়েত, ওমান, কাতার, বাহরাইন, লেবাননসহ বিশ্বের ১৮টি দেশে।

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) দেওয়া তথ্য মতে, ২০১৭ সালে অভিবাসী নারীর সংখ্যা ছিল ১২ লাখ ১৯ হাজার ৯২৫ জন, যা মোট অভিবাসন সংখ্যার ১৩ শতাংশ। ১৯৯১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত একা অভিবাসন প্রত্যাশী নারী শ্রমিককে অভিবাসনে বাধা দেওয়া হলেও পরবর্তীতে ২০০৩ এবং ২০০৬ সালে কিছুটা শিথিল করা হয়। ২০০৪ সালের পর থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত নারী শ্রমিকের অভিবাসন হার ক্রমাগত বাড়তে থাকে। ২০১৫ সালে এ সংখ্যা দাঁড়ায় মোট অভিবাসনের ১৯ শতাংশে। যদিও এই হার অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম।


বিডি২৪লাইভ/এএইচআর

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: