মাসুম রেজা শিশির

রাজবাড়ী প্রতিনিধি

পাঁকা রাস্তার মাঝে বাঁশের মাচা 

২০ মে, ২০১৮ ২৩:০৩:৩০

ছবি: প্রতিনিধি

রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার পদ্মার কোল ঘেসা ভাঙ্গন কবলিত ও কৃষি সমৃদ্ধি ইউনিয়ন দেবগ্রাম। ইউনিয়নটির তেনাপচা গ্রামের পাঁকা রাস্তার মাঝে বাঁশের মাচা দিয়ে চলছে যোগাযোগ রক্ষা।

গতবছর বর্ষা মৌসুমে পানি চাপে তেনাপচা গ্রামের মোহন শেখের বাড়ি সংলগ্ন পাকা রাস্তাটির মাঝে ভেঙ্গে যাওয়ায় উপজেলা পষিদের অর্থায়ন ও ইউপি চেয়ারম্যানের সহায়তায় জনগণ ও ছোট যানবাহন চলাচলের জন্য ভাঙ্গা স্থানে প্রায় ৭০ ফিট লম্বা ও ৩০ ফুট উচু বাঁশের মাচালী তৈরি করা হয়। যা উপর দিয়ে ঝুকি নিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ আসা-যাওয়া, কৃষি পন্য পরিবহন, অটোরিকসা ও নসিমন আসা-যাওয়া করছে। আর রাজবাড়ী জেলা শহর থেকে পদ্মা নদীর বাঁধের রাস্তা হয়ে দেবগ্রাম ইউনিয়নের তেনাপচা গ্রামের কাটাখালী হয়ে দৌলতদিয়া যাবার সহজ পথ এটি। কিন্তু একটি মাত্র ব্রীজের জন্য দুর্ভোগ পোয়াচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ।

স্বরজমিনে গিয়ে জানাগেছে, তেনাপচা গ্রামের এ রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার মানুষ ও ছোট-বড় যানবাহন আসা-যাওয়া এবং কৃষি পন্য পরিবহন করা হতো। কিন্তু গতবছর বর্ষা মৌসুমের পানির চাপে রাস্তাটির মাঝে ভেঙ্গে যাওয়া রাস্তাটি দিয়ে যাতায়াতকারীরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। এ রাস্তাটি রাজবাড়ী থেকে দৌলতদিয়া যাবার সহজ পথ। রাস্তাটির মাঝের ভাঙ্গা স্থানে বাঁশের মাচালী দিয়ে কোন রকম চলাচলের উপযোগী করা হলেও আগের মত ভারী কোন যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। তবে এ রাস্তাটি শুধু গত বছরই ভাঙ্গে নাই এর আগেও আরেকবার ভেঙ্গেছিল। তখন বালু দিয়ে ভরাট করলেও গতবছর আবার ভাঙ্গে এবং সে সময় সেখানে থাকা রাজ্জাক মোল্লা নামে এক ব্যক্তির বাড়ি ভেঙ্গে যায়।

ইউনিয়ন চেয়ারম্যানসহ এলাকাবাসী ভাঙ্গা স্থানে একটি ব্রিজের জন্য অনেকবার প্রশাসনকে জানালেও এখন পর্যন্ত শুধু শুনে চলেছেন ব্রিজ হবে কিন্তু কবে সেটা জানেন না।

স্থানীয় ছালেহা বেগম জানান, ভাঙ্গন কবলিত স্থানে তার টিনের একটি চার চালা ঘর ছিল। যেখানে স্বামী ১ ছেলে ও ২ মেয়ে সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন। কিন্তু গতবছর শাওন মাসে বর্ষার পানির চাপে রাস্তাটি ভেঙ্গে যায় এবং সাথে সাথে তার বাড়িটিও ভাঙ্গে। তারপর তিনি সেখান থেকে কিছুটা দূরে সনকারালী জমি নিয়ে কোন রকম একটি ঘর তুলে বসবাস করছেন কিন্তু এতে কারো কোন সহযোগীতা পান নাই। তবে যাই হোক রাস্তাটির ভাঙ্গা স্থানে একটি ব্রিজ হলে সবার জন্য হতো। ব্রিজ না থাকায় এ রাস্তা দিয়ে চলাচলে খুব সমস্যা হচ্ছে।

রাস্তায় চলাচলকারী একাধিক অটোরিকসা, ভ্যান ও মোটর সাইকেল চালকরা জানান, বাঁশের মাচালী দিয়ে চলাচল করতে ভয় লাগে, কারণ বৃষ্টি হলেই পিচ্ছিল হয়ে যায় মাচালীটি। তারপরও প্রয়োজনে চলাচল করতে হয় । এ পথ দিয়ে রাজবাড়ী জেলা শহর, গোয়ালন্দ উপজেলা ও দৌলতদিয়া যাবার সহজ পথ। বাঁশের মাচালীর কারণে স্বাভাবিক ভাবে চলাচল করতে সমস্যা হচ্ছে। ভারী কোন মালামাল আনা বা নেবার প্রয়োজন হলেও আনা-নেওয়া করতে পারছে না। তাই রাস্তাটির ভাঙ্গা স্থানে একটি ব্রিজ করা হলে তারা আগের মত চলাচল করতে পারতো এবং যানবাহন দিয়ে ভারী মালামাল আনা-নেওয়া করতে পারতো বলে আশা করছেন।

দেবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আতর আলী জানান, তার ইউনিয়নের তেনাপচা গ্রামের মোহন শেখের বাড়ির কাছের পাকা রাস্তাটি পানির চাপে দুই বার করে ভেঙ্গে যায়। একবার মাটি দিয়ে ভরাট করা হলেও গতবছর আবার ভেঙ্গে যায়। ভেঙ্গে যাবার পর উপজেলা পরিষদ ও তার নিজের অর্থায়নে ভাঙ্গন স্থানে জনগণের চলাচলের জন্য একটি বাঁশের মাচালী তৈরি করা হয়। এরপর একটি ব্রীজের জন্য স্থানীয় এমপিসহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরাঘুরি করছেন । সবাই আশ্বস্থ্য করছেন কিন্তু অবহেলার জন্য এখন পর্যন্ত এ কাজটি হয় নাই। ব্রীজ না থাকায় তাদের অনেক সমস্যা হচ্ছে। মোটর সাইকেল, নসিমন, অটোরিকসাসহ হাজার হাজার জনগণ প্রতিদিন এখান দিয়ে চলাচল করে। এ রাস্তটি রাজবাড়ী জেলা শহর, উপজেলা ও দৌলতদিয়া যাবার নিরাপদ ও সহজ পথ। সবার সুবিধার জন্য একটি ভাঙ্গন স্থানে ব্রীজ তাদের খুবই প্রয়োজন।

উপজেলা এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে তেনাপচার রাস্তাটি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ জায়গায় প্রায় ৪৫ মিটারের একটি ব্রিজ করার পরিকল্পনা আছে। ভাঙ্গন স্থানে ব্রিজের জন্য ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের বন্যা ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ স্ট্রাকচার প্রজেক্টে করার অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে । ব্রিজটির ডিজাইনের কাজ চলছে, কাজটি সম্পন্ন হলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন এবং ধারণা করছেন আগামী অর্থ বছরে এর কাজ শুরু করতে পারবেন।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু নাসার উদ্দিন জানান, ভাঙ্গন কবলিত রাস্তাটি দেবগ্রাম ইউনিয়নে আশ্রয়ন প্রকল্পের যাবার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। ইতিমধ্যে উপজেলা প্রকৌশলের মাধ্যমে ঢাকায় একটি প্রজেক্ট পাঠিয়েছেন । চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে আশা করছেন ব্রীজের টেন্ডার হবে এবং আগামী বছর ব্রিজটির কাজ শুরু হবে।

বিডি২৪লাইভ/এমকে

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: