প্রচ্ছদ / বিনোদন / বিস্তারিত

সম্পাদনা: আরাফাত হোসেন রবিন

ডেস্ক এডিটর

কারাগারে যেভাবে কেটেছিল শিল্পী আসিফের দিন

১৫ জুন, ২০১৮ ০০:১৫:৩৭

‘আসিফ আকবর’ যার কণ্ঠে গান মানেই মাতোয়ারা দর্শক। প্রায়ই এই শিল্পী নিজের ব্যক্তি জীবনের নানা ঘটনা থেকে শুরু করে সমাজের নানা অসঙ্গতি নিয়ে তার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে থাকেন।

সম্প্রতি একজন গায়ক-গীতিকারের মামলায় গত ৬ জুন বিকেল থেকে ১১ জুন জামিন না হওয়ার পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে কাটাতে হয় তাকে। ফিরেই কারাগারে কাটানোর অভিজ্ঞতার কথা ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানালেন এই তারকা শিল্পী।

বিডি২৪লাইভ ডটকমের পাঠকদের জন্য আসিফের স্ট্যাটাসটি নিচে তুলে ধরা হলো

আসিফ লিখেছেন, ‘সকালে ঘুম থেকে উঠতে চাই না, দিন বড় হয়, ঝামেলাও বড় হয়। দুপুরের আগে আমাকে দেখতে আসলেন আগে থেকেই কারাবন্দী ভাই ব্রাদাররা, তাদের পেয়ে ভালো লাগলো। তারপর অফিস কলে চলে আসলাম, ঢাকা থেকে আমার বস শওকত আলী ইমন ভাই এসেছেন, প্রথম ভিসিটর, সঙ্গে স্বপ্ন প্রধান ভাই আর গীতিকার দ্বীপ। আলাপের ফাঁকে ইমন ভাই সমস্যা সমাধানে জোর দিচ্ছিলেন। উনার পরিকল্পনা শেয়ার করলেন। তারপর আসলো রণ রুদ্র আর বেগম। তাদের সঙ্গেও সময় কাটালাম, ছেলেদের মানসিকতা দৃঢ়। বেগমকে শুধু বলে দিলাম – কোন Deal এ যাওয়া যাবে না। কাউকে ঘুষ দেয়ার জন্য আমার পরিশ্রমের রোজগার না। প্রয়োজনে আমি আরো জেলে থাকবো, কারো কাছে মাথা নত করার সূযোগ নেই । সততাই আমার শক্তি, আইনী প্রক্রিয়ায়ই নিজেকে অভিযোগের খড়গমুক্ত করবো।

ফিরে এলাম কেবিনে, জমে গেল আড্ডা। সন্ধ্যায় ইফতারী আর রাতে খাবার একসাথে করলাম সবাই । একসাথে বাংলাদেশের খেলা দেখলাম , তুমুল আড্ডা শুরু হল। একে একে সবাই নিজেদের পরিচয় এবং এখানে আসার বিবরন দেয়া শুরু করল। ছোট্ট সবুজ (ছদ্ম নাম) কিভাবে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী হয়ে উঠলো।

রাজনৈতিক গডফাদার, পরিবারের অসহায়ত্ব, নিজেদের সীমাবদ্ধতা নিয়ে কথা বলতে বলতে মানুষ গুলো শিশু হয়ে গেলেন। তাদের কথা বার্তা হাসি ঠাট্টা, আবার ছোটবাচ্চা,মা স্ত্রীর জন্য হাহাকারের অনুভূতি আমাকে মুগ্ধ করেই যাচ্ছে। এরা আসলেই অপরাধী নয়, সমাজ এবং সিষ্টেম তাদের অপরাধী বানিয়েছে ।

তৃতীয় দিন সেলে সেলে ঘুরে বেড়াচ্ছি। আমি যেদিন গ্রেফতার হই, ঐদিন আমার বিদেশী বন্ধু আর বড় ভাইরা একসাথেই সেহরী করার কথা। তৃতীয় দিন আসলেন মালয়েশিয়ার আনিস ভাই আর কুমিল্লার জসিম ভাই। তারা এসে পিসি ( প্রিজনারস ক্যাফেটেরিয়া ) তে টাকা জমা দিলেন । অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শিখে গেলাম । প্রয়োজনীয় জিনিস আনতে লিষ্ট বানিয়ে দিলাম । সাক্ষাৎ শেষে কারা কেবিনের পথে যেতে হাজারো কয়েদীর ভীড়ে পড়ে আমার সঙ্গে থাকা শাওন হারিয়ে গেল। কয়েদীদের উচ্ছ্বাস শ্লোগান আর সেলফিমুক্ত পরিবেশে কেবিনে ফিরলাম। এখন আর খারাপ লাগছে না ,মনে হচ্ছিল এই কারাগারের অনেক পুরনো বাসিন্দা আমি …’

প্রসঙ্গত, গত ৫ জুন দিবাগত রাতে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে তেজগাঁও থানায় সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী শফিক তুহিনের করা একটি মামলায় তেজগাঁওয়ের এফডিসি এলাকায় নিজ স্টুডিও থেকে আসিফ আকবরকে গ্রেফতার করে সিআইডির একটি টিম।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত ১ জুন রাত ৯টার দিকে চ্যানেল ২৪-এর সার্চলাইট নামে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, আসিফ আকবর অনুমতি ছাড়াই তার সংগীতকর্মসহ অন্যান্য গীতিকার, সুরকার ও শিল্পীর ৬১৭টি গান সবার অজান্তে বিক্রি করেছেন।

পরে তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, আসিফ আকবর আর্ব এন্টারটেইনমেন্টের চেয়ারম্যান হিসেবে অন মোবাইল (প্রা.) লিমিটেড কনট্যান্ট প্রোভাইডার, নেক্সনেট লিমিটেড গাক মিডিয়া বাংলাদেশ লিমিটেড ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গানগুলো ডিজিটাল রূপান্তরে ট্রু-টিউন, ওয়াপ-২, রিংটোন, পিআরবিটি, ফুলট্রেক, ওয়াল পেপার, অ্যানিমেশন, থ্রিজি কনট্যান্ট ইত্যাদি হিসেবে বাণিজ্যিক ব্যবহার করে অসাধুভাবে ও প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জন করেছে।

এজাহারে আরো উল্লেখ রয়েছে, এ ঘটনা জানার পর তিনি গত ২ জুন রাত ২টা ২২ মিনিটে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে অনুমোদন ছাড়া গান বিক্রির এ ঘটনা উল্লেখ করে একটি পোস্ট দেন। তার ওই পোস্টের নিচে আসিফ আকবর নিজের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে অশালীন মন্তব্য ও হুমকি দেন।

পরের দিন রাত ৯টা ৫৯ মিনিটে আসিফ আকবর তার প্রায় ৩২ লাখ লাইক সমৃদ্ধ ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে লাইভে আসেন। ৫৪ মিনিট ৩৪ সেকেন্ড লাইভ ভিডিওর ২২ মিনিট থেকে তার বিরুদ্ধে অবমাননাকর, অশালীন ও মিথ্যা-বানোয়াট বক্তব্য দেন। ভিডিওতে আসিফ আকবর তাকে (শফিক তুহিন) শায়েস্তা করবেন এ কথা বলার পাশাপাশি ভক্তদের উদ্দেশ্যে বলেন, তাকে যেখানেই পাবেন সেখানেই প্রতিহত করবেন।

এ নির্দেশনা পেয়ে আসিফ আকবরের ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে হত্যার হুমকি দেন। আসিফ আকবরের এ বক্তব্য লাখ লাখ মানুষ দেখেছে। তিনি উসকানি দিয়েছেন। এতে তার (শফিক তুহিন) মানহানি হয়েছে বলে দাবি করেন। এ বিষয়টি সংগীতাঙ্গনের সুপরিচিত শিল্পী, সুরকার ও গীতিকার প্রীতম আহমেদসহ অনেকেই জানেন বলে এজাহারে শফিক তুহিন উল্লেখ করেছেন।

এদিকে গ্রেফতারের পর বুধবার আদালতে হাজির করা হলে আসিফ বলেন, ২০০৮ সালে একটি চুক্তি হয়েছিল। এর পর ২০১৪ সালে নতুন আইন হওয়ায় আগের চুক্তি মোতাবেক কেউ-ই লাভবান হয়নি। আমার বিরুদ্ধে যারা মামলা করেছেন, তারাই আমার আগে ফেসবুকে কমেন্ট (কটূক্তি) করেছে। তারাই আমার মানহানি করেছে। কিন্তু আমি তাদের বিরুদ্ধে মামলা করিনি।

পরে ১১ জুন বিকাল ৪টায় কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান জনপ্রিয় এ শিল্পী।

বিডি২৪লাইভ/এএইচআর

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: