আব্দুল লতিফ রঞ্জু

পাবনা প্রতিনিধি

ট্রেন ভাড়া ২০ টাকা!

১৫ জুন, ২০১৮ ০৯:১১:০০

ছবি: প্রতিনিধি

ঈদুল ফেতরের বাকি আর মাত্র ১দিন। ইতিমধ্যে ঢাকা থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে নাড়ীর টানে মানুষ বাড়ি ফিরছে। এই বাড়ি ফিরতে গিয়ে নানা ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে তাদের। তবুও বাড়ি ফেরা। যত কষ্টই হোক বাড়ি তাদের ফিরতেই হবে।

সরেজমিনে পাবনার চাটমোহর রেলষ্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, ঈদের ছুটি কাটাতে ঘরে ফেরা মানুষের প্রচন্ড চাপ। রাজধানী ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গের রেলপথে যাতায়াতকারী ট্রেনগুলোতে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করছেন বেশিরভাগ যাত্রী। আর এই সুযোগে এক শ্রেণীর লোক ‘মই ব্যবসা’ শুরু করেছেন। মই দিয়ে ছাদ থেকে নামতে জনপ্রতি তারা আদায় করছেন ১০ থেকে ২০ টাকা। প্রতিবছর ঈদের সময় এক শ্রেণীর মৌসুমী মই ব্যবসায়ীরা তৎপর হয়ে ওঠেন। অধিকাংশ ট্রেনের ছাদে ভ্রমনকারী যাত্রীরা ট্রেনের কোন টিকিট ক্রয় করেন নি। সুতরাং এ সকল ট্রেনের ছাদে ভ্রমন কারী যাত্রীদের বাড়ি ফেরতে খরচ হচ্ছে মই ভাড়া ২০ টাকা!

চাটমোহর রেলষ্টেশনে অবস্থান করে দেখা গেছে, ঈদের আনন্দ পরিবারের সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করতে ও গ্রামের বাড়িতে ঈদ উদযাপন করতে আন্তঃনগর সুন্দরবন, চিত্রা, ধূমকেতু, সিল্কসিটি, একতা, লালমনি এক্সপ্রেস, দ্রুতযান ট্রেনে চেপে চাটমোহর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কর্মজীবি মানুষ ফিরছেন ঘরে। শুধু চাটমোহর নয়, পাবনা সদর, আটঘরিয়া, নাটোরের বড়াইগ্রামসহ অন্যান্য উপজেলার ঈদে ঘরমুখো মানুষ আসছেন ট্রেনে। ষ্টেশনে তিল ধারণের জায়গা নেই।

ট্রেন ষ্টেশনে থামা মাত্রই একশ্রেণীর লোক ট্রেনের ছাদে মই লাগাচ্ছেন। জনপ্রতি নিচ্ছেন জনপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা করে। প্লাটফর্মের উল্টোদিকেও লাগানো হচ্ছে মই। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মই দিয়ে শিশু-কিশোর থেকে নারী-পুরুষ সবাইকে নামতে দেখা যায়। এতে যে কোন সময় বড় ধরণের দূর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার আশংকা করছেন স্থানীয়রা।

কথা হয় ট্রেনের ছাদে আসা চাটমোহর উপজেলার ছাইকোলা ইউনিয়নের বোয়াইলমারী গ্রামের আবদুল্লাহ আল আমিন, পৌর শহরের বালুচর মহল্লার ফজলে করিম রনি, নার্সারী মোড় এলাকার ফুরবাতুল ইসলাম ডিউকের সাথে। ট্রেনের ছাদে ঝুঁকি নিয়ে ভ্রমণের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তারা বলেন, ‘ঝুঁকি তো আছেই, কিন্তু বাড়িতে তো আসতেই হবে। বছরে এক-দুইবার ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত না করলে পরিবারের সঙ্গে ঈদ করবো কিভাবে?’

এ ব্যাপারে চাটমোহর স্টেশন মাস্টার মহিউল ইসলাম বলেন, ‘কমলাপুর, বিমানবন্দর, জয়দেবপুর ও টাঙ্গাইল ষ্টেশন থেকে বেশিরভাগ যাত্রীরা ট্রেনের ছাদে উঠছে। যাত্রীদের ভিড়ে কাজের চাপ বেড়ে যাওয়ায় বিষয়টি নজরে আসেনি। তবে এর সত্যতা পেলে মই ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে রেল পুলিশের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’


বিডি২৪লাইভ/এমআরএম

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: