সম্পাদনা: এম আর মাসফি

ডেস্ক এডিটর

ক্রোয়েশিয়া বিশ্বকাপ জিতলে...

১৪ জুলাই, ২০১৮ ১২:৪৫:০০

ছবি: সংগৃহীত

লড়াই এখন শেষ মুহুর্তে পৌছে গেছে। সোনার হরিণটা যেন খুবই কাছাকাছি। বহু প্রতিক্ষিত সেই স্বপ্ন যেন আবারও বাস্তবে ধরা দিতে চলেছে। ১৫ই জুলাই ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে ক্রোয়েশিয়া। সেদিন শুধু বিশ্বকাপ জয়ই নয়, ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ফ্রান্সের কাছে পরাজয়ের প্রতিশোধও হয়তো নিতে চাইবে ক্রোয়েশিয়া।

ক্রোয়েশিয়ার জনসংখ্যা মাত্র ৪০ লাখ। ১৯৫০ সালে উরুগুয়ের বিশ্বকাপ জয়ের পর, এত কম জনসংখ্যার কোনো দেশ বিশ্বকাপ জেতেনি। কোনো ক্রীড়া পদক জয়ের অর্থনৈতিক প্রভাব কী হবে, তার হিসাব করাটা সহজ কাজ নয়।

তবে এটা বলা যায় যে, ক্রোয়েশিয়া বিশ্বকাপ জিতলে দেশটি বিশ্বজুড়ে যেই ইতিবাচক প্রচারণা পাবে, তা বছরের পর বছর ধরে চালানো জনসংযোগ প্রচারণার চেয়েও অনেক বেশি মূল্যবান হবে। ১২ই জুলাই দেশের পুরো মন্ত্রীসভা যে ফুটবল দলের জার্সি গায়ে বৈঠক করলেন, সেটা তাই খুব বিস্ময়কর কোনো খবর নয়।

তবে পৃথিবীতে ক্রোয়েশিয়া ছাড়া এমন দেশ খুব কমই আছে যেখানে রাজনীতি ও ফুটবল একে-অপরের সঙ্গে এতটা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। গত তিন দশকের ক্রোয়েশিয়ান ফুটবলের গল্পটা ছিল নাটকীয়তায় ঠাঁসা। ফুটবল যেন ক্রোয়েশিয়ানদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে আছে।

অথচ সেই ক্রোয়েশিয়ান ফুটবল ভক্তরাই আবার অসংখ্যবার তিরস্কৃত হয়েছেন ফ্যাসিস্ট শ্লোগানের জন্য। দ্য ইকোনমিস্টের একটি নিবন্ধের সূচনা ছিল এমনই। এতে বলা হয়, ৭ই জুলাই যেদিন রাশিয়াকে হারায় ক্রোয়েশিয়া, সেদিন সব কূটনৈতিক শিষ্টাচার ভুলে রাশিয়ান প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভের সামনেই আনন্দে নাচছিলেন ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট।

আবেগের বাইরে প্রেসিডেন্টের এই উল্লাশের অন্য কোনো হেতু যদি কেউ খুঁজে বের করে, তাহলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। কারণ, প্রেসিডেন্ট, তার দল সহ ক্রোয়েশিয়ার সকল রাজনৈতিক দল ফুটবল-সংক্রান্ত নির্বাচনী অর্থায়ন থেকে লাভবান হয়েছে।

স্বাধীন ক্রোয়েশিয়ার প্রথম প্রেসিডেন্ট ফ্রাঞ্জো তুদজম্যান। ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট হন তিনি। স্বাধীনতা ঘোষণা করে ১৯৯১ সালে যুদ্ধে জড়িয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। তখন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন, দেশের ক্রীড়াবিদরা হলেন দেশের রাষ্ট্রদূত। তুদজম্যান মারা গেছেন আগেই। কিন্তু তার শাসনামলের যেই বৈশিষ্ট্য, অর্থাৎ কর্তৃত্বপরায়ণতা, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতি, তার ছাপ ক্রোয়েশিয়ায় এখন অবশিষ্ট আছে কেবল ফুটবল জগতে।

স্থানীয় ফুটবল জগতের সবচেয়ে বড় কর্তৃত্বপরায়ণ ক্ষমতাধর ব্যক্তিটি ছিলেন জাদ্রাভকো মামিচ। ক্রোয়েশিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট কোলিন্দা গ্রাবার-কিতারোভিচের নির্বাচনী প্রচারে অর্থের যোগান দিতে সহায়তা করেছিলেন মামিচ। ৬ই জুন মামিচকে একটি দুর্নীতি মামলায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তিনি এখন প্রতিবেশী বসনিয়ায় পলাতক। একই মামলায় নাম আছে বর্তমান দলের দুই তারকারও: অধিনায়ক লুকা মদ্রিচ ও ডিফেন্ডার দেজান লভরেন। রাশিয়া থেকে দেশে ফিরলে মিথ্যা হলফনামা দেওয়ার অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হবেন তারা।

ক্রোয়েশিয়ান ফুটবলের অন্ধকার দিক এখানেই শেষ নয়। ভক্তরা ‘মাতৃভূমির জন্য! প্রস্তুত হও!’ শ্লোগান দিয়ে আসছেন বহুদিন ধরে। শুনতে সাধারণ জাতীয়তাবাদী শ্লোগান মনে হলেও, এই বিশেষ শ্লোগানের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল দেশটির উসতাশা শাসকগোষ্ঠীর।

তবে এই অন্ধকার দিক সত্ত্বেও, বিশ্বকাপ জিতলে নিশ্চিতভাবেই আনন্দে ফেটে পড়বে পুরো দেশ। ‘ঐতিহাসিক’ শব্দটি ক্রোয়েশিয়ার ফুটবলে অতিব্যবহৃত একটি শব্দ। তবে সত্যিই যদি বিশ্বকাপ জেতে ক্রোয়েশিয়া, তাহলে এই শব্দের প্রয়োগ হবে যথার্থ।

বিডি২৪লাইভ/এমআরএম

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: