আরেফিন আল ইমরান

ডেস্ক কন্ট্রিবিউটর

যেভাবে বুঝবেন নিজের যৌন বিকৃতি

১৩ আগস্ট, ২০১৮ ১৩:৫৮:০০

ছবি: সংগৃহীত

সভ্যতার বিবর্তনে যৌনতা সবসময়ই একটি উল্লেখযোগ্য নিয়ামক ছিল। তবে সেই স্বাভাবিক প্রবণতাটি যদি বিকৃত ও অস্বাভাবিক পথে পা বাড়ায় তবে তা ব্যক্তি জীবন তো বটেই সমগ্র সমাজের জন্যই বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। গবেষকরা বলছেন, বর্তমান পৃথিবীর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ যৌন বিকৃতির মধ্যে রয়েছে। কিন্তু কিভাবে বুঝবেন আপনি সেই বিকৃতির বিষয়টি?

চলুন জানা যাক, সমস্যাটি বোঝার সঠিক লক্ষণগুলি-

১. পর্ন আসক্তি: নির্জনতায় কিংবা একাকিত্বে আপনি পর্নগ্রাফিতে ভীষণভাবে আসক্ত। দিন-রাতের একটি উল্লেখযোগ্য সময় করছেন এই অন্ধকার জগতে। পিসি, ল্যাপটপ বা স্মার্টফোন নিয়েই মেতে উঠছেন ভয়াবহ এই নেশায়। আবার হয়তো ভেতরে ভেতরে অনুতাপও করছেন। ভুগছেন অপরাধবোধে। বেরিয়ে আসতে চাইছেন; কিন্তু কোনোভাবেই পেরে উঠছেন না নিজের কুপ্রবৃত্তির সাথে। সেক্ষেত্রে বুঝতে হবে আপনি যৌন বিকৃতির মাঝে বসবাস করছেন।

২. মাত্রাতিরিক্ত মাস্টারবেশন: আপনি কি মাস্টারবেশনে অভ্যস্ত? যদিও অনেক মনোবিদ ও গবেষকরা এটাকে অপরাধ বলে মনে করেন না। তবে এর মনস্তাত্ত্বিক ও শারীরিক কুফল কিন্তু ব্যাপক। সবচেয়ে বড় কথা হল মাস্টারবেশনে অভ্যস্ত হয়ে গেলে সুস্থ যৌন জীবন বাধাগ্রস্থ হবে নিশ্চিত। আপনার মন মস্তিষ্ক মাস্টারবেশনের মোহে এতোটাই ডুবে থাকবে যে, প্রকৃত ও আসল যৌনতা আপনাকে আর আনন্দ দেবে না। এর ফলে আপনার বৈবাহিক জীবনে আসতে পারে তীব্র অশান্তি। একইসঙ্গে প্রচুর স্পার্ম খুইয়ে হয়তো, অকালে নিজের সন্তান উৎপাদনের ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলতে পারেন। মনে রাখবেন শরীর একটা যন্ত্র। তার সঠিক ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। অতিরিক্ত কোনো কিছু এর উপর চাপিয়ে দিলে, তার ফলাফল আপনার জন্যই খারাপ হবে।

৩. সমকামিতার প্রতি আকর্ষণ: এটাও একধরনের ভয়াবহ যৌন বিকৃতি। সমলিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ থেকেই সাধারণত সমকামিতার উৎপত্তি হয়। পশ্চিমা বিশ্বের কিছু দেশে আইনগতভাবে এর স্বীকৃতি থাকলেও, সমকাম মূলত সভ্যতা ও সংস্কৃতির জন্য মারত্নক এক হুমকি। এতে করে মানসিক এমন এক বিকৃতি তৈরি হয় যা, সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনকে ধ্বংস করার জন্য যথেষ্ট। মানুষের বংশ বিস্তার এবং প্রজনন ক্ষমতার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার তাগিদ থেকেই এই আকর্ষণ অবশ্যই উৎপাটন করা উচিত। নারী-পুরুষের স্বাভাবিক সম্পর্ক এবং প্রেমময় দাম্পত্যই পারে সমকামিতার বিকৃতি ও অসুস্থতা থেকে আপনাকে বাঁচাতে।

৪. শিশুদের প্রতি যৌনাসক্তি: একই কথা প্রযোজ্য শিশুদের প্রতি যৌন আসক্তির ক্ষেত্রেও। এটা এমন এক ধরনের মানসিকতা যা সভ্যতার সম্পূর্ণ বিপরীত। মানুষের স্বাভাবিক ও সহজাত যে বৈশিষ্ট্য এটি সেই প্রকৃতির সেই নিয়মের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এর ফলে পৃথিবীর অনেক দেশে চাইল্ড রেপের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। শিশুদের যৌন হয়রানি করে অনেকেই লাভ করে বিকৃত আনন্দ। কিন্তু সভ্যতাবিনাশী এই আচরণ যে ক্রমাগতভাবে আপনাকে মণুষ্যত্বের নিম্ন পর্যায়ে নিয়ে যাবে সেটা অবশ্যই আপনাকে অনুধাবন করতে হবে।

৫. মাত্রারিতিরিক্ত যৌনচিন্তা: হয়তো আপনি এধরনের চিন্তায় দিনের একটি উল্লেখযোগ্য সময় ব্যয় করছেন। এধরনের ওয়েবসাইট ব্রাউজ করছেন অনেকসময় ধরে। কামোদ্দীপক ম্যাগাজিন কিংবা ভিডিও দেখছেন ইচ্ছে মতো। সবমিলিয়ে আপনি নিজের ভেতরে যৌন ফ্যান্টাসির একটি জগৎ তৈরি করেছেন। সেসব চিন্তা আপনাকে বাস্তবতা থেকে ক্রমশ দূরে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আপনার ভেতরে তৈরি হচ্ছে মোহ-মায়া ও তীব্র রূপ-রসময় একটি পৃথিবী। মনোজগতের এই বিকৃতি আপনাকে আস্তে আস্তে নিয়ে যাবে চারিত্রিক অধ:পতনের দ্বারপ্রান্তে। এই অতি চিন্তার দরুন আপনি ব্যভিচার অথবা বিকৃত সব যৌনলালসা চরিতার্থে অগ্রসর হতে পারেন।

৬. টিজ বা হ্যারাসমেন্টের প্রবণতা: আপনি কি সুযোগ পেলেই সোস্যাল সাইটে বিপরীত লিঙ্গের কাউকে টিজ করেন? সাধারণত ছেলেদের ভেতর এই প্রবণতা বেশি কাজ করে। একইভাবে আপনি কি কর্মস্থলে কিংবা যাত্রাপথে বাস, ট্রেনের ভিড়ে চেষ্টা করেন শরীরের স্পর্শ দিয়ে মেয়েদের স্পর্শ করার সুযোগ খোঁজেন? তাহলে বুঝতে হবে আপনার ভেতরে যৌন বিকৃতি রয়েছে হয়তো আপনার অগোচরে। সময় থাকতে এ বিষয়ে সচেতন পদক্ষেপ না নিলে আপনার দ্বারাও ঘটে যেতে পারে মারাত্নক যৌন অপরাধ কিংবা দুর্ঘটনা। অতএব, নারীদের সম্মান করুন। তাদের মাংসপিন্ড বা কামনার দ্রব্য ভাবার চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসুন।

সমাধান: প্রথমত, আপনাকে স্বীকার করতে হবে-আপনি যৌন বিকৃতির মাঝে রয়েছেন। এটা হৃদয় থেকে উপলব্ধি না করলে, সমস্যা সমাধান করা কঠিন। দ্বিতীয়ত, সচেতনভাবে চেষ্টা করতে হবে স্বাভাবিক জীবনে প্রত্যাবর্তন করার। যতো বেশি কাজ করবেন, তত বেশি ব্যস্ত থাকবেন আপনি। ফলে অলস মস্তিষ্ক বাজে চিন্তায় মগ্ন থাকার সুযোগ পাবে না। তৃতীয়ত, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও প্রার্থণায় সময় দিন। এতে আপনার ভেতরে শক্ত মূল্যবোধ তৈরি হবে। চতুর্থত, সম্ভব হলে বিয়ে করুন, অথবা প্রেমের সম্পর্কে আপনার সততা ও বৈধতা ধরে রাখুন। এসবের সাথে সাথে বাড়িয়ে দিন সুস্থ বিনোদনের অভ্যাস। ভালো গান শোনা, মুভি দেখা, ভ্রমণে যাওয়ার মত হবি গড়ে তুলুন। প্রয়োজনে মনোবিদের সহায়তা নিন। নিয়মিত কাউন্সেলিং গ্রহনের পাশাপাশি ও পরামর্শমাফিক জীবন গঠন করতে পারলে, আপনি অবশ্যই বেরিয়ে আসবেন সব ধরণের যৌন বিকৃতি থেকে। সূত্র: অ্যাবনরমাল সেক্সুয়াল সাইকোলজি

বিডি২৪লাইভ/এএআই

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: