প্রচ্ছদ / জাতীয় / বিস্তারিত

যেসব দেশে আছে বঙ্গবন্ধুর ৬ জীবিত খুনি

১৫ আগস্ট, ২০১৮ ১০:৪৫:০০

ছবিঃ সংগৃহীত

পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে খুন করে দুর্বৃত্তরা। একুশ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচার শুরু হয়। বিচারে ১২ আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ আসে আদালতের রায়ে। পরবর্তী মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর ২০১০ সালে ১২ খুনির মধ্য থেকে পাঁচ খুনির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

তবে এর আগে ২০০১ সালে আরেক আসামি আজিজ পাশার স্বাভাবিক মৃত্যু হয় জিম্বাবুয়েতে। বাকি ছয় আসামি বাংলাদেশের বাইরে বিভিন্ন দেশে পলাতক আছে।

জানা গেছে, তাদের মধ্যে নূর চৌধুরী কানাডায়, রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে, মোসলেম উদ্দিন জার্মানিতে ও শরিফুল হক ডালিম স্পেনে আছে। তাছাড়া খন্দকার আবদুর রশিদ পাকিস্তানে আছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে আরেক আসামি আবদুল মাজেদ কোন দেশে পলাতক আছে, তার কোনো তথ্য জানা যায়নি।

এদিকে এই ছয়জনের পাসপোর্ট বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। গত ২৮ জুন পাসপোর্ট অধিদফতরকে এই নির্দেশ দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

তাছাড়া নূর চৌধুরী ও রাশেদ চৌধুরীকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান স্কাডেন এলএলপিকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে নূর চৌধুরীর রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন কানাডার উচ্চ আদালত খারিজ করে দিলেও ফেরত পাঠানোর আগে ঝুঁকি মূল্যায়নের (প্রিরিমোভাল অ্যাসেসমেন্ট রিস্ক) আরেকটি আবেদনের এখনো নিষ্পত্তি হয়নি।

এই আবেদনে সে কানাডাকে জানায়, বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হলে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। কারণ বাংলাদেশের আদালতে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়া আছে। কানাডা মৃত্যুদণ্ডের সাজা সমর্থন করে না বিধায় এই সুযোগ নিয়ে সহানুভূতি পেতে চায় খুনি নূর চৌধুরী। তার এই আবেদনটি কানাডার অ্যাটর্নি অফিস খারিজ করে দিলেই নূর চৌধুরীকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আর কোনো বাধা থাকবে না।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর খুনি নূর চৌধুরীকে কানাডা তাদের দেশ থেকে বের করে দিতে চায়। কিন্তু কানাডার আইনে মৃত্যুদণ্ডের বিধান না থাকায় তারা তাকে ফিরিয়ে দিতে পারছে না। তারা চায় না কোনো আসামিকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হোক।

আনিসুল হক বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের আইন অনুযায়ী ফাঁসি দেয়া হবে না- তা কি করে হয়? কানাডার সাথে এই নিয়ে কথা হচ্ছে। আবার ক্ষমতায় এলে রাশেদ চৌধুরীকে আমেরিকা থেকে ফিরিয়ে আনা হবে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময় রাশেদ চৌধুরীকে আমেরিকায় থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিল।

এদিকে স্কাডেন এলএলপি সম্প্রতি জানিয়েছে, রাশেদ চৌধুরীকে ফেরত পাঠাতে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

মোসলেম উদ্দিন ও শরিফুল হক ডালিমকে দেশে ফেরত আনতে যথাক্রমে জার্মানি ও স্পেন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে বাংলাদেশ সরকার।

আর আবদুর রশিদ পাকিস্তানে আছে- এমন তথ্য জানার পর গত ডিসেম্বরে সে দেশের সরকারকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। তবে এর কোনো জবাব মেলেনি।

১২ আসামির মধ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া পাঁচ আসামি হলো- কর্নেল (অব.) সৈয়দ ফারুক রহমান, কর্নেল (অব.) সুলতান শাহরিয়ার রশীদ খান, লে. কর্নেল (অব.) মহিউদ্দিন আহমদ (ল্যান্সার), মেজর (অব.) এ কে বজলুল হুদা এবং মেজর (অব.) এ কে এম মহিউদ্দিন (আর্টিলারি)।

বিডি২৪লাইভ/ওয়াইএ

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: