ভাড়া নিয়ে অরাজকতা

‘মেরে একেবারে হাড় গুঁড়ো করে দেব’

২১ আগস্ট, ২০১৮ ১২:০৬:০০

ছবিঃ সংগৃহীত

পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে বাড়ির পথে ছুটে চলেছে অনেকেই। কিন্তু অতিরিক্ত ভাড়ার চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ঈদে ঘরমুখো এই যাত্রীরা। এসময়ে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় প্রায় সব জায়গায়।

ঈদে ঘরমুখো যাত্রীরা অভিযোগ করেন ২০০ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। তারা জানান কিছুই করার নেই তাদের। বাধ্য হয়ে নাড়ীর টানে বাড়ি যেতেই হবে।

এদিকে সোমবার (২০ আগস্ট) গাবতলীতে অতিরিক্ত বাস ভাড়া আদায়ের সময় হাতেনাতে ধরে ফেলেন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। কোন রকম ঝুট ঝামেলা ছাড়ায় যাত্রীরা বাড়ি ফিরতে পারছেন কি না তা দেখতে গাবতলীতে যান ডিএনপি কমিশনার। এরপরেই যাত্রীরা অতিরিক্ত বাস ভাড়ার অভিযোগ জানায়।

যাত্রীদের কাছ থেকে অভিযোগের পরে সরেজমিনে কাউন্টারে যেয়ে দেখতে পান অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এ বিষয়ে স্বচক্ষে দেখার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন ডিএমপি কমিশনার।

এ সময় একযাত্রী এসে অভিযোগ করেন ঢাকা থেকে আলফাডাঙ্গা পর্যন্ত ভাড়া নেয়া হচ্ছে ৫০০ টাকা অথচ ভাড়া হওয়ার কথা ২৭৮ টাকা। এরপরেই টিকিট কাউন্টারে গিয়ে তিনি জিজ্ঞাসা করেন, ‘আমার বাড়ি আলফাডাঙ্গা আমি জানি ভাড়া ২৭৮ টাকা কিন্তু ৫০০ টাকা নিচ্ছেন কেন! এরপর টিকিট মাস্টার বলেন, বিআরটিএ চার্ট দিয়েছে স্যার।

তখন ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘আপনার চার্ট দেখান।’

চার্ট দেখে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘চার্টে আছে ঢাকা থেকে আলফাডাঙ্গা ৩৫০ টাকা, তাহলে ৫০০ টাকা কেন নিলেন?’ এরপর টিকিট মাস্টার একটা অজুহাত খাঁড়া করার চেষ্টা করেন।

তখন ডিএনপি কমিশনার বলেন, ‘৫০০ টাকা কেন নিলেন বলেন। এইরকম কয়টা টিকিট কাটছো তোমরা। মেরে একেবারে হাড় গুঁড়ো করে দেবো। এই টাকা ফেরত দে। এই মাসুদ এদের সবগুলাকে বেঁধে থানায় নিয়ে যাও। এই বাসের মালিক কে। মালিকের নাম কি!’

তখন টিকিটি মাস্টার বলেন, ‘মালিকের নাম আশরাফ আলী।’

এরপর ডিএনপি কমিশনার বলেন, ‘বাবা আমার বাড়ি আলফাডাঙ্গা আমি চিনি। ভাড়া কেন বেশি নিচ্ছ। সব টাকা ফেরত দাও। আর ফেরত না নিলে আমারে জানাও। বাকি টাকা ফেরত দাও।’

পরে পুলিশ এসে টিকিট মাস্টারকে থানায় নিয়ে যায়।

বিডি২৪লাইভ/ওয়াইএ

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: