প্রচ্ছদ / জাতীয় / বিস্তারিত

সম্পাদনা: সাজিদ সুমন

ডেস্ক এডিটর

‘মন্ত্রীদের বাসায় ঢুকতে অনেক ঝামেলা’

২৩ আগস্ট, ২০১৮ ১৭:০১:৩২

ছবিঃ সংগৃহীত

আহাদ আলী। আমার কৃষ্ণপুর গ্রামের ভূমিহীন জ্যেঠা‌তো ভাই। আমার দাদার চাচাতো ভাই এর সূত্রে রক্ত সম্পর্কিত। বয়‌সে আমার ছোট। তবে আমি গ্রা‌মে নিয়মিত যাতায়াত কালে নিজের ছোট ভাই এর ম‌তোই বড় হ‌য়ে‌ছে। একবা‌রেই স্কু‌লে যায়‌নি। ওর কোন দোষ নাই। আমি তালুকদারের নাতি হয়েই স্কুলে পড়তে কষ্ট পেয়েছি। আহাদ কেমন করে লেখাপড়া করতে পারবে? দারিদ্র তাকে সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিতও করেছে।

ওরা তিন ভাই ছি‌লো। ওর বড় হরমুজ ভাই আমার বয়সী ছি‌লেন। তি‌নি আমা‌দের বা‌ড়ি‌তে থাক‌তেন। ছোট বেলা থেকেই গরুর রাখাল ছি‌লেন। আ‌মিও মা‌ঝে মা‌ঝে তার সা‌থে রাখাল হয়ে যেতাম। সবার বড় ছি‌লেন সুবুদ আলী ভাই। হরমুজ ভাই ও সুবুদ আলী ভাই আজ আর নেই। আহাদও শৈশব থেকে আমা‌দের বা‌ড়ি‌তেই বড় হ‌য়ে‌ছে। আমার বাবা ওদের কাছে নিজের বাবার মতোই গণ্য হতেন। আমার মাও নিজের সন্তানের মতোই আদর করতেন। আমার ছোট ভাই-বোনেরাও তাদেরকে আপন ভাই এর মতো দেখে এসেছে। আমাদের বাড়িতে বিষয়টা খুবই স্বাভাবিক ছিলো। আমাদের সকল দূর সম্পর্কের আত্মীয়রা আমাদের বাড়িতেই ঘর বেধে থাকতেন। মায়ের ডান হাত-গোমস্তা হিসেবে তারাই বেশি নিযুক্ত হতেন।

আহাদ বয়সে ছোট হলেও আমার খেলার সাথী ছি‌লো। ওর সা‌থেও আ‌মি মা‌ঠে কাজ কর‌তে যেতাম। গরুর রাখাল বা ক্ষেতে ধান লাগানো আমার ভালো লাগতো। মাঝে মাঝে কয়েক কিলোমিটার দূরে কাজ করা আহাদদের জন্য মাথায় করে খাবারও নিয়ে যেতাম। ধান কেটেছি একসাথে। আহাদ, হরমুজ ভাই, আব্বাস আলী কাকু, আছমত কাকুসহ আমাদের আপনজনেরা আমার স্কুল জীবনে ২৫ কিলোমিটার দূরের আমার হাই স্কুলের হোস্টেলে চাল নিয়ে যেতেন। আহাদের ছে‌লে আজিজ শৈশবে আমার বাসায় থাক‌তো। আমার ছেলে বিজ‌য়ের খেলার সঙ্গী ছি‌লো। আহাদ‌কে আজ পেলাম আমার ছোট ভাই রাব্বানীর বাসায়। গ্রাম থে‌কে আহাদ গতকাল ঢাকা এ‌সে‌ছে তার মন্ত্রী ভাইটা‌কে দেখ‌তে। মন্ত্রীপাড়া চেনেনা তাই রাব্বানীর বাসায় যাওয়া। অনেকে তাকে বলেছে মন্ত্রীদের বাসায় ঢুকতে অনেক ঝামেলা। রাব্বানী নিজে গতকাল আমার বাসায় এসে খবর দিয়েছে-আহাদ আমাকে দেখতে চায়। সেজন্যই আজ দুপুরে রাব্বানীর বাসায় গিয়েছিলাম। আমার উপস্থিতির খবর পাবার পর কোরবানীর গোশত কাটা ফেলে রেখে রাব্বানীর আট তলার বাসায় এসে পা ছুয়ে সালাম করে। ও‌কে জ‌ড়ি‌য়ে ধ‌রে বুকে নি‌লে আহাদের চোখ দি‌য়ে টপ টপ করে পা‌নি পড়‌তে থা‌কে। জানতে চাইলাম-কোন কাজ আছেরে? কোন সমস্যা? জবাব দিলো, না কোন কাজ নাই-কোন সমস্যাও নাই। তবে আমার মাধ্যমে ওর একটি নাতনী নাকি চাকরি পেয়েছে, সেজন্যও সে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে। বস্তুত কেবলই আমাকে দেখতে আসা।

এই ভালবাসা কোথায় মে‌লে? ঠিক বলেছিনা? কেবলই ব‌াংলা‌দে‌শে। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষেরা সবাই আহাদ আলী।

লেখক: ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এর ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে নেওয়া।

বিডি২৪লাইভ/এসএস

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: