হেলমেট ছাড়া তেল মিলবে না ঢাকাতেও

০৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৮:২২:০০

ছবি : প্রতীকী

রাজধানীতে যেসব মোটরসাইকেল আরোহীদের হেলমেট থাকবে না, তাদের তেল দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। মঙ্গলবার (৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

এছাড়া সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ঢাকাতে বাস থামানোর জন্য ১২১টি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সব স্টপেজ ছাড়া কোথাও বাস না থামানোর নির্দেশ দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, বাস স্টপেজ ছাড়া কোনও জায়গায় বাসের দরজা খুলবে না, বন্ধ থাকবে। আর যাত্রীরাও বাস স্টপেজ ছাড়া অন্য কোথাও নামতে পারবেন না বলেও জানান ডিএমপি কমিশনার। এছাড়া হেলমেট ছাড়া কোনও রাইডারকে পাম্প থেকে তেল না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, আমরা ইতোমধ্যে পেট্রোল পাম্প মালিকদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা হেলমেট না থাকলে তেল না সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

এছাড়া জাহাঙ্গীর গেইট থেকে জিরো পয়েন্ট রুটে অটো ট্রাফিকিং ব্যবস্থা চালু করা হবে। স্বয়ংক্রিয় সিগন্যালিংয়ের মাধ্যমে এ সড়কের যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এটি আমরা মডেল প্রোজেক্ট হিসেবে নিয়েছি। পর্যাক্রমে অন্যান্য রুটেও এ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আমরা দেখেছি ঢাকার বাইরের অনেক রিকশা ঢাকায় চলাচল করছে। এগুলো পেলে সঙ্গে সঙ্গে আটক করা হবে। এছাড়াও ঢাকার মূল সড়কে কোনো লেগুনা চলাচলের কথা না। আমরা কোনভাবেই ঢাকা মহানগরের মূল সড়ক দিয়ে লেগুনা চলাচল করতে দেবো না।

ফুটপাথের অবৈধ দোকান বসানোর কারণে পথচারীদের বাধ্য হয়ে রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হয়। এ বিষয়ে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেবে কি না। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কমিশনার বলেন, আপনার তথ্য সঠিক। ভলকানাইজিংয়ের দোকানের কারণে পথচারীরা ফুটপাথ দিয়ে হাঁটতে পারেন না। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ইতোমধ্যে রাজউক এবং সিটি করপোরেশনকে বলা হয়েছে। তারা ব্যবস্থা নেবে।

যাত্রীদের উদ্দেশ্যে কমিশনার বলেন, সড়কে যাত্রীরা যত্রযত্র দাঁড়িয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে পারবেন না। তাদের শুধুমাত্র জেব্রা ক্রসিং কিংবা বাস স্টপেজে দাঁড়াতে হবে। এছাড়াও প্রতিটি বাসের সামনে ড্রাইভারের ছবি ও ফোন নম্বর থাকতে হবে। বাস ড্রাইভার সিটবেল্ট বেঁধে গাড়ি চালাবেন। চুক্তিভিত্তিক নয়, বাসের ড্রাইভার হবে বেতনভুক্ত।

ট্রাফিক পুলিশের বিশেষ অভিযান নিয়ে তিনি বলেন, যানবাহনে অবৈধভাবে ফ্ল্যাগস্ট্যান্ড লাগিয়ে আইন লঙ্ঘন করা যাবে না। অনুনমোদিত কোনো ব্যক্তি ফ্ল্যাগস্ট্যান্ড ব্যবহার করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়াও রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সাইডে চেকপোস্ট করে আইন অমান্যকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, রাজধানীতে বড় বড় স্কুলে ক্লাস শুরু ও ছুটির সময় আমরা স্কুলের সামনে ট্রাফিক পুলিশ নিয়োগ দেব। তারা সেখানকার ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করবেন। এছাড়া স্কুলের সিনিয়ররা ছোটদের রাস্তা পারাপারে সহায়তা করবে।

ডিএমপি মিডিয়া সেন্টার সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত

সেপ্টেম্বরকে ট্রাফিক মাস ঘোষণার বিষয়ে কমিশনার বলেন, আইন না মানার প্রবণতা জনগণের সবচেয়ে বড় সমস্যা। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং সচেতনতা তৈরির জন্য ট্রাফিক মাস ঘোষণার উদ্যোগ নেয়া হয়। পুলিশের এ উদ্যোগে সহায়তা করবে রোভার স্কাউট, গার্লস গাইড এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্স সোসাইটি।

তিনি বলেন, সড়কে অব্যবস্থাপনার অন্যতম কারণ সড়কের দুরবস্থা। এ পরিস্থিতি একদিনে সৃষ্টি হয়নি। ঢাকায় ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি গাড়ি চলছে, যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং হচ্ছে। এছাড়া যানজটের জন্য ইউটিলিটি ও এমআরটির মতো উন্নয়নকাজে সড়কে খোঁড়াখুঁড়িও দায়ী।


বিডি২৪লাইভ/এইচকে

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: