বৈষম্য আর অবহেলায় ৭ কলেজের শিক্ষার্থীরা

০৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৪:৫৫:০০

ছবিঃ প্রতীকী।

আহমেদ ফেরদাউস খান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট: শাহিনুর রহমান। সরকারি তিতুমীর কলেজের সম্মান শেষ বর্ষের ছাত্র। গত বছর ঢাকা অধিভুক্ত ৭ কলেজের সম্মান ৩য় বর্ষের ৩ বিষয়ে মান উন্নয়ন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। দীর্ঘ সময় পর ফলাফল প্রকাশিত হয়। অংশগ্রহণ করা ৩ বিষয়ের মধ্যে দুই বিষয়ের ফলাফল প্রকাশ পেলেও একটি বিষয়ের ফলাফল প্রকাশ হয়নি।

এ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিসে সংশ্লিষ্ট কাগজ পত্র নিয়ে যোগাযোগ করা হলে দেখা যায়, টেবুলেশন সিটে ওই বিষয়ের ইনকোর্সের নাম্বার থাকলেও ছিলো না পেপারে পাওয়া কোন নাম্বার। এ বিষয়ে তাকে রেজিষ্ট্রার অফিস থেকে কয়েকবার ফলাফল প্রকাশ করে দেয়ার আশ্বাস দিলেও এখনও দেয়া হয়নি।

এমন সমস্যা শুধুমাত্র শাহিনুর রহমানের নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভুক্ত ৭ কলেজের অসংখ্যা শিক্ষার্থী এখন এমন সমস্যা নিয়ে রেজিস্ট্রার অফিসে যোগাযোগ করছেন।

এ বিষয়ে শাহিনুর রহমান বিডি২৪লাইফকে বলেন, ‘আমি তিন বিষয়ে পরীক্ষা দিয়েছি। কিন্তু দুই বিষয়ে ফলাফল দিলেও ১ বিষয়ের পাইনি। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করলেও আমার আবেদন যথাযথভাবে আমলে নেয়নি। গত একমাস যাবত আমাকে ঘুরাচ্ছে। আজ দিচ্ছি তো কাল দিচ্ছি বলে সময় ক্ষেপণ করছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি ওই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি এবং এর কাগজও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিসের সংশ্লিষ্ট দফতরে দেখিয়েছি। কিন্তু এরপরও আমার রেজাল্ট প্রকাশ নিয়ে সময় নষ্ট করছে।’

অথচ গত বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি শিক্ষার মান উন্নয়ন ও সেশনজট নিরসনের লক্ষ্যে রাজধানীর সরকারি ৭ কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভুক্ত করে সরকার। মান উন্নয়ন বা সেশনজট নিরসন তো দূরের কথা অধিভুক্ত সরকারি ৭ কলেজের শিক্ষা কার্যক্রমে এখন হ-য-ব-র-ল। অধিভুক্ত হওয়ার পর থেকেই যথা সময়ে ক্লাস পরীক্ষা কোনটাই হচ্ছে না। পরীক্ষা হলেও ফলাফল প্রকাশে লাগছে দীর্ঘ সময়। দীর্ঘ সময় নিয়ে প্রকাশ করা ফলাফলও ভুলে ভরা। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ৭ কলেজের শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হওয়ার পর সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা চরম বৈষম্যের শিকার। যথাসময়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। পরীক্ষার নিয়মকানুনেও বৈষম্য। যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুসরণ না করে মাস্টার্সের রেজাল্ট প্রকাশ করা হয়েছে। এক বিষয়ে ফেল করার পরও যদি মোট সিজিপিএ ২.৫ বা তার বেশি পায়, তা হলে পাস হিসেবে গণ্য করা হয় ঢাবির শিক্ষার্থীদের। কিন্তু অধিভুক্ত সাত কলেজের ছাত্রছাত্রীদের ক্ষেত্রে এটা প্রয়োগ করা হচ্ছে না।

জানা গেছে, গত ২৩ জুন দীর্ঘ ৭ মাস পর প্রকাশিত অনার্স ৩য় বর্ষের ফলাফল ছিলো ভুলে ভরা। পরীক্ষা দেয়নি এমন বিষয়েও ফেল দেখানো হয়েছে। আবার পরীক্ষা দিয়ে রেজাল্ট পায়নি অনেকে। তাছাড়া ৭ মাস পর সকল বিভাগের ফলাফল প্রকাশ করতে পারেনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

ঢাকা কলেজের মো. রাসেল হোসাইন নামে এক শিক্ষার্থীর বেলায় ঘটেছে এমন ঘটনা। তিনি বলেন, ‘৩য় বর্ষ পরীক্ষায় মান উন্নয়ন পরীক্ষা দিয়েছিলাম এক বিষয়ে। কিন্তু ফলাফলে দেখি দুটি বিষয়ে দেখানো হয়েছে। যেখানে একটি পাশ ও আরেকটিকে ফেল দেখানো হয়েছে। অথচ যে বিষয়ে ফেল দেখানো হয়েছে সে বিষয়ে আমি পরীক্ষাই দেইনি। বিষয়টি আগেই বি প্লাসের উপরে নাম্বার থাকায় মান উন্নয়ন পরীক্ষা দেয়া যায়নি। ফলাফলে এ বিষয়ে ফেল দেখালে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ৭ কলেজের প্রতি উদাসীন। ‘কাজ করলেই নয়’ বলে কাজ করছে। আমাদের কাছ থেকে বেশি বেশি টাকা নিয়ে এমন আচরণ দুঃখজনক বলে মনে করেন এই শিক্ষার্থী।’

কাইয়ুমুজ্জামান সাগর নামের সরকারি তিতুমীর কলেজের এক শিক্ষার্থী জানান, ফলাফল যা পেয়েছি তার বেশির ভাগই ভুলে ভরা। মান উন্নয়নের কথা বলে অধিভুক্ত করা হলেও ঢাবি এখন উল্টো পথে হাটছেন। তাছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এই কলেজগুলোকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না। দীর্ঘ সময় নিয়ে ফলাফল প্রকাশ করলেও তাতে রয়েছে অসংখ্য ভুল। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে অধিভুক্ত করা হয়। কিন্তু শিক্ষার মান উন্নয়ন না হয়ে উল্টো অবনতি হয়েছে। আমরা ঢাবির নানা বৈষম্য আর অবহেলায় পড়ে আছি বলে তিনি জানান।

এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিসের ৭ কলেজের ফলাফলের চলতি দায়িত্বে থাকা মিজানুর রহমান বিডি২৪লাইভকে বলেন, ‘এ সমস্যা সমাধানে একটু সময় লাগবে। তবে সমস্যা সমাধান হবে। এতোদিনেই সমস্যা সমাধান হয়ে যেত, আমাদের টেবুলেটর এখন ছুটিতে আছে তাই দেরি হচ্ছে। তবে এ নিয়ে দুশ্চিন্তা করার কোন কারণ নেই। সিগগিরই এ সমস্যা সমাধান হবে।’

বিডি২৪লাইভ/ওয়াইএ

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: