প্রচ্ছদ / জাতীয় / বিস্তারিত

কওমি সনদের স্বীকৃতির বিল সংসদে

‘শেখ হাসিনা ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবেন’

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০৮:৩৮:০০

ফাইল ফটো

কওমি মাদ্রাসা সনদের স্বীকৃতির বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপন করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড গওহরডাঙ্গার চেয়ারম্যান ও গোপালগঞ্জের গওহরডাঙ্গা মাদ্রাসার মহাপরিচালক আল্লামা মুফতি রুহুল আমীন।

পাশাপাশি তিনি শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, জাতীয় সংসদের সদস্যবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে জাতীয় সংসদে বহুল আলোচিত বিলটি উত্থাপনের পর এক বিবৃতিতে আল্লামা রুহুল আমীন বলেন, ‘কওমি মাদ্রাসা সনদের স্বীকৃতির বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হয়েছে। আশা করি এটি পাস করার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবেন।’

বিবৃতিতে মুফতি রুহুল আমীন বলেন, ‘আল হাইয়াতুল উলিয়া লিল জামিয়াতিল কাওমিয়া বাংলাদেশের অধীন কওমি মাদ্রাসাসমূহের দাওরায়ে হাদিস তাকমিলের সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবির সমমান প্রদান) বিল ২০১৮’- সংসদে উত্থাপিত হওয়ায় সনদের স্বীকৃতির জন্য আর কোনো বাধা রইলো না। আশা করি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি বিলটি যাচাই-বাছাই করে নির্ধারিত সময়ে সংসদে প্রতিবেদন প্রদান করবে এবং সকল সদস্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই বিলের পক্ষে ভোট দিয়ে বিলটি পাস করবেন।’

এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ সনদ দাওরায়ে হাদিসকে ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবিতে মাস্টার্সের সমমান দেয়ার বিল সংসদে উত্থাপিত হয়। সাত দিনের মধ্যেই এই বিলটি পরীক্ষা নিরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেবে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। এরপর বিলটি পাসের উদ্যোগ নেয়া হবে।

গত ১৩ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই আইনটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। আর সেদিনই বর্তমান সংসদের শেষ অধিবেশনে বিলটি তোলার কথা জানানো হয়। এর আগে ২০১৭ সালের এপ্রিলেই এটি স্বীকৃতি দেয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কওমি সনদের স্বীকৃতির বিষয়টি এই মাদ্রাসার ছাত্র শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি। আর এই দাবি পূরণের আশ্বাস দেয়ার পর ১৯৯৯ সালে বিএনপি-জামায়াত ও জাতীয় পার্টির সঙ্গে জোট করে কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রীক রাজনৈতিক দল ইসলামী ঐক্যজোট।

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ধর্মভিত্তিক এই দলগুলোর আক্বিদাগত ব্যাপক পার্থক্য থাকলেও কেবল এই ইস্যুতে তারা ‘শত্রুর’ সঙ্গে হাত মেলাতে রাজি হয়। তবে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে এই স্বীকৃতির বাস্তবায়ন হয়নি।

তবে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর এ বিষয়ে উদ্যোগ নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে সময় কওমি আলেমদের গুরু আহমেদ শাহ শফিকে প্রধান করে একটি কমিটিও গঠন করা হয়। তবে সে সময় নিজেদের মধ্যে বিরোধের পাশাপাশি বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ শক্তির বিরোধিতায় সেটা আর আগায়নি।

২০১৭ সালের ১১ এপ্রিল কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ সনদকে ইসলামিক স্টাডিজে স্নাতকোত্তর ডিগ্রির স্বীকৃতির ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেদিন গণভবনে উপস্থিত ছিলেন আহমেদ শাহ শফিও যিনি হেফাজতে ইসলাম নামে একটি সংগঠনের আমির।

এর দুই দিন পর কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ সনদকে সাধারণ শিক্ষার স্নাতকোত্তর ডিগ্রির স্বীকৃতি দিয়ে আদেশ জারি করে সরকার।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের আলোকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) উচ্চপর্যায়ের আলেমদের সঙ্গে দফায় দফায় বসে এ সংক্রান্ত আইনের খসড়া চূড়ান্ত করে।

বিডি২৪লাইভ/ওয়াইএ

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: