জুলফিকার আলী ভূট্টো

নীলফামারী প্রতিনিধি

ঝুকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোয় চলছে পারাপার!

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৭:০৫:৩৪

ছবি: প্রতিনিধি

নীলফামারীর ডোমারে ১০ গ্রামের মানুষের পারাপারের একমাত্র ভরসা ঝুকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো। ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া চেকাডারা নদীর উপর বাবুর বান নামক স্থানে বাঁশের সাঁকোয় স্কুল পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রী ও গ্রাম বাসীদের ঝুঁকি নিয়ে চলছে নিয়মিত পারাপার।

নদীর উত্তরে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নয়ানী বাকডোকরা, বাবুপাড়া, ব্রম্মতল ও মাষ্টার পাড়া এবং দক্ষিণে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কোনাপাড়া, নন্দীটারী, গোয়ালপাড়া, ব্রাম্মণপাড়া, কদুপাড়া, মাষ্টার পাড়া, দীঘলটারী ও ভাটিয়া পাড়া।

১০ গ্রামসহ ওই বাঁশের সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন পার্শ্ববর্তী বামুনিয়া ও গোমনাতী ইউনিয়নের আমবাড়ী হাট, আজিজার মিয়ার হাট, নিমোজ খানার বাজারে যাতায়াত করে থাকে হাজার হাজার মানুষ। উত্তরের ওই গ্রাম ও হাট-বাজার এলাকার জনসাধারণের যুগের পর যুগ বাঁশের সাঁকোয় চলছে পারাপার। কোন কোন বছর পারাপারের একমাত্র সাঁকোটি বন্যার পানীতে ভেসে যায়।

সাকোঁটি নদীর পানীতে ভেসে গেলে ,ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুল যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়।

নিমোজখানা স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী মহাদেব,কাজল চন্দ্র,তুলসি রানী জানায়, বর্ষায় বাঁশের সাঁেকাটি ভেঙ্গে গেলে প্রায় ৫কিলোমিটার ঘুড়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়।জীবনের ঝুকি নিয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়া আসা করি।

সাঁকোটির দক্ষিণ তীরে অবস্থিত শিবগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সুমি আকতার, মাধবী রানী, মোনা সরকার জানায়, আমরা স্কুল শুরু ও ছুটির সময়ে ছাত্র-ছাত্রীদের পারাপারের সময় দুঃচিন্তায় থাকি, কখন অনাকাংখিত ঘটনা ঘটে যায়। ভাঙ্গাচুড়া বাঁশের সাঁকোটি নরবরে হওয়ায় নদীর ওপারের বেশীর ভাগ শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দিয়েছে।

এলাকাবাসী, গোপাল চন্দ্র রায়, বিকাশ চন্দ্র রায়, হরিহর চন্দ্র রায়,পরিমল চন্দ্র রায়, বিষ্ণু চক্রবর্তী জানান, ইউপি চেয়ারম্যানের সহায়তায় আমরা গ্রামবাসী প্রতি বছর সাঁকোটি মেরামত করে থাকি। বর্ষা গ্রীষ্ম সব ঋতুতেই নদী পারাপার হতে হয়, কখনো কখনো বাঁশের সেতুটি ভেঙ্গে যায় তখন নদীতে জলে ভিজে পারাপার হতে হয়। তাতেও দুঃখ নেই কিন্তু দুঃখ তখন হয় তখন যখন কোন মুমূর্ষু রোগীর জন্য অ্যাম্বুলেন্স বা গাড়ীর প্রয়োজন হয়। নদীতে ব্রিজ না থাকার কারনে গ্রামে অ্যাম্বুলেন্স বা মোটরগাড়ী ঢুকতে পারে না। অনেকদিন ধরে আমরা এই নদীর উপর ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানালেও অদ্যাবধি ব্রিজ নির্মাণ হয়নি। ব্রিজ নির্মাণ বর্তমানে এ এলাকার প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে।

এ ব্যাপারে, বোড়াগাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ জানান, এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে ডোমার-ডিমলার সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দিন সরকারের সাথে কথা হয়েছে। তিনি চেকাডারা নদীর ওপর দ্রুত ব্রিজ নির্মাণ করার ব্যবস্থা করবেন।

ডোমার এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলৗ আব্দুর রউফ জানান, আমরা চেকাডারা নদীর ঘাটে একটি প্রাথমিক জরিপ করে স্থানীয় এমপির সুপারিশসহ কাগজ পত্র ঊধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি।

বিডি২৪লাইভ/এমকে

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: