শামসুজ্জোহা বাবু

রাজশাহী প্রতিনিধি

কোটি টাকার ট্রাফিক সিগন্যাল বাতির বেহাল দশা

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৩:৩৮:০০

ছবি : প্রতিনিধি

রাজশাহী শহরের যানজট নিয়ন্ত্রনণের জন্য স্থাপন করা স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগনাল বাতি কোন কাজেই আসেনি। প্রায় দেড় কোটি টাকা খরচ করে বসানো এসব সিগনাল বাতি বছরের পর বছর পড়ে থেকেই নষ্ট হয়েছে।

ফলে নগরীর যানজট নিয়ন্ত্রণে এখনো হাতের ইশারার ওপরই ভরসা করতে হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশকে। এতে ট্রাফিক সদস্যদের যেমন বাড়তি ঘাম ঝরাতে হচ্ছে, সেইসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে প্রায়ই তৈরি হচ্ছে বিশৃঙ্খলা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেসময় রাজশাহী শহরে এসব বাতি লাগানো হয়েছিলো তখন এর খুব একটা চাহিদা ছিল না। তবে, দিনকে দিন রাজশাহী শহরের রাস্তায় যানবাহনের যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে তাতে সয়ংক্রিয় সিগনাল বাতি বসানো এখন খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে।

যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ও গতি আনার লক্ষ্যে ১৯৯৪ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত নগরীর গুরুত্বপূর্ণ ২১টি পয়েন্টে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি বসায় সিটি কর্পোরেশন। কিন্তু, এগুলো স্থাপনের পর কখনো ব্যবহারই করা হয়নি। নেই বিদ্যুৎ সংযোগও। কোনটি ভেঙে গেছে, কোনটিতে বাসা বেঁধেছে পাখি আবার কোনটির অস্তিত্বই নেই। ব্যবহার না হওয়ায় এসব যন্ত্রপাতি খুলে নিয়ে যায় সিটি কর্পোরেশন। ফলে যানবাহন কিংবা পথচারী চলাচলে শৃঙ্খলা আনতে কোন কাজে আসেনি।

এদিকে পুলিশ বলছে, সিগন্যাল বাতিগুলো মেরামতে পুলিশের পক্ষ থেকে বার বার চিঠি দেয়া হলেও তাতে সাড়া দেয়নি সিটি কর্পোরেশন। রাজশাহী মহানগর পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতেখায়ের আলম বলেন, এখন বিষয়টি নিয়ে তারা নতুন করে ভাবছেন।

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক বলেন, স্বয়ংক্রিয় সিগনাল বাতিগুলো সচল করতে এরই মধ্যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার (১১ সেপ্টেম্বর) নতুন মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের সাথে বিষয়টি নিয় আলোচনা হয়েছে। মেয়র সাহেব দ্রুত এগুলো মেরামতের নির্দেশনা দিয়েছেন। খুব শীঘ্রই এ নিয়ে কাজ শুরু হবে জানিয়ে প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা আনতে আরও কিছু উদ্যোগ নিয়েও কাজ শুরু হবে। নগরীতে চলাচলকারী অটোরিক্সা নিয়ন্ত্রণেরও উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

বিডি২৪লাইভ/টিএএফ

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: