মন্দিরে ছাত্রলীগ নেতার জন্মদিন পালন

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৪:১৬:০০

ছবি : প্রতিনিধি

হারুন-অর-রশীদ,ফরিদপুর থেকে: বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর জন্মদিন উদযাপিত হলো ফরিদপুর জেলা সদরের মাচ্চর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চল পরানপুরের এক শিব মন্দিরে। মঙ্গলবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ওই জন্মদিন পালন করা হয়। আশ্চর্যজনক হলেও এমন ঘটনা এই প্রথম ঘটল।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই মন্দিরের নাম পরানপুর সার্বজনীন শিব মন্দির। প্রায় দুইশো বছরের এই পুরনো মন্দির টি মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং বিএনপি আমলে প্রচুর ক্ষতির সম্মুখীন হয়। অতি সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সহ-সভাপতি শেখ স্বাধীন মো: শাহেদ মন্দির টি সম্পূর্ণ নতুন ভাবে গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তার এই কাজকে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী অবগত হয়েই অনুমতি প্রদান করেন। কাজটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে আছেন ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক তানজিল ভূঁইয়া তানভীর।

কেন মন্দিরে একজন ছাত্রনেতার জন্মদিন পালন করা হলো- এমন প্রশ্নের জবাবে মন্দিরের সভাপতি কৃষক নীলকমল প্রামাণিক বলেন, ‘দুইশো বছরের পুরনো মন্দির এতোদিন এত জীর্ণ দশা কারো চোখে পড়ল না! এখন আমার যে ছাত্র ভাইয়েরা নিজ ইচ্ছায় এটাকে উপাসনার উপযোগী করছে, তাদের জন্য এই মন্দিরে প্রার্থনা করব না তো কোথায় করব? ওরা লাখ টাকা দিয়ে আমাদের মন্দির টা করে দিচ্ছে, তাদের জন্য আমরা ১ হাজার টাকা সব হিন্দুরা দিতে পারব না?’

মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক কাঠমিস্ত্রি রণজিৎ রায় বলেন, তিনি তার ছেলের কাছ থেকে গোলাম রাব্বানীর জন্মদিন সম্পর্কে জানতে পারেন আজ সকালে। তার ছেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক থেকে বিষয়টি জানতে পারে।

রণজিৎ রায় বলেন, ‘আমরা রাব্বানী ভাইকে চিনি না। আমরা শাহেদ ভাইকে চিনি। সকালে যখন আমার ছেলের কাছ থেকে জানতে পারলাম শাহেদ ভাইয়ের যে বড় ভাই আজ তার জন্মদিন। শাহেদ ভাই যদি এমন মহৎ প্রাণের হন তাহলে তার বড় ভাই অবশ্যই তার চেয়েও বেশি মহান। আমরা এমন একজন মহৎ ব্যক্তির জন্মদিন পালন করতে পেরে আনন্দিত।

স্থানীয় হিন্দু সমাজের সমাজপতি সাধু অনিল বিশ্বাস বলেন, ‘দুপুরে আমাকে রণজিৎ বিষয়টি জানায়। জেনেই আমি সমাজের সব হিন্দুকে মন্দির স্থলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। আমি ছেলেটিকে আশীর্বাদ করছি।’

৯০-ঊর্ধ্ব বৃদ্ধ বিমল বিশ্বাস বলেন, ‘যতন-রতন-মকন্ত-নীল কমল এই চার পুরুষের এই মন্দির। কত চড়াই উতরাই গেছে। এতো কাল পর যাদের কৃপায় মন্দিরটি হচ্ছে তাদের বড় ভাইয়ের প্রতি স্নেহ থেকেই আমরা আজ কেক কাটলাম আর প্রার্থনা করলাম। ভগবান ওদের ভাল করবেন।’

এ প্রসঙ্গে মন্দিরের প্রধান উদ্যোক্তা শেখ স্বাধীন মো: শাহেদ বলেন, ‘আমি সন্ধ্যার পর বিষয়টি জেনে পুলকিত হয়েছি। একেবারে সীমান্তবর্তী খেটে খাওয়া মানুষের মনেও যে ছাত্রলীগের জন্য ভালবাসা তৈরি হয়েছে, আজকের অনুষ্ঠান তারই প্রমাণ। আমি গর্বিত যে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদককে আমি প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত পরিচিত করতে পেরেছি। বিশেষ করে বয়োজ্যেষ্ঠ যারা একসময় ছাত্রলীগের নাম শুনলেই হয় ভয় পেত, না হয় ঘৃণা করত। আমাদের পজিটিভ কাজের কারণে ছাত্রলীগ আজ আশীর্বাদ পাচ্ছে।’

অনুষ্ঠানে স্থানীয় পরানপুর, সুলতানপুর, কেষ্টনগর, খালিশাসহ আশেপাশের প্রায় ৮ গ্রামের দুই শতাধিক হিন্দু উপস্থিত ছিলেন। কেক কাটার পর সবাই গোলাম রাব্বানীর দীর্ঘায়ু এবং সফলতা কামনা করে প্রায় একঘণ্টা ব্যাপী প্রার্থনা করেন। প্রার্থনায় নারী-পুরুষ নির্বিশেষ সকলেই অংশগ্রহণ করে। প্রার্থনা শেষে আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন পার্শ্ববর্তী রাজবাড়ী জেলার শ্রী মধুসূদন দূর্গাপূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি নরেন বিশ্বাস, রফিউদ্দিন প্রি ক্যাডেট একাডেমির অধ্যক্ষ শ্রী সুব্রত বৈদ্য, পার্শ্ববর্তী কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন কালীমন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাবু অনন্ত মন্ডল, পরানপুর বাহাউদ্দিন বুনিয়াদি বিদ্যালয়ের সভাপতি আকিদুল ইসলাম সহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বিডি২৪লাইভ/টিএএফ

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: