সুমিত সরকার সুমন

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি

‘গণ সদন’ নাট্যমঞ্চ এখন ময়লা ফেলার ডাস্টবিন 

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৫:১৯:৫৯

ছবি: প্রতিনিধি

নাটক জীবনের কথা বলে। নাটক সমাজের দর্পণ। সমাজ ও জীবনের নানা অবয়ব উঠে আসে নাটকের মঞ্চে। আর মঞ্চই হলো নাটকের মৌলিক চারণ ভূমি। প্রতিটি নাটকের ক্ষেত্রে মঞ্চের ভূমিকা অনস্বীকার্য। বতর্মান বিশ্বের যে কোনো দেশে সফল অভিনেতার সিংহ ভাগই এসেছেন মঞ্চ থেকে। তাই নাটক বাঁচাতে হলে মঞ্চ বাঁচিয়ে রাখতে হবে। আর মঞ্চ বাঁচলেই নতুন নতুন শিল্পী তৈরি হবে। কিন্তু অযত্ন-অবহেলায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হতে চলেছে মুন্সিগঞ্জের অর্ধশত বছরের ঐতিহ্যবাহী নাট্যমঞ্চ ‘গণসদন।’

জাতীয়-স্থানীয় ও বিদেশি নাট্যশিল্পী-কলাকুশলীদের পদচারণায় একসময় মুখরিত থাকত এই মঞ্চ ও আশপাশের পরিবেশ। নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সময় এই নাট্যমঞ্চের আঙিনা থেকেই স্বৈরাচারী সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করেন মুন্সিগঞ্জের সাংস্কৃতিক কর্মীসহ সর্বস্থরের মানুষ।

সূত্র থেকে জানা যায়, মুন্সীগঞ্জ জেলা শহরের মালপাড়া এলাকায় অবস্থিত তখনকার মহকুমা প্রশাসনের টিনশেড অডিটোরিয়ামটি মুন্সীগঞ্জ শহর উন্নয়ন কমিটি ১৯৭৮-৭৯ সালে পূনঃনির্মাণ করে ‘গণসদন’ নাম দেয়।

১৯৭৯ সালের ৭ জুলাই সেই সময়ের সরকারের উপ-প্রধানমন্ত্রী অধ্যাপক এ. কিউ. এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ‘গণসদন’ নাট্যমঞ্চটি উদ্বোধন এবং এর নাম ফলক উন্মোচন করেন। দীর্ঘদিন পর ১৯৯৭-৯৮ সালে আবার সংস্কার করা হয় হলটিকে। এবং মূল ভবনের দুইপাশ দিয়ে বারান্দা তৈরি করা হয়। নির্মাণ করা শৌচাগার ও মেকআপ রুম। জেলা শহরে একমাত্র নাট্যমঞ্চ হিসেবে 'গন সদন' হলটি ব্যবহৃত হয়েছে ২০০৬-০৭ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত। ওই সময়ের এক রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে হলটির বেশিরভাগ অংশ পুরে যায়, নষ্ট হয়ে যায় ব্যবহারের সবকিছু।

কালের বিবর্তনে ‘গণ সদন’ নাট্যমঞ্চটি এখন একেবারে ভূতুড়ে অবস্থায় পরিণত হয়েছে। এক সময়ের জাকজমক পূর্ণ ‘গন সদন’ নাট্যমঞ্চটি এখন ময়লার ফেলার ডাষ্টবিনে পরিণত হয়েছে। ভেতরের মেঝেতে পানি জমে পরিণত হয়েছে ছোটখাটো পুকুর। বন্য গাছগাছালিতে পরিণত হয়েছে জঙ্গলে।

বর্তমানে ‘গণ সদন’ হলটির চিত্র দেখলে কারোরই বোঝার উপায় নেই অতিতে এখানে কখনো নাটক হয়েছে, মাসব্যাপী নাট্য উৎসবের আয়োজন করা হতো। তবে আগুনে পুরে যাওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষদের সাথে সংস্কারের বিষয়ে আলাপ আলোচনা করে শুধু আশ্বাস আর মিষ্টি মিষ্টি বুলি ছাড়া কিছুই পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ প্রশাসন এ ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তা জানান, ‘গণ সদন’ হলটি জেলার ঐতিহ্যে-ইতিহাসের সাথে সম্পৃক্ত। তাই এই হলটিকে আধুনিক ভাবে নির্মাণের লক্ষ্যে 'একনেক' এর কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে শিল্পকলা একাডেমি ডিজি ও স্থানীয় এমপি ও (মুন্সীগঞ্জ-৩) তদবির করছে। ১০০ শতাংশের উপর নির্মিত হবে ‘গণ সদন’ ভবনটি। নাট্য সংগঠন গুলো অবাদে নাট্যচর্চার জন্য একটি করে কক্ষ বরাদ্দ থাকবে। মোটামুটি একটি পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে কবে নাগাদ কাজ শুরু হবে তা বলা সম্ভব না। কিন্তু আমাদের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

বিডি২৪লাইভ/এমকে

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: