নাইমুর রহমান

নাটোর প্রতিনিধি

চিকিৎসা বিলের জন্য গৃহবধূকে আটকে রাখার অভিযোগ!

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৫:৪৪:২১

ছবি: প্রতীকী

নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় চিকিৎসা বিলের ৩৪ হাজার টাকার জন্য বৃষ্টি খাতুন (২৭) নামের এক গৃহবধূকে তিনদিন ধরে স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসক আটকে রেখেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ মঙ্গলবার রাতে ওই পল্লী চিকিৎসকের বাড়ি থেকে উদ্ধার করে গৃহবধূকে। অভিযুক্ত পল্লী চিকিৎসকের নাম মাসুদ রানা (৩৬)। সে নলডাঙ্গা পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র সাহেব আলীর ভাতিজা।

জানা যায়, গত রোববার উপজেলার বিপ্রবেলঘড়িয়া ইউনিয়নের বানুরভাগ গ্রামের হামিদুল ইসলামের স্ত্রী বৃষ্টি খাতুন পারিবারিক কলহের জেরে বিষপান করে আত্নহত্যার চেষ্টা করে। এ সময় দ্রুত চিকিৎসার জন্য তাকে পৌর এলাকার বিলপাড়া গ্রামের পল্লী চিকিৎসক মাসুদ রানার কাছে নিয়ে যান শ্বাশুড়ি হামিদা বেগম। স্বামী হামিদুল তখন চট্টগ্রামে ছিলেন।

হামিদা বেগমের অভিযোগ, চিকিৎসা শেষে বৃষ্টিকে বাড়িতে নেয়ার কথা জানালে অভিযুক্ত মাসুদ রানা ওষুধ ও চিকিৎসা বাবদ ৩৪ হাজার টাকা দাবি করেন। এ টাকা পরিশোধ না করলে বৃষ্টিকে ছাড়া হবে না- জানান মাসুদ। টাকা দিতে না পারায় সে আটকে রাখে বৃষ্টিকে।

এ বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে মঙ্গলবার রাতে পুলিশ বিলপাড়ায় মাসুদের বাড়ি থেকে অসুস্থ বৃষ্টিকে উদ্ধার করে বাড়ি পৌছে দেয়। তবে তারা অভিযুক্ত চিকিৎসককে আটক করেনি।

এদিকে ভাতিজা মাসুদ রানাকে বাঁচাতে তৎপরতা শুরু করেন পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র সাহেব আলী। মঙ্গলবার গভীর রাত পর্যন্ত তিনি নলডাঙ্গা থানায় উপস্থিত থেকে ভুক্তভোগী ও চিকিৎসককে নিয়ে তিনি পুরো ঘটনাটি ১০ হাজার টাকায় মীমাংসা করান।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত চিকিৎসক মাসুদ রানা বলেন, ' আমি চারদিন ধরে চিকিৎসা করেছি বৃষ্টির। সে খুবই বিষাক্ত একটি ট্যাবলেট খায়। তার শরীরকে বিষমুক্ত করতে দামী ঔষধ ব্যবহার করা হয়। তার পারিশ্রমিকসহ চার দিনে চিকিৎসা বাবদ হয়েছে ৩৩ হাজার তিনশত তেতাল্লিশ টাকা। তাকে আমি আটকে রাখিনি।'

মাসুদ পাল্টা অভিযোগ করেন, 'রোগীর পরিবারের লোকজন টাকা পরিশোধের কথা বলে থানায় গিয়ে অভিযোগ করেছে আমার বিরুদ্ধে। গতরাতে থানায় মিমাংসার পর আমি পেয়েছি ৮ হাজার টাকা। আমি চিকিৎসক হিসেবে আর্থিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।'

এ ব্যাপারে নলডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্তত) উজ্জল হোসেন বলেন, 'দুই পক্ষকেই থানায় এনে সমঝোতা করে দেয়া হয়েছে।' তবে কেন রোগীকে আটকে রাখার জন্য চিকিৎসক মাসুদ রানাকে আটক করা হয়নি- জানতে চাইলে তিনি কোন উত্তর দেননি।

বিডি২৪লাইভ/এমকে

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: