রফিকুল ইসলাম

বান্দরবন প্রতিনিধি

শূন্যরেখায় রেডক্রস 

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০৫:২০:০০

ছবি: প্রতিনিধি

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্তের জিরো লাইনে অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ফিরিয়ে নেয়ার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করেছে আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি।

বুধবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় রাখাইন রাজ্যের ঢেকুবনিয়া সীমান্তে রেড ক্রসের ৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল তুমব্রু সীমান্তের জিরো লাইনের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন।

প্রতিনিধি দলটি শিবিরে অবস্থানকারী রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও তাদের প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলেন। জিরো লাইনের রোহিঙ্গাদের রাখাইন রাজ্যের মংডু জেলার তংপ্লাইও এলাকার আশ্রয় শিবিরে নিয়ে যাওয়ার কথা জানায় প্রতিনিধি দলটি। এ সময় সেখানে রোহিঙ্গাদের খাদ্য, চিকিৎসা ও শিক্ষা সহায়তা দেয়ার কথাও জানায় প্রতিনিধি দলটি।

জিরো লাইনের রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের অংশে অবস্থান করায় এখন থেকে মিয়ানমারের রেডক্রসের পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা দেয়ার বিষয়টি জানানো হয় রোহিঙ্গাদের।

জিরো লাইনের রোহিঙ্গা আবদুল আলিম ও মাঝি দিল মুহাম্মদ জানান, প্রতিনিধি দলটিকে তারা জানায় যে, তারা সহায়তা চান না। তারা তাদের অধিকার ফিরে পেতে চান।

দ্রত রাখাইনে তাদের নিজ গ্রামে ফিরিয়ে নিতে রেডক্রসের মাধ্যমে মিয়ানমার সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন জিরো লাইনের রোহিঙ্গারা। রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলার পর রেড ক্রসের প্রতিনিধি দলটি মিয়ানমারে ফিরে যায়।

এদিকে, রেডক্রসের প্রতিনিধি দলটির জিরো লাইন এলাকা পরিদর্শনের সময় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। উভয় সীমান্তে বিজিবি ও বিজিপির সদস্যরা টহল জোরদার করে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইনে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনী ব্যাপক সহিংসতা শুরু করে। এরপর সেখান থেকে জীবন বাঁচাতে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পাড়ি জমায়। এ সময় প্রায় ৫ হাজার রোহিঙ্গা অবস্থান নেয় বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু সীমান্তের নো-ম্যান্স ল্যান্ডে। ওই শিবিরে রোহিঙ্গাদের খাদ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসা সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চুক্তির আওতায় এসব রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটির সরকার।

বিডি২৪লাইভ/এমকে

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: