সোহাগ হোসেন

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

গণপিটুনিতে নিহত জলিলের লাশ নিল না পরিবার

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৯:৪২:৩৯

ছবি: সংগৃহীত

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কেএম মোশাররফ হোসেন হত্যা মামলার প্রধান আসামি গণপিটুনিতে নিহত ইউপি সদস্য জলিল গাইনের লাশ নেয়নি তার পরিবার। এমনকি কৃষ্ণনগর এলাকায় লাশ প্রবেশ করতে দেয়নি কৃষ্ণনগর এলাকার জনসাধারণ। রোববার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে কালিগজ্ঞ সরকারি কবরস্থানে নিহত জলিল গাইনের লাশ দাফন হবে বলে জানা যায়।

জলিল গাইনের এক নিকট আত্নীয়ের মাধ্যমে জানা যায়, তারা জলিল গাইনের লাশ নিবে না।

উল্লেখ্য, সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা জাতীয় পার্টির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কেএম মোশাররফ হোসেন হত্যা মামলার প্রধান আসামি ইউপি সদস্য জলিল গাইন গণপিটুনিতে নিহত হয়েছে। শনিবার রাত সোয়া নয়টায় কৃষ্ণনগর বাজারে ইউনিয়ন যুবলীগ অফিসের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত জলিল গাইন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের শংকরপুর গ্রামের হাবিবুল্যাহ গাইনের ছেলে।

কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান হাফিজুর রহমান জানান, চেয়ারম্যান মোশাররফ হত্যাকাণ্ডের পর জলিল গাইন আত্মগোপন করে। সর্বশেষ তিনি গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার রাখালিয়াচালায় অবস্থান করছিলেন। পত্রিকায় জলিল গাইনের ছবি দেখে জনতার সন্দেহ হলে তারা তাকে আটক করে পুলিশকে জানায়। এর ভিত্তিতে মৌচাক ফাঁড়ির পুলিশ শুক্রবার দুপুরে রাখালিয়াচালায় সরকার মার্কেট থেকে জলিল গাইনকে গ্রেফতার করে। পরে তাকে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

তিনি আরও জানান, তাকে কালিগঞ্জ থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে অস্ত্র উদ্ধারের জন্য কৃষ্ণনগর বাজারে ইউনিয়ন যুবলীগ অফিসের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ ভ্যান থেকে তাকে নামানোর সাথে সাথে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী জলিলকে ছিনিয়ে নেয়। পরে জনতা গণপিটুনি দিয়ে তাকে হত্যা করে।

এর আগে, শুক্রবার দুপুরে গাজীপুর কালিয়াকৈর এলাকা থেকে মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা তাকে আটক করে।

এর আগে, গত শনিবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত ১১ টার সময় স্থানীয় কৃষ্ণনগর বাজারে ইউনিয়ন যুবলীগ অফিসে ঢুকে কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কেএম মোশারফ হোসেনকে (৪৮) গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বত্তরা। এ সময় মুখোশ পরে এসে দুর্বত্তরা গুলি করে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে।

ইউপি চেয়ারম্যান কেএম মোশারফ হোসেন ইউনিয়নের বেলেডাঙ্গা গ্রামের মৃত. সইলুদ্দীনের ছেলে ও কালিগজ্ঞ উপজেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা জাতীয় পার্টির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক।

ঘটনার পরদিন অর্থাৎ গত রবিবার রাতে চেয়ারম্যানের মেয়ে সাদিয়া ইসলাম বাদী হয়ে কালিগজ্ঞ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

বিডি২৪লাইভ/এমকে

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: