আহমেদ ফেরদৌস খান

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

‘বিনা বেতনে রোগীর সেবায় তারা’

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৬:০৭:৫৭

ছবিঃ সংগৃহীত

আলতাফ মিয়া (ছদ্দনাম)। কাজ করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হসপাতালের বার্ন ইউনিটে। সারা দেশ থেকে যারা আগুনে দগ্ধ বা পোড়া নিয়ে ঢামেকে চিকিৎসা নিতে আসেন তাদের দু:সহ যন্ত্রণা কমাতে সেবা দিয়ে যাচ্ছে দীর্ঘ ১৪ বছর যাবত। সরকারি বা বেসরকারি কোন খাত থেকে বেতন পাচ্ছেন না। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর থেকেই রোগির ভালো মন্দতে থাকেন পাশে। যতটুকু পারেন সেবা দিয়ে যান। বিনিময়ে তাদের কাছ থেকে যতটুকু হাদিয়া পান তা দিয়েই চলছে সংসার।

সাংবাদিক পরিচয় শুনেই নিজেদের অধিকার ফিরে পাবার আর্জি জানালেন। বললেন, দীর্ঘদিন যাবত রোগিদের সেবা করে যাচ্ছি, কিন্তু বেতন হচ্ছে না। অনেকেই অনেক আশা দিলেন, কিন্তু কাজের কাজ হলো না। বার্ন ইউনিটের কর্মচারীরা দীর্ঘ পনের বছর ধরে বেতন-ভাতা না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

জানা গেছে, বেতন-ভাতা না পাওয়া কর্মচারীর সংখ্যা ৬৮ জনের মতো। বিগত ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে কোন বেতন-ভাতা ছাড়াই রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তারা। আজও স্থায়ী করা হয়নি তাদের চাকরি। অনেকেই তাদের চাকরি স্থায়ীকরণ ও বেতন-ভাতার আশ্বাস দিলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। বর্তমানে সরকার তাদের চাকরি স্থায়ীকরণের সুযোগ দিচ্ছে। তবে একটি পক্ষ এ ৬৮ জনকে বয়সের দোহাই দিয়ে বাদ দিতে চাইছে বলে অভিযোগ করছেন ১৫ বছরের বিনা বেতনে কাজ করা কর্মচারীরা। এতে করে চরম হতাশায় পড়েছেন তারা।

সূত্র জানায়, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের কার্যক্রম শুরু করা হয় গত ১৯৮৭ সালে। এটি ২০০৩ সালে ১০ জন চিকিৎসক নিয়ে ৫০ শয্যার পূর্ণাঙ্গ ইউনিট যাত্রা শুরু। ২০০৯ সালে বর্তমান সরকার তা ১০০ শয্যায় উন্নীত করে। এরপর দিন দিন এই ইউনিটের কার্যক্রম বৃদ্ধি পায়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি আদেশে গত ২০১৩ সালে বার্ন ইউনিটকে ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব প্লাস্টিক সার্জারি নামে রূপান্তর করে। বার্ন ইউনিটের কার্যক্রমের এরপর থেকে প্রতিদিনই বাড়ছে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের প্রতিটি কাজই সরকারি কর্মচারিদের মতো। সরকারি কর্মচারীদের যেভাবে আদেশ দেয় আমাদেরও সেভাবে দেয়। সেই আদেশে মেনে আমরা শিফট ভাগ করে কাজ করি। অথচ এ কাজের জন্য আমাদের সরকার কোন পারিশ্রমিক দেয় না। বাধ্য হয়ে রোগীদের কাছ থেকে চেয়ে-বকশিস নিয়ে কোনোভাবে সংসার চালাতে হচ্ছে। এতে করে অনেক সময় রোগীরাও বিরক্তি বোধ করলেও আমরা বাঁচার তাগিদেই এমন কারে থাকি। আমরা এমন করতে চাইনা। আমরা চাই, সরকার আমাদের বেতন-ভাতা ব্যবস্থা করুন। আমরা মন দিয়ে কাজ করে যাবো।

এ ব্যাপারে ন্যাশনাল বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিটিউটের সম্বয়কারী ডা. সামন্ত লাল সেন বিডি২৪লাইভকে বলেন, গত দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে তাদের জন্য আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি। কিন্তু এখনো কোনো ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। তবে আশা করছি খুবেই শিগরই একটা ব্যবস্থা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিডি২৪লাইভ/এএফ/এসএস

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: