শাহিনুর রহমান শাহিন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

ময়লা আবর্জনার ভাগাড়ে জাবি ক্যাম্পাস 

১৩ অক্টোবর, ২০১৮ ২২:৩২:৪৭

ছবি: প্রতিনিধি

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সবুজের সমারোহে আচ্ছাদিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। ক্যাম্পাসের চারদিকে তাকালে নজরে পড়ে এখানকার অপরুপ ছায়াবীথির বিচরণ। কিন্তুু সাম্প্রতিক সময়ে (২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ) প্রথম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে ক্যাম্পাসের যত্রতত্র ফেলা হয়েছে ময়লা আবর্জনা।

এমতাবস্থায় ময়লা আবর্জনা পরিস্কারের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয় নি কোনো উদ্যোগ। ফলে ক্যাম্পাসের চারদিকে সর্বত্র ময়লা আবর্জনা পঁচে গন্ধ ছড়াচ্ছে। যা বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট করার পাশাপাশি শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশও হুমকীর মুখে পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রতিষ্ঠানটিতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়ে শেষ হয় ১১ অক্টোম্বর। ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবক এবং বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে আগমন ঘটে। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী দোকানের সরব অবস্থান ছিল।

এই সময়ে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবক এবং বহিরাগতরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দোকানে খাবার গ্রহণ শেষে খাবারের উচ্ছিষ্ট অংশ, পানির বোতল, প্যাকেট জাত খাবারের মোড়ক যেখানে সেখানে ফেলে দেয়। যা আস্তে আস্তে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়। গত দুই দিন ধরে টানা বৃষ্টি বর্ষণের ফলে এসব ময়লা আবর্জনা পঁচে গন্ধ ছড়াচ্ছে যা শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবনে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকাসহ বিভিন্ন পয়েন্ট ও চত্বরে গড়ে উঠেছে ময়লা-আবর্জনার স্তুুপ। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, অমর একুশে ভাস্কর্য, কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ, কেন্দ্রীয় মসজিদের আশপাশ ও প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন রাস্তার দুই পাশে ছড়িয়ে আছে কাগজ, খাবারের উচ্ছিষ্ট অংশ, ডাবের খোলস, পলিথিন, চিপসের মোড়ক, কোমল পানির বোতলসহ নানা আবর্জনা। এছাড়াও বিভিন্ন ফুল ও গাছের বাগানসহ সবুজ অরন্যে জুড়ে আবর্জনার স্তুুপ দেখা গেছে।

ভর্তি পরীক্ষা শেষ হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত ময়লা আবর্জনা পরিস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয় নি প্রশাসন এমন অভিযোগ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের শিক্ষার্থী নূর মোহাম্মদ বলেন, ক্যাম্পাসে ময়লার কারণে পা ফেলতে পারছি না। যে দিকে তাকানো যায় শুধু ময়লা আবর্জনার আস্তরণ। এভাবে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। আমরা স্বাস্থ্য হুমকীতে পড়ে যাচ্ছি।

প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী মৃধা বেলাল বলেন, চারদিকে ময়লা আবর্জনার ভাগাড়। এগুলো ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট করছে। অতি দ্রুত ক্যাম্পাসে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ রক্ষায় ময়লা আবর্জনা পরিস্কারের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।

এদিকে পূজার ছুটিতে বন্ধ ক্যাম্পাসে দর্শানার্থীরা ঘুরতে আসায় এক রকম বিনোদন পার্কে পরিণত হয়েছে ক্যাম্পাস। বহিরাগতরা বিভিন্ন জায়গায় ভোজনের আয়োজন করছে। খাবার শেষে উচ্ছিষ্ট অংশ ক্যাম্পাসের যত্রতত্র ফেলে চলে যায়। ফলে তাদের ফেলে দেয়া আবর্জনায় প্রতিনিয়ত ময়লার স্তুুপ তৈরি হচ্ছে ক্যাম্পাসে। এছাড়াও ক্যাম্পাসের লেকগুলোতে ময়লা ফেলার কারণে লেকের পানিও দূষিত হচ্ছে।

একাধিক শিক্ষার্থী ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের সবুজে ঘেরা ক্যাম্পাস আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা এটা মানতে পারছে না। ক্যাম্পাস এখন পিকনিক স্পটে পরিণত হয়েছে। এ কারণেই ক্যাম্পাস বেশি নোংরা হচ্ছে। এভাবে চলতে দেওয়া যায় না।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ বলেন, ভর্তি পরীক্ষার পরপরেই এসব ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করার কথা ছিল। কিন্তুু এখনো কেন করা হয় নি তা জানতে এস্টেট অফিসে তলব করবো।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা মো. নুরুল আমিন বলেন, বৃষ্টির কারণে ময়লা-আর্বজনা পরিস্কার করা যাচ্ছে না। রবিবার থেকে পরিস্কার কাজ চলবে। তবে স্বল্প লোকবলে পুরো ক্যাম্পাস পরিষ্কার করতে একটু সময় লাগবে।

বিডি২৪লাইভ/এমকে

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: